Main Menu

Friday, October 5th, 2018

 

সভ্যতায় পৃথিবী, ২০০৩

ইথারে খবর আসে ‘কারফিউ, দেখামাত্র গুলি’ প্রেমিক শুধায় ‘প্রেমের কি হবে?’ প্রেমিকা ঘাড় বাঁকা করে বেশ কিছুক্ষণ পরে দেয় সমিল জবাব ‘জীবনবিহীন হৃদয়ের টান লাগে নাক ভালো’ তারপর নিঝুম অন্ধকার ও কথার বিরতি অনন্তকাল; মাঝে মাঝে বিজলির চমক দেখায় বোমারু বিমান ও সতেজ সভ্যতা; কাদের মৃত্যু দিয়ে কারা যেন সবিরাম ইতিহাস লিখে?   নলখাগড়া ও রাজা রাজড়ার বংশপরম্পরা;   ইতিহাস বিভাগের ভুঁড়িঅলা এখন অধ্যাপক এমিরিটাস, পূঁজিবাদ কতোটা এগোলো— গরু খোঁজে গরুর রাখাল, বহুকাল হতে কৃষক রয়েছে নিশ্চুপ হা করে তাকিয়ে আছে আকাশে কখন বৃষ্টি ও বোমা নামবে, সংগ্রামি শ্রমিকবিহীন বাঙলায়Read More


অনন্যা

তুমি নতুন গর্জে ওঠা শহরের মাঝখানে আমাদের কিংবদন্তি, ইতিহাসের অগ্নিগোলকের শক্তিমান উজ্জ্বল ভাস্কর্য, অসীমের ঘরে জীবন্ত রোমান্টিক স্রোত; তুমি বিছিয়েছ হা-ঘরেদের জন্য শেষ অস্তিত্বে রাতের শয্যা, তোমার একটি কথায় নড়ে উঠেছে মহাবিশ্ব, তোমার কথার পূর্বে পৃথিবীতে ছিল মৃত্যু উপত্যকা, তোমার কথার পরের পৃথিবী অন্য আলোয় ভরা, তোমার  ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে আসমুদ্রহিমাচল, তোমার চোখের চাহনি দেখে সোনার ছেলেরা ফাঁসির রশিতে ফুটিয়েছে রক্তপদ্ম ফুল; তুমি বলেছ তাই পৃথিবীতে এসেছে অনঢ় শান্তি, তুমি চেয়েছ তাই আমাদের হাতে হাতে কবিতা, তুমি চেয়েছ তাই আগ্রাসীরা এখন হিরের টুকরো, তুমি চেয়েছ তাই এখনো জ্বলে রাজপথে লালRead More


বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের জীবনযাপনে জটলা

বনবন ঘোরা থেকে মাথা বড় কষ্টে সুস্থির হয় অন্ধকারে, চিন্তার গতিবেগ শূন্যতায় নেমে যায়, দিনাতিপাতের পরে আবার বাড়ে এক ফালি হিসেব নিকেশ দৈনন্দিন হাজিরা ও অনুপস্থিতির গড়;   কবেকার বস্তির দলা পাকানো জঙ্গলে জন্মেছিলো আমার উৎসাহহীন ভ্রুণ, তারপর অবিরাম পথচলা রাজপথ অলিগলি জংলি ইট কাঠ রড টিন সিমেন্ট মেলায়; উদ্যান চোখেও দেখেনি কারো দাদা, আমি জানি না কে আমার বাবা, বাগান তখন ছিল নববধু দাদিদের বিলাসিতা।   বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোনো কোনো দিন শহুরে সুন্দরিদের পেয়েছি বাহুতে নাগাল, হৃদয়ের ঘুন পোকাকে সিলপাটায় ভেঙে ভেঙে দুহাতে খাইয়েছি যাকে তাকে যেথায়Read More


