আপনি যা পড়ছেন

শিরোনামহীন আগ্রাসন

হুইস্কি, গোলাপগুচ্ছ ও পরমাণু বোমা পরপর সাজানো আছে অন্ধকার ছাদের শয্যায়, এখানে সাঁতার হবে তীব্র অহংকারপূর্ণ প্রাণহীন রক্ত পেয়ালায়, শতাব্দি পুরোনো সব বট ও বুড়োরা এসেছে, নেঙটি মাজা মেরে সব খেলতে নেমেছে, বুড়িদের মৌলিক পরিসংখ্যান সব হৃদয় চমকানো; লাইসিয়াম থেকে শান্তি নিকেতনে পড়ে গেছে সাড়া; তোমাদের বুকের উপরে আজ নৃত্য হবে, গাওয়া হবে গান।   তোমাদের বিবেক ও ঈন্দ্রিয়

অমেরুদন্ডি তাত্ত্বিক

জন্মকালে ছিলি তুই গর্তের কুনো ব্যাঙ, কোনো ব্যথিত বিকেলে ঢুকে পড়েছিলি কুয়োয়, সাঁতরিয়ে দিয়েছিলি পাড়ি হাঁটুজল কাদার সাগর, থপথপ শব্দ তুলে তোর চোখের সামনে দিয়ে চলে গেছে সৌখিন বাঁকা চোখের নেশা, দুলদুলে অমৃত ইথারে ইলিশের ঝকমকে আঁশের মতো ছড়িয়েছে হৃদয়ের বৈদ্যুতিক আলো;—   তোর বিষন্ন মুখের দিকে তাকানোর ফুরসত হয়নি তার কোনোকালেই, তোর ঘোঁত ঘোঁত আওয়াজ তাকে ত্যক্ত-বিরক্ত

রক্তস্রোত রক্তজবা

কাশফুল দিয়েছিলে বুঝি? উপহার পেয়েছিলে বুঝি স্মৃতির পাহাড়ে ফোটা কাঁচা রক্তজবা? নাকি ক্ষণটুকুও মনে পড়ে না? ভুলে গেছ কি আলতারঙ ঘনজল, টিয়েপাখির ঠোঁটের আঁচড় তোমার ঠোঁটে সকাল বিকেল রাত্রিবেলা? কতদিন হয়নি দেখা কালো জোসনার সুশব্দ ঝড়; ঘন ঘন ঝিলিক দেয়া জিউসের বজ্রদণ্ডের কোমল অভিশাপ; চড়ুইপাখির পাখনা কোমল বুকের মতো সহজভাবে  শোনা হয়নি শিল্পতরুর বাজনা বাগান, কেবলি অন্ধকার ভালোবাসার জন্যে অনন্ত অপেক্ষা

প্রেমের পরাজয়, ক্ষমতা ও দম্ভের কাছে

যদি দেখতে পাও সম্মুখে এক লাল নীল গ্রহে হামাগুড়ি দেয়া শিশুদের বুকে পিঠে আগুনের জলছাপ, তুমি ইতিহাস লেখতে পারো স্বদেশি নেতাবিহীন প্রজাদের; যদি দেখ বুকের উপর ঘুরন্ত টায়ারের হিসহিস শব্দের মতো চলমান ট্রেন, সেই ট্রেনে উঠে তুমি পড়শিদের ঘুম নির্ঘুম করে বাজাতে বাজাতে বাঁশি ঘুমিয়ে পড়তে পারো একাকি অপরিচিত কোনো জংগলে; যদি একবার সেন্ডেলে পা গুঁজে

সে ছিল আমার সন্ধ্যাচারিনী

গাঢ় সন্ধ্যার পূর্বে তুমি পরিব্যাপ্ত দাবানলের মতো মোহনীয় সামগ্রিক রূপ ছড়িয়ে বৈকালিক ভ্রমণে বের হও; তোমার ওই মৃদু স্রোতের বুকে ভেসে যাওয়া শান্ত ধীর গতি আমি খুব চিনি; তুমি পার্শ্ববর্তি কোনো কিশোরের সাথে পাখির গান আর পাহাড়ি ঝরণার কলধ্বনির মতো উচ্ছ্বসিত হাসিতে কুটিকুটি হও, আর সঙ্গী সহচরিটির খুব কাছে বকুলের গন্ধে ভরা যে যাদুবাক্স আছে,   আমি তাই খুঁজি

আহ কী চমৎকার!

