আপনি যা পড়ছেন

ছিঁড়ে যাওয়া ভ্রুণ এবং দাসি প্রিয়তমা

অনিচ্ছায় বিচরণ করি জনমানবহীন অন্ধকার রাতে, ফুটপাতে, একাকি, বিষন্ন, ব্যর্থতায় চোখে অনিদ্রার কালি; চশমা দিয়ে দেখি আতংকিত কংকালের ফ্রেম, চলমান শার্টপ্যান্ট সালোয়ার কামিজ, দুর হতে ভেসে আসা বেআক্কেলে সুর নিচুতলার গান আর তালের বাগান, দেখি জলের ঘুর্ণিতে ভেঙে যাওয়া পরানের বাস্তুভিটা, ছেঁড়া ত্যানায় সযতনে বেঁধে রাখা বাবার দুচোখে মায়ের শেষ আধুলি, এক জীবনের গরমিল হিসেবের ছেঁড়াখাতা।   মনে পড়ছে এখন, বোনের নয়নতারা ফুল

আমি মৃত্যুকুপে, তুমি জোস্নাস্নাত

এসেছি দুজন একইপথে দুভাবে— তোমার জন্মক্ষণে উঠেছিল বেজে ভোরের পাখির ডাকের মতো আনন্দের কলরোল, আর আমার জন্মক্ষণে এক অনন্ত ছাইচাপা কান্না চলেছিল বয়ে কলকলে এ্যাম্বুলেন্সের মতো;   আমি এক পোড়াকপালি।   আমার কচিপাতার সাথে বেড়ে উঠেছে কিছু প্রাণি যারা বেওয়ারিশ পুকুরের কচুরিপানার মতো কাটায় জীবন, মুখ রক্তহীন নীলাভ জন্ডিসাক্রান্ত রোগির বাঙলা পাঁচের মতো, এড়িয়ে চলে তারা সবাই আমাকে, আমি যে পোড়ারমুখি, মা বাবার

প্রকৃতির গান, হেমন্তের দুপুরে

ঘুম হাতে নিয়ে বসে আছি       শুনি দুপুরের বাতাসের ঘ্রাণ; এখানে কালের ক্লান্তির জলছাপ       আঁকা আছে উল্কি হয়ে পথের উপর,              মাইক্রোফোনের সুরে টাকাপ্রেমীর নির্বাচনি রঙ,                      সম্পদের কোকিলারা কবে ছিলো                                কোকিলের সহগামি? ঘুঘুর নরোম বুকে পাহাড়ী নদীর ঢেউ তুলে        খুলে যায় মনের দরজা, কামনা কপাট, কার্তিকের বাঁশঝাড়ে সারমেয় সারির ফোনালাপ        সহযোগি প্রকৃতির সুর আর               স্পন্দমান

গন্ধরাজের গন্ধে ভরা ঘর নেই

সহস্র বছরে তিলে তিলে গড়া আকাঙ্খিত প্রিয়ার মুখাবয়বের মতো নগর আঘাতে আঘাতে ভেঙে পড়ছে তীব্র দুপুরে, চৌদিকের আয়নায় বিম্বিত হচ্ছে তার আলোকচ্ছটা, অক্লান্ত ইতিহাসের কী করুণ মূর্তি, বহু হাজার বছর হতে সিঙহেরা হরিণ শাবকটিকে গ্রাস করে উড়ে যাচ্ছে ডানা মেলে আমাদের অপরিচিত বোধের পানে; আজকের মতো এমন তীব্র কোনো এক অস্থির দুপুরে সিঙহির চিৎকারে মাঠ ঘাট পৃথিবীর হয়েছে

ঘৃণার গান, এক টুকরো

ক্যানভাসের দগদগে ঘাটিকেও মুছে ফেলা যাবে; বুকের নীল যন্ত্রণার দাগ কোন রঙ দিয়ে মোছাবে? লক্ষ বছর ধরে মহাপৃথিবীর হাওয়ায় ভাসে এতো কম ঘৃণা; এক জীবনের মোড়ে ঝুড়ি ঝুড়ি ভালোবাসা ফেরি করতে পারো না। আমারো আছে অ-নে-ক অ--নে---কগুলো তীব্রতম ঘৃণার পাহাড়; ঘৃণাই জগতদেহ, ঘৃণাই কোমলপথ ঘুরে ফিরে বারবার ভালোবাসবার। এই, এই আজ শেষদিন, অত্যুজ্জ্বল শূন্যতায় প্রাগৈতিহাসিক স্বপ্নকে