মৃত্যু এসে নিয়ে যাক শৃঙ্খলিত প্রাণ

জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই জন্মেছো তুমি, উঠেছো বেড়ে কন্টকাকীর্ণ সুবিস্তীর্ণ জনমানববহুল মাঠে, তোমার মাথার উপরে গভীর পুঁজভর্তি সাদা আকাশ, প্রভাত সূর্য অতিরুগ্ন বৃদ্ধের মতো লাঠি ধরে এগিয়ে আসে ঘন দেয়ালের ভিতর দিয়ে, অথচ তুমি জানো না আজো এদেশে রাত্রি নামে ঘুষখোরের মতো বীরদর্পে, তোমার মহানিয়ন্ত্রককে তুমি চোখে দেখোনি কিন্তু উপনিয়ন্ত্রকের পা টিপে দাও, গোসল করাও, রাত্রিকালে অবাধ সঙ্গ দাও।   তোমার পিঠের উপরে অনন্ত আঘাতের চাবুক, তোমার মাথা বিক্রি হয়ে গেছে জেনে তোমার স্ত্রী বা বোন, মা বা মেয়ে বড়র্কতার বাসার ঝি হয়ে টকজল টেনে নেয় ঢেঁকির কোটরে; দাঁতহীন বয়স্কRead More


তৃতীয় পক্ষের গমনাগমন

ক্ষণে ক্ষণে টের পাই তোমার ত্রিসীমানায় আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ে আছি; পথ নেই ছেড়ে যাবার; ইতিহাস শিক্ষা দেয় একদিন প্রয়োজন ফুরাবে, কেননা ইতিহাস সবকিছু পাঠায় ধ্বংসকুপে তুমি-আমি-কংকাল-রাজপ্রাসাদ-সভ্যতা-কৃষ্ণগহ্বর; ইতিহাস পাঠায় ধ্বংসকুপে মরণের স্পন্দনে চলমান প্রাণের ঘূর্ণায়মান সুতা ছিঁড়ে ছুটে চলা অবিরাম বিড়বিড় আউলা প্রলাপ বকা ঘুড়ি। সেই ঘুড়ি আমার ছাদ হতে পৌঁছে যায় তোমার অলিন্দে; আমাকে পৌঁছে দেয় তোমার কল্পনার ফুলবাগানে, কল্পফুল তুলে আমি রেখে দেই তোমার করতলে আঙিনায় বিছানায় জানালার বৃষ্টিতে মরীচিকার মতো ঝিকমিক করা তোমার চোখের প্রিজমে।   তোমার অসময়ের সাময়িক উপস্থিতির অনুভূতি আমাকে রেখেছে প্রবল টানের মাঝখানে, আমি একধরনেরRead More


ঘেউ ঘেউ স্বপ্ন অথবা উজবুক

জমে আছে মাথার ক্ষতস্থানে জমাট রক্তপিন্ডের মতো কালচে বিষাদ, বুকের বেয়াড়া রোগে কাবু হয়ে বসে থাকি ব্যাঙের প্রস্তরমূর্তি, উপপাত্র বাঁকা হাসির;— নাম নেই; শালা গাধা, বলির পাঁঠা, দুবর্গ ইঞ্চি জমির অস্থায়ি মালিক, চেয়ার টেবিলবিহীন মাটিতে বসে খাই, তৃপ্তির ঢেকুর তুলি, ফিকফিক হাসি হঠাৎ, কোলাহলহীন শব্দহীন অর্থহীন অচিননগরে   অকাজ বা কাজ— ইটভাঙা হাড়িভাঙা ঘুমভাঙা ডিমভাঙা রাষ্ট্রভাঙা রাজ্যভাঙা ইত্যাদি নেই, শুধু আছে হতাশা বিষাদ আর লবণাক্ত দেহ, যত্রতত্র খ্যামটা নাচ, ভনভনে মাছির গান, দিনরাত গিলো পেটে রাবারের মতো ভাত, শোনো সাংসারিক বকুনি খেলা, দেখো সাংবাৎসরিক অবহেলা, চিত্তহীন বিত্তবিনোদন; মাঝে মধ্যে দুটুকরোRead More