মা হেঁশেলে নিজেকে রাঁধেন উনুনের খড়ি প্রজ্জ্বলিত বাবা, জ্বলে জ্বলে ছাই হন; সেই ছাই নেয়া হয় ল্যাবরেটরিতে, পরীক্ষার পর প্রাপ্ত প্রতিবেদন দেখিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি অতি উৎসাহে গ্রহণ করে চমৎকার বিদেশি ডলার, সুন্দর সব পদ্ধতি!   ছেলে বিক্রি করে রক্ত, কেনে মোহন লটারির টিকেট, মেয়ে চলে পথে পথে খদ্দেরের খোঁজে। সব খুব স্বাভাবিক ও সুন্দর!   শিশুরা বহন করে বেজন্মার পাপ সবকিছু সুন্দর চলছে— প্রতিদিনের প্রেস রিলিজ; রেডিওর

সভ্যতায় বাঙলাদেশ, ২০০১

দিনের পর দিন, প্রতিদিন তরুণটি দেখে পার্কে বাগানে সেই একই গাছ—ফুল ফল ডাল পাতা ভরা, একই পাখি বন্দি বিজাতীয় চিড়িয়াখানায়, মাংসের লোভে অতিথি পাখি বিক্রেতা অর্থের ঢিবি, কিনে নেয় পথের ধারেই জীবন্ত ছুটন্ত সব তাজা প্রাণ; খুব ভোরে রাস্তার মোড়ে একটি মাইক্রোবাস নামিয়ে দিয়ে যায় তিনজন বিধস্ত তরুণীকে, সকালের পথ ঝাড়ু  দেয় আর দূরবর্তি মোহের পরশে পান খায়

আমাদের সমসাময়িক ঘরোয়া পরিবেশ ও সামাজিক প্রত্যাশা

এবড়ো থেবড়ো ঘরে কুচিকুচি হয় ঘটনাসমূহ, দুমড়ে মুচড়ে যায় এলুমিনিয়ামের হাঁড়ি, ভেঙে যায় সাধের কলস, হারিয়ে যায় সাধের ছানা, পারিপার্শ্বিক বিষন্নতায় দলছুট নয় যদিও সেসব ঘটনা— এক জীবনের অংশ তারা, তবু থেকে যায় ক্ষত চিহ্নিত শরীর, সাঁঝরাতে মাঝরাতে শেষরাতে বিছানাতে টেনে নিয়ে যায় বয়সের পাখি,   দুপুরে ঘোরা পথে প্রেমময় রিকসা দেখে তোমাকে নীল শাড়িপরা সবুজ বারান্দায়— সে কি তবে অভিনয়? সৌন্দর্য

প্রজাপতি জ্বালায় পোড়ায় নিজে পোড়ে না

খুলির ভেতরে প্রজাপতি গড়ে বৃত্তাকার সুখের বাসর; তার খয়েরি ডানায় ওড়ে পাহাড়ের গ্রানাইট পাথর। বৃহত দানব এক হয় সে তার চৌহদ্দির ভেতর। চার পায়ে চার হাজার নক্ষত্রকে ধরে আনে সে সেথায়। স্যাটেলাইটের মতো শুঁড়ে খোঁজ নেয় পাপীরা কোথায়। মাথার উপরে রাখে সে কয়েক লক্ষ পারমাণবিক খেলা, যাকে মনে চায় তাকে হজম করতে বসায় বহুজাতিক মেলা। বিষাক্ত পতঙ্গ

পথভ্রষ্ট হারকিউলিস

বাসি বকুলের মালা সুগন্ধি বিলায় না আর। বিস্মরণের আসনে বসে একালের মুখরা নারীরা। ভবের মেলায় ঘুরে ফিরে ঘুরে বীর হারকিউলিস। স্বাধীন গ্যাসের বাতি বেচা হয় পুঁজিবাদের ঘাটে। প্লুটোর শহরে আজ ডলারের বড় দাপাদাপি। মহারাজার ঘানি টানে ব্যালটের রঙিন ইঞ্জিন। রেসের মাঠে খোড়া হয় রাণী বারেবার। কালের শকুন সাজে সময়ের সাহসি ডাক্তার।   চিত্রের ইতিহাস: কবিতায় ব্যবহৃত অংকিত চিত্রটি ফ্রেডরিক

Top