আপনি যা পড়ছেন

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পদাতিক কাব্যগ্রন্থের সূচিপত্র

সাম্যবাদী কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯১৯ – ৮ জুলাই ২০০৩) পদাতিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।  তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য মার্কসবাদী কবি ও গদ্যকার। এই বই দিয়ে একদিন তরুণ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বাংলা কবিতায় নতুন হাওয়া বইয়ে দিয়েছিলেন। কুঁজো হয়ে যারা ফুলের মূর্ছা দেখে

আর্য

দুর্ভিক্ষ, বন্যার চক্রে যথাপূর্ব চলি। কপর্দকহীন প্রাণধারণের থলি। মন্ত্রদুগ্ধ পতনের দুঃস্বপ্ন দেখায়। পাণ্ডববর্জিত দেশ যদ্যপি আমার তবু বুঝি, কালের জাহাজ বাণিজ্যবায়ুর হাতে শুধুমাত্র ক্রীড়নক আজ।   সরল বিশ্বাসে যাই সপ্তাহান্তে হাটে খাদ্যের দ্বিগুণ দাম দোকানীরা হাঁকে। রাজায় রাজায় যুদ্ধ; ফিরি শূন্য হাতে।   গুরুগিরি বংশগত পেশা— নতুন শিষ্যের টিকি মেলেনাকো, পুরাতন চেলা শতহস্ত দূরে রাখে।

কিংবদন্তী

চলছিলাে এতকাল বেসাতি নিরাপদে বেশ এ-দাস দেশে। আজকে ঢেউয়ের অলিগলিতে যতদূত দেয় ডুবসাঁতার। আদার ব্যাপারী তাই বুঝি না জাহাজের হালচাল কিছুই। কেবল গ্রাম্য হাটবাজারে ভেসে আসে কানে ক্ষীণ গুজব।

ঘরে বাইরে

বর্গীরা আসে এদেশে বােমারু পুষ্পকে শহুরে মােড়ল হুশিয়ারি হাঁকে সাইরেনে। চকিতে বিজলী আলােরা অন্ধ রাজপথে— বণিকেরা ক্লীব উদ্ধার খোঁজে অলকাতে।   আমরা বেকার, ঘর নেই, এই দুর্যোগে মন বিষন্ন; শরীর টলছে উপবাসে। নিরস্ত্র হাত; অসহায় মুঠি তুলি ক্ষোভে— নিরুপায়ে চাই আকাশে, দৈবে নেই আশা।   সহসা মাভৈ শােনা গেল চড়া সাইরেনে স্বদেশে দিয়েছে চম্পট ভীরু বর্গীরা। পান্থপ্রদীপ

বানপ্রস্থ

পঞ্চাশ পার, এবার প্রিয়— সামনে বনের বাধা সড়ক। এতকাল নেতা ছিলে যদিও, মিটেছে সঙ্গে চলার শখ, বিপ্লবী। পাতো উত্তরীয় বাজগৃহে। তাই লাগে চমক।   ভিক্ষায় যদি সুফল ফলে, লাভে আছো ষোল আনা শরিক। গুড়ি পল্টন খনিতে, কলে প্রাণভয়ে দেখি কাঁপে বণিক। তাই বলি প্রিয, হাতবদলে আমাদের নেই সুখ অধিক।   যতই বাহবা নাও কাগজে, জানি অন্তর দিচ্ছে দুয়ো গৃহযুদ্ধের ভয় মগজে মরে

ধাঁধাঁ

বড়ই ধাঁধায় পড়েছি, মিতে— ছেলেবেলা থেকে রয়েছি গ্রামে। বার-বার ধান বুনে জমিতে মনে ভাবি বাঁচা যাবে আরামে।   মাঠ ভরে যেই পাকা ফসলে সুখে ধরি গান ছেলেবুড়ােতে।   একদা কাস্তে নিই সকলে।   লাঠির আগায় পাড়া জুড়ােতে তারপর পালে আসে পেয়াদা।   খালি পেটে তাই লাগছে ধাঁধা।

এখানে

সেই নাগরিক ধুসর জীবন পিছন ফেলে সব থেকে দ্রুত ট্রেনে ক'রে আজ এখানে আসা। —আসানসােলে।   এখানে আকাশ পাহাড়েব গায় পড়েছে ভেঙে, পাহাড়ের গায় সারি সাবি সব চিমনি চুড়ো। ধানের জমির পাশাপাশি শুয়ে দিগ্বিদিক— খাড়া ক'রে কান কাস্তের শান শুনছে নাকি কামারশালে?   উর্মিল ভুঁই হাঁটে বনহীন তেপান্তরে; সরু সরু ঘাস, শিরে বুঝি তার শিশির ঝুলে

চীন: ১৯৩৮

জাপপুষ্পকে ঝরে ফুলঝুরি, জ্বলে হ্যাঙ্কাও কমরেড, আজ বজ্রে কঠিন বন্ধুতা চাও লাল নিশানের নিচে উল্লাসী মুক্তির ডাক রাইফেল আজ শত্রুপাতের সম্মান পাক।   মেরুদণ্ডের কাছে ঈপ্সিত খাড়া ইস্পাত বােম্বেটেদের টুঁটি যেন পায় জিঘাংসু হাত বীর্যবানের বিজয়ের পথে খােলা সব লােক দিকে দিকে শ্যেনদৃষ্টিকে, দেখ, মেলে সাধু বক।   দিশাহীন ঝড়ে, জানি, তুমি যুগবিপ্লবী মেঘ তড়িৎ

অতঃপর

সম্পাদক সমীপেষু, মহাশয়, ইতস্তত ভূসম্পত্তি আছে নিম্নস্বাক্ষরকারীর। এ-দুর্দৈবে জমিদারি রক্ষা দায়। বংশপরম্পরাগত কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভুবনে ঈশ্বর চালান, চলি।   পেয়াদারা বশংবদ: প্রবঞ্চক আদায়ের প্রত্যেক ফিকির তাদের কণ্ঠস্থ আজো। অথচ বকেয়া খাজনা প্রজারা দেয় নি গত দুই-তিন সনে। আদালতে ফল অল্প।   যৎসামান্য আয় আজো বন্ধকীতে। ভিক্ষাপাত্র নির্ঘাৎ নতুবা। বিদ্যার্থী দুলাল শেখে নৈশবিদ্যা কলকাতায়। বোতলে আগ্রহ তার

শ্রেষ্ঠীবিলাপ

দৈব কৃপণ, মেলেনাকো কৃপা, বিধাতা বাম; প্রস্তুত চিতা; মরণ কামড়ে খুঁজি আরাম।   বাজাব কিস্তি মাৎ, সম্প্রতি বেনে বেচাল আদি আড্ডায় ফিরবাে? প্রবল শত্রু কাল।   স্বখাত সলিলে কথিত যখন ধ্রুব নিধন— সখা, অন্তত ডাঙায় ছড়াবাে নিষ্ঠীবন।   কোটালের করকমলে সঁপেছি ধর্মঘট উদ্ধত বুট ভাগ্যে জোটায় শুধু হোঁচট।   চাঁদকে আমরা বেঁধেছি চাঁদির সা-রা-গা-মায়, অবৈতনিক প্রণয় রাখি নি ত্রিসীমানায়।   জনজাগরণে সদলবলেই মেনেছি হার— হে বলশেভিক,

Top