প্রশ্নহীন পোড়াবৃক্ষ

একা শহরে দাঁড়িয়ে আছি আমি বাজ পড়ে পুড়ে যাওয়া পাতাহীন গাছ, কখনো নড়ে উঠি ভুকম্পনে কিংবা দেখি কখন বেখেয়ালে ঘুনপোকা খেয়েছে কেন্দ্রিয় শাঁস, পাঁজরের অবকাঠামো; ক্ষণিক বৃষ্টি হলে জংধরা ডালপালা ঝরঝর ঝরে পড়ে, প্রবল হাওয়ার লুকোচুরি হাড়ে লাগায় টক্কর, চিন্তাজ্বরে কেঁপে কেঁপে মৃত্যুর সাথে লড়ি বিশ্রী বামন; বিদ্রোহি ক্রীতদাসের বেড়ি পরানো দুপায়ের মতো আমার আয়ু ও চোখে হাতকড়া বাঁধা,   কোথায় পালাবো আমি; কাগুজে ঠোঙার মাঝে বন্দি মাছির মতো  ঘ্যান ঘ্যান সুর তুলি এই বাঁকা রাজপথে পরহিংসা সাধক।   গোল গোল চাকার ধুলো গায়ে মুখে মেখে কাঁধে ঝুলিয়ে বড়সড় ঝোলা,Read More


পৌরাণিক প্রেম

‘চলো দূরের ওই দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে ওখানে অপেক্ষা করে আছে আমাদের কাল’ উদ্দীপিত সখী রাজকন্যার কানে জানায় আজকের গোপন সংবাদ, পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীটির ধারে কার খোঁজে দাঁড়িয়ে সেই অচেনা যুবক? দূরে বন্য হরিণীরা খেলা করছে ইতিহাসের সংগে, সখীদের সাথে নিয়ে রাজকন্যা কেন প্রাণ চাইলেও খুব কাছে আসছে না তার, সেকি অমঙ্গলের ভয়ে— তবে জীবন টানছে কেন অপর জীবনেরই দিকে— কোন মিলিত হবার প্রেরণায়? রাজকন্যা ও তার অতীত নির্জনতা এখন কার ঘুম ভাঙিয়েছে— গাছেদের নাকি গাছের পাখিদের? সখীরা চলে গেছে, চলে যাক পৃথিবীর প্রান্তের কোনো রাজমহলে, আষাঢ়ের কদম গাছেরRead More


গতিশীল কালের জননী

ও নদী, তোমার বুকে আজ ধ্বংসের বিশুষ্ক ঝিলিক, শাখা প্রশাখায় উড়ছে মৃত্যু আগমনি বাঁশির ধূলা, পাহাড় তোমার চলার পথে গড়েছে পাথুরে  প্রতিবন্ধকতা, শুখা মরুভূমি মারীভূমি বানিয়েছে ধূধূ বালিয়াড়ি; গুমোট শীত রাত্রি এনেছে চলমান হিংসুটে হাড় কাঁপানো হিংস্রতা, তোমার প্রবহমানতা কী থামিয়ে দেবে তুমি? ঘৃণায় কি জল দেবে না আমাদের, তরুণ তরল জল, সেই জলের জীবনও তো উচ্ছ্বল যেন স্বচ্ছ পুকুরে মিঠে রোদ্দুরে নাচতে থাকা বাঙলার ইলিশের পোনা; আর আমরা তৃষিত শরীর মাথায় নিয়ে কীভাবে টিকে থাকি চলচ্ছক্তিহীন ভংগুর নিঃস্বার্থ বন্ধু ক’জন।   ও নদী, তুমি জেনে যাও আমরা পশুর মতোRead More


একদিন তোলপাড় বর্ষার বৃষ্টির ফোঁটায়

তোমার শৈশব তোমার মেয়েবেলা আজকের সারাদিনের বৃষ্টির ভুরভুর গন্ধে মিশে গেছে; তোমার মানসপ্রতিমা জানালা বন্ধ করেছে বৃষ্টির ছাঁট এসেছে বলে; না তুমি খোলা জানালা বন্ধ করো না, তুমুল বৃষ্টি আসুক, আমি বৃষ্টির কণায় মিশে হাওয়া জলে সাঁতার কেটে এসে দাঁড়াবো তোমার জানালার পাশে;— তোমার চোখের বুদবুদে আমার ছায়াকে নিশ্চিত দেখতে পাবো।   পৃথিবীর সমস্ত জলের ফোঁটা আজকে তোমার বিমূর্ত কল্পনাকে আমাদের কল্পনার ক্যানভাসে রঙতুলি দিয়ে আঁকে কল্পনার ছবি; আমার প্রত্যাশিত পিরামিড এখন তোমাদের ছাদে ভেসে চলে; তুমি কি এখন জানালার পাশে বসে আনমনে দেখছো আকাশ সমুদ্র ঝড় বজ্রবিদ্যুত স্মৃতির উপমাRead More