নাবিকের আধুনিক বিতৃষ্ণার ব্যবচ্ছেদ

আর তুমি বাঙলার উনিশশো নব্বই ও দুই হাজারের বছরগুলোয় কোনোমতে বেঁচে থাকা তরুণী, কাদা জলে পা টিপে হেঁটে কোন দূর্গমে যাবে? জোঁকের আক্রমণ হতে আর কত দূর্গমে পালাবে? তোমারও তো স্বামী সঙসার স্বপ্নবাড়ি খেলা করে শ্বাসরুদ্ধ মাঠে।   আর আমার চোখে-মুখে সর্বাঙ্গে সজারুর কাঁটার আঘাতে উদগত বিতৃষ্ণার ফুসকুড়ি; পরিত্যক্ত শিকনির নালায় ভরে গেছে হৃদয়ের নদ নদী বিল ঝিল, সমুদ্রের মানসিকতা, গা শিরশিরানো

শতবর্ষি দুর্ভিক্ষ

জীবন হয়েছে আজ কয়লার হৃদপিণ্ড   ধুকে ধুকে মরছে ভাগাড়ের পৃথিবীতে, জ্বলছে ক্ষুধায় আক্রান্ত শুকনো কাঠির শরীর; গলায় ঝুলছে তাবিজ, ভিতরে ঈশ্বরের তিন মৃত পিতা, মহাক্রন্দন শোনে রাষ্ট্র,— তবুও ভাবখানা অন্ধের, উপেক্ষার।   বয়স ছয় কী সাত। উজাড় জনপদের উচ্ছন্ন ভিটার পাশে উপুড় হয়ে ধুঁকছে এক কৃষ্ণাঙ্গ শিশু, ঠোঁট দুটো মাটিতে লাগানো, যেন গিলবে গোল সমগ্র পৃথিবী পশু পাখি সমুদ্র

বাঁচবার প্রয়োজন

আমি সময়কে গড়াতে গড়াতে নিয়ে চলি  তেলের গোলাকার খালি ড্রামের মতো, সকালের অভুক্ত পথে ভবিষ্যত খুঁজতে গিয়ে টের পাই সনদপত্র আছে বেশকটি তিক্ত অভিজ্ঞতার, স্নাতকোত্তর শেষ হয়েছে বছর খানেক আগে; তোমার সাথে দেখা হয় মাঝে মধ্যে হল গেটে, ক্যাম্পাসে, টিউশনি ফিরতি পথে_ প্রথম আলাপের দিন স্মৃতিপাথরে খোদাইকরে রেখেছি অমলিন, মনে আছে তোমার চোখের পাতায় ছিলো অবিরাম উচ্ছলতার ঢেউ, আর আজ মুখখানা হয়ে

সহকর্মিদের প্রতি

উৎকন্ঠিত আপনারা জানিয়েছিলেন আমাদের শক্তি স্বাদু পানির মতো দিন দিন কমে যাচ্ছে, আমাদের মনোবলে মরচে ধরেছে, নিজেদের মধ্যে বেড়েছে সন্দেহ আর অবিশ্বাস, আমরা এখন বহুবিভক্ত যেন বটবৃক্ষের শিকড়হীন ডাল সময় চলে যাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি কথা শোনার মতো কেউ আর আমাদের কাছে আসছে না। কবি সাহিত্যিক দার্শনিক লেখকগণ চলে গেছে আমাদের ছেড়ে সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে।   ভুল পথে চলার সর্তকবাণী

একদিন মার্কেটে কিছুক্ষণ

মার্সিডিজ দ্রুত এসে থামে মার্কেটে ঢোকার পথে, নেমে আসে নরোম নদীর নারী আমদের পৃথিবীতে, ব্যাগ হাতে ঘোরে আর বাড়ায় পণ্য শোভা, ছড়ায় ঝিলিক; পেটমোটা বস্তার মতো রুগ্ন শরীরে গড়িয়ে গড়িয়ে চলে দুই ভিখারি, মাথাহীন একজন, অন্যজনের আছে শুধু মাথা, কপিকলের জোরে নড়ে চড়ে, এদিক ওদিক ঘোরে, শোনে মাইকের চিৎকার ও সমকালীন রাজ নীতিকথা।   সবুজের দ্যাশ আজ এদুজন

Top