আপনি যা পড়ছেন

পৃথিবীর কামরায়

আমি চারাগাছ; তুমি তোমাতে রোপন করো একাগ্র অপ্রতিহত অঝোর ধারায় ওইতিহাসিক প্রক্রিয়ার মতো দুহাত উজাড় করে, উপচিয়ে পড়ো পেশল প্রত্যাশার বুকে টানটান দড়ি ছিঁড়ে পড়ার মতো খুব জোরে; তোমাকে তৃপ্তি দেই আমি সর্বস্ব উজাড় করে আহা উহু শব্দবন্ধে কোমল মখমলের মতো, বাদামি চুলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পিঙ্গল আভায় ঝলমল করে চারদিক, তরুণ তরতাজা উল্কাপিন্ড জ্বলে জ্বলজ্বলে নিশার বারুদে। পৃথিবীর কামরায় তুমি

কিছুটা স্বাধীনতা কিছুটা রোমাঞ্চ

দুই হাতে স্মৃতি ঢেকে পুবের সোহাগি সরস আলোকে দেখে দুরে সরে যায় আঁধারের কংকাল, এখন আলো এখন শুধু নিয়ন আলোর কাল; পাল্টে ফেলার পুনর্জন্ম একটি নবীন দিনের জন্ম, হঠাৎ কখন আসলো উড়ে আবার পুরোনো রাত জনতা কুপোকাত ভালো বলে কোথায় পাবে ওরা র্দুমূল্যের স্বর্ণমুদ্রা, পৃথিবীর সব সোনালি ঘরে খাঁটি সোনার আকাল, বাগানে ফুটেছে গত জনমের সঞ্চিত জঞ্জাল।   আলগা হলে কি দুইটি গাছের

হে উপমানব, সুপথে এসো

তুমি প্রতি মুহুর্তে মাপো তোমার অস্তিত্ব, দেখো নিজের হাড্ডির দিকে— এখনো টিকে আছো তো, দুর্বা গজিয়েছে কী না হাড়ে? হে উপমানব, নিস্ফল হচ্ছে কী তোমার সমস্ত কোলাহল, মহাবিশ্বের উপকুলে সাবমেরিন নিয়ে যাত্রা তুমি  কোনোদিনই করতে পারবে না, জানো তো আমি ঈশ্বরের চেয়েও মহাপরাক্রমশালি।   সাহসি তুমি নিঃসন্দেহে, ষাঁড়ের মতো বরাবর ঘোঁত ঘোঁত করো আর আবোল তাবোল বকো, তুমি খোঁজো এক

কিল্লার মোড়ে চিল্লা মারে হায়েনা শয়তান

চোখে আধো ঘুম থাকুক অসুবিধে নেই, অস্ত্রহাতে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়া যায়, শহরের চারদিকে আছে বহু সেনাকর্মিদল;— তারাই দেখবে কারা পালালো এ-দেশ হতে রাবারের পিচ্ছিল পথ বেয়ে। অলিগলি ফুটপাথে শহরের বন বাদাড়ে ফোয়ারার জলের মতো উল্কাবেগে ছুটছে জনস্রোতের রক্তধারা; ছয় আঙুলের মাকড়সারা এ-সুযোগে তৈরি করছে ক্ষুন্নিবৃত্তির সাধ মেটাতে ঘুঁজিতে বৈদ্যুতিক জাল, গলিতে বৈদ্যুতিক ফাল।   বাঙলার খালি খালে বিলে অতিথি পাখির কলকাকলিতে ডুব দিয়ে

পুরাতন পুরুষ

চিপতে চিপতে গলে যায় আইসকৃম হয়ে যায় জলের শরবত, তবুও চিপিস কেন, কেন তোর ভয় না চিপলে জীবন পূর্ণ হবার নয়? আমি দেখি প্রতিদিনই ছাদের দড়িতে শুকায় সেই একই কাপড়, প্রতিদিন রাতে তবে কোন নদীর কোন পাড় ভাঙে, কোন নদে জোয়ারের শব্দে ভোর হয়, কার খালি কলসি কোন গাঙে ভরে যায় টইটুম্বুর, কার কলসি খালি হয় কোন মোহনায়? কোন পাখি

দুঠোঁটে ক্লান্তির বিষন্ন কাজলরেখা

উচুঁ উচুঁ গোল দালানের মতো ভুঁড়ি  ফেটে বেরিয়ে আসছে বিংশ শতাব্দির কিছু ক্ষমতাবান কেন না কিছুদিন আগে থেকেই  ক্রমাগত খাচ্ছে তারা তেলাপেকার ডিম  এবং তৈরি করছে কারাগার, ফিরিয়ে আনছে  তন্ত্রমন্ত্র ঝাঁড়ফুক, গাঁটছাড়া বাঁধছে দাদার  আমলের সর্ষের ভুতের সাথে;  প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে বিদেশি ঠাকুরকে খুশি করবার,  ভাঙা সুটকেস হাতে ও ছেঁড়া গেঞ্জি গায়ে দুটি সহোদর  এতিম ও নিঃস্ব ভাই ভিক্ষা করতে

হাওয়ায় ওড়ে দশদিক

১. প্রাচীন গাঢ় রাত চলে গেছে উড়ে উড়ে অন্ধকার দেশে সেদিনের তুমুল হাওয়ায়, জোয়ারের জল আছড়ে পড়েছে পৃথিবীর কিনারায়, সেদিনের রাতে শতেক বছর ধরে দিনবদলের প্রতীক্ষায় ছিলো প্রতিদিনের ফোঁটা সব ফুল, সেদিনের তুমুল হাওয়ায় উড়ে গেছে সব অহংকার, ডাইনোসরের শরীরের মতো সেই অন্ধকার রাতের ভুঙভাঙ হয়ে গেছে ঝড়ের আঘাতে প্রাচীন জীবাশ্ম, সম্রাটের জমকালো পোশাক হাওয়ার আঘাতে হয়ে গেছে হাওয়া;   আর

Top