Main Menu

Thursday, August 16th, 2018

 

বাংলায় মোগল-শাসনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

যদিও আকবরের রাজত্বকালে বাংলা মোগল-শাসনের অধীনে আসে তবু সাম্রাজ্যের এই প্রত্যন্ত প্রদেশটিতে মোগলদের শাসন যথেষ্ট নিশ্চিত ও নিরাপদ ছিল না। বাংলার ‘জমিদার’ ও ‘জায়গিরদার’রা তাঁদের ভূ-সম্পত্তিগুলিকে নিজেদের বাহুবলে স্বাধীন রাজ্যে পরিণত করতে সচেষ্ট ছিলেন সর্বদাই। বাংলার ‘জমিদার’দের বশ্যতাস্বীকার করাতে মোগলদের সময় লেগেছিল চার বছর — ১৬০৮ থেকে ১৬১২ খীস্টাব্দ পর্যন্ত। বাঙালি ‘জমিদার’দের দুই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি মুসা খাঁ ও ঈশা (উসমান খাঁ এখনও পর্যন্ত ভারতে বাংলার স্বাধীনতার দুই অগ্রণী যোদ্ধা বলে সম্মানিত। বঙ্গদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কারুশিল্প ছিল অত্যন্ত উন্নত স্তরের এবং সেখানে নদ-নদী-পরিবৃত অঞ্চল ও কিছু-কিছু পার্বত্য-অঞ্চল ছিলো যাতায়াতের পক্ষে অত্যন্তRead More


জাহাঙ্গীরের রাজত্বকাল ও রাজ্য বিস্তার

সপ্তদশ শতকের গোড়ার দিকে জাহাঙ্গীরের মোগল-সিংহাসনে আরোহণ আকবরের ঘোষিত ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি থেকে কিছু-পরিমাণে বিচ্যুতির সুচক। এর ফলে হিন্দু, জায়গিরদার’দের অধিকাংশের মধ্যে এবং মুসলিমদের কিছু-কিছু অংশের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। এর অল্প কিছুদিন পরে জাহাঙ্গীরের জ্যেষ্ঠপুত্র খুসরো পাঞ্জাবে পালিয়ে যান ও সেখানে এক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। শিখদের পঞ্চম গুরু অর্জুন আর্থিক সাহায্য যোগান তাঁকে। তৎসত্ত্বেও মোগল-বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে খুসরোর সেনাবাহিনী পর্যুদস্তু হয়, মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় তাঁর সমর্থকদের এবং তাঁকে অন্ধ করে দেয়া হয়। অর্জুন দেবের ওপর জাহাঙ্গীর বরাদ্দ করে দেন মোটা একটা অর্থদণ্ডের এবং অর্জুন তা দিতে অস্বীকার করলে জাহাঙ্গীরRead More


মোগল শাসনামলে সমাজ-চিন্তা ও গণ-আন্দোলন

আকবরের শাসনামলে গণ-আন্দোলন: আবুল ফজলের বাবা শেখ মুবারক ‘মাহদি’বাদী আন্দোলনের অনুসারক ছিলেন এবং এই আন্দোলন আবুল ফজলের চিন্তাধারাকে বহুলাংশে প্রাভাবিত করেছিল। শহরের মুসলিম ব্যবসায়ী ও কারুশিল্পীদের মধ্যে প্রসারলাভ করে এই আন্দোলনটি। পঞ্চদশ শতকে গুজরাটে মীর সয়ীদ মুহম্মদ (১৪৪৩ থেকে ১৫০৫ খ্রীস্টাব্দ) নামে এক প্রখ্যাত পণ্ডিত নিজেকে ‘মাহদি’ (অর্থাৎ, মানবজাতির ত্রাণকর্তা বলে ঘোষণা করেন। তিনি সমধর্মীদের কাছে আহবান জানান ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক যুগের গণতান্ত্রিক নীতিগুলি পুনর্বার অঙ্গীকার করতে ও মুসলমানদের মধ্যে সম্পত্তির সমানাধিকারের অবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে। গুজরাটের ‘মাহদি’-সম্প্রদায়ের মধ্যে এই শেষোক্ত নীতিটি কড়াকড়িভাবে মেনে চলা হতো; সম্প্রদায়ভুক্ত প্রতিটি মানুষের অর্জিত অর্থRead More


মোগল আমলে শাসন ও ধর্মীয় সংস্কার

আকবরের শাসন সংস্কার ১৫৬৯ খ্রীস্টাব্দে আকবর নির্দেশ দেন আগ্রা থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে বাবর যেখানে রাণা সঙ্গকে যুদ্ধে পরাস্ত করেছিলেন সেই সিক্রিতে নতুন একটি শহর-নির্মাণের। ‘পাতশাহের’ হুকুম অনুযায়ী আকবরের দরবারের আমির ওমরাহরা আগে যেখানে ধু-ধু মাঠ ছিল সেই বিশাল প্রান্তরে বহুবিধ প্রাসাদ ও প্রমোদ-উদ্যান নির্মাণ করালেন। এইভাবে লাল বেলে-পাথরের তৈরি অপরুপ সুন্দর এক শহর গড়ে উঠল আর তা হল আকবরের রাজধানী। এই রাজধানীর নতুন নামকরণ হল ফতেপুর সিক্রি (বা ‘বিজয়নগর’)। এই শহরে শেখ সেলিম চিস্তি একদা যে-ঘরটিতে বাস করতেন (এই সেলিম চিস্তি আকবরের প্রথম পুত্রসন্তানের জন্ম সম্বন্ধে ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন)Read More