আপনি যা পড়ছেন

বধূ

গলির মোড়ে বেলা যে পড়ে এলো পুরানো সুর ফেরিওয়ালার ডাকে, দূরে বেতার বিছায় কোন্‌ মায়া গ্যাসের আলো-জ্বালা এ দিনশেষে। কাছেই পথে জলের কলে, সখা কলসি কাঁখে চলছি মৃদু চালে হঠাৎ গ্রাম হৃদয়ে দিল হানা পড়লো মনে, খাসা জীবন সেথা— সারা দুপুর দীঘির কালো জলে গভীর বন দুধারে ফেলে ছায়া ছিপে সে-ছায়া মাথায় করো যদি পেতেও পারো কাৎলা মাছ, প্রিয়। কিংবা দোঁহে উদার

প্রস্তাব ১৯৪০

প্রভু, যদি বলো অমুক রাজার সাথে লড়াই কোনাে দ্বিরুক্তি করবাে না; নেবো তীরধনুক। এমনি বেকার; মৃত্যুকে ভয় করি থোড়াই; দেহ না চললে, চলবে তােমার কড়া চাবুক।   হা-ঘরে আমরা; মুক্ত আকাশ ঘর-বাহির। হে প্রভু, তুমিই শেখালে পৃথিবী মায়া কেবল— তাই তাে আজকে নিয়েছি মন্ত্র উপবাসীর; ফলে নেই লােভ; তােমার গােলায় তুলি ফসল।   হে

বিরোধ

নিরাপদ এই নীড়ে বাঁধলাম নিজেকে জানলায় নীল আকাশ দিলাম টানিয়ে, মনের ঘােড়াকে ঘরের দেয়াল ডিঙিয়ে চিনিয়ে দিলাম সীমানাহীনের ঠিকানা।   সুবাসিত তেল কেশারণ্যের গভীরে স্নান চলে বেশ নিরীহ টবের জলেতে, শুকনো ডাঙায় নির্ভয়ে দিই মনকে অতলান্তিক সাগরে সাঁতার কাটতে।   শাদা ডিশটায় স্বাদু হরিণের মাংস মনের হরিণ সােনা হলাে কার নয়নে, নরম চটির গুহায়

রােম্যান্টিক

আগ্নেয়গিরি পাঠালে যে এই রাত্রি, গলিত ধাতুরা জমাট কখন বাধবে? ব্যবসায়ী মন মাহেন্দ্রক্ষণ খুঁজছে, টিকটিকি ডাকে,—বধির সে নির্বন্ধ।   ঘড়ির কাঁটায় কত যে মিনিট মরছে, মনে অনন্ত সময়ের অধিরাজ্য; ভুলেছি, জ্যোৎস্না হারিয়ে হরিৎ ধান্য, এখানে বন্দী আনা-তিনেকের বাল্বে।   ঘরে ঘরে সেই ভ্রমণবিলাসী ভাবনা আরাম-চেয়ারে আনে দুপুরের নিদ্রা; নিজেরি একদা কল্পিত সব স্বপ্ন সেলায়ের

কানামাছির গান

একা ছিলাম উচ্চ আশার কৈলাসে ধুলিসাৎ বটে সে-বালখিল্য স্বপ্নরা; আজো হাসি, তাও মুখভঙ্গির অভ্যাসে দগ্ধ হৃদয় হাওয়ায় মেলতে পথে ঘােরা। নখদর্পণে নিকটবর্তী অলিগলি; প্রত্যাখ্যান জাগরূক রাখে প্রত্যাশা, হৃদয়রাজ্যে অনাবশ্যক দলাদলি, এ-অভাজনের ভবঘুরে তাই ভালােবাসা।   হায়, ইতিহাস অর্থনীতির হাতে বাঁধা। ভুলি বিপ্লব কু প্রভুর রাঙা চোখে; মন যদি চায়, শীর্ণ শরীর দেয় বাধা

সকলের গান

কমরেড, আজ নতুন নবযুগ আনবে না? কুয়াশাকঠিন বাসর যে সম্মুখে। লাল উল্কিতে পরস্পরকে চেনা- দলে টানো হতবুদ্ধি ত্রিশঙ্কুকে, কমরেড, আজ নবযুগ আনবে না?     আকাশের চাঁদ দেয় বুঝি হাতছানি? ওসব কেবল বুর্জোয়াদের মায়া- আমরা তো নই প্রজাপতি- সন্ধানী! অন্তত, আজ মাড়াই না তার ছায়া।   কুঁজো হয়ে যারা ফুলের মূর্ছা দেখে পৌঁছোয় না কি হাতুড়ি তাদের পিঠে? কিংবা পাঠিয়ো বনে সে-মহাত্মাকে নিশ্চয় নিঃসঙ্গ

মে-দিনের কবিতা

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা, চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া। চিমনির মুখে শোনো সাইরেন-শঙ্খ, গান গায় হাতুড়ি ও কাস্তে, তিল তিল মরণেও জীবন অসংখ্য জীবনকে চায় ভালবাসতে। প্রণয়ের যৌতুক দাও প্রতিবন্ধে, মারণের পণ নখদন্তে; বন্ধন ঘুচে যাবে জাগবার ছন্দে, উজ্জ্বল দিন দিক্‌-অন্তে। শতাব্দীলাঞ্ছিত আর্তের কান্না প্রতি নিঃশ্বাসে আনে লজ্জা; মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা, আর

আকাশমনি বাংলাদেশে আগ্রাসি উদ্ভিদ

পরিচিতি: আকাশমনি বা একাশিয়া হচ্ছে বাংলাদেশে আগ্রাসি উদ্ভিদ। Acacia auriculiformis-কে আমরা আকাশমনি নামেই বেশি চিনি। এটি হচ্ছে Fabaceae পরিবারের একটি দ্রুত বর্ধনশীল গাছ। এটি অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাপুয়া নিউ গিনির স্থানীয় প্রজাতি। এটি ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। আকাশমনির প্রতি কেজিতে ৪৭,০০০ বীজ থাকে। দ্রুতবৃদ্ধিসম্পন্ন এই বৃক্ষ রাস্তার দুইপার্শ্বে শোভাবর্ধনকারী

পাউলোনিয়া উত্তর আমেরিকায় আগ্রাসী এবং বাংলাদেশের ক্ষতিকর গাছ

পরিচিতিঃ Paulownia tomentosa রাজকুমারী গাছ, সম্রাজ্ঞী গাছ এবং শেয়ালদস্তানা গাছ নামেও পরিচিত। এটি একটি পর্ণমোচি গাছ, মধ্য এবং পশ্চিম চিনের দেশজ উদ্ভিদ কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে আগ্রাসি প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত। এটি ১০-২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু, হৃদয়-আকারের বড় পাঁচ-লতিযুক্ত পাতা, পাতার আকার ১৫-৪০ সেমি, বিপরীত জোড়ায় কাণ্ডের উপরে পাতা জন্মায়। এই

দোয়েল বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক এবং জাতীয় পাখি

ভূমিকাঃ বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Copsychus গণে পৃথিবীতে পাওয়া যায় ৮ প্রজাতি এবং বাংলাদেশে ২ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। সেগুলো হলও ১. ধলাকোমর শামা ও ২. উদয়ী দোয়েল। এখানে আমাদের আলোচ্য পাখি উদয়ী দোয়েল। বর্ণনা: এটি একটি আকর্ষনীয় পাখি । সাদা ও কালোর সংমিশ্রণ পাখিটির গায়ের রং। স্বভাব: বাংলাদেশ ও ভারতের জনবসতির আশেপাশে

Top