আপনি যা পড়ছেন

সভ্যতায় পৃথিবী, ২০০৩

ইথারে খবর আসে ‘কারফিউ, দেখামাত্র গুলি’ প্রেমিক শুধায় ‘প্রেমের কি হবে?’ প্রেমিকা ঘাড় বাঁকা করে বেশ কিছুক্ষণ পরে দেয় সমিল জবাব ‘জীবনবিহীন হৃদয়ের টান লাগে নাক ভালো’ তারপর নিঝুম অন্ধকার ও কথার বিরতি অনন্তকাল; মাঝে মাঝে বিজলির চমক দেখায় বোমারু বিমান ও সতেজ সভ্যতা; কাদের মৃত্যু দিয়ে কারা যেন সবিরাম ইতিহাস লিখে?   নলখাগড়া ও রাজা রাজড়ার বংশপরম্পরা;   ইতিহাস বিভাগের ভুঁড়িঅলা এখন

অনন্যা

তুমি নতুন গর্জে ওঠা শহরের মাঝখানে আমাদের কিংবদন্তি, ইতিহাসের অগ্নিগোলকের শক্তিমান উজ্জ্বল ভাস্কর্য, অসীমের ঘরে জীবন্ত রোমান্টিক স্রোত; তুমি বিছিয়েছ হা-ঘরেদের জন্য শেষ অস্তিত্বে রাতের শয্যা, তোমার একটি কথায় নড়ে উঠেছে মহাবিশ্ব, তোমার কথার পূর্বে পৃথিবীতে ছিল মৃত্যু উপত্যকা, তোমার কথার পরের পৃথিবী অন্য আলোয় ভরা, তোমার  ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে আসমুদ্রহিমাচল, তোমার চোখের চাহনি দেখে সোনার ছেলেরা ফাঁসির রশিতে

বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের জীবনযাপনে জটলা

বনবন ঘোরা থেকে মাথা বড় কষ্টে সুস্থির হয় অন্ধকারে, চিন্তার গতিবেগ শূন্যতায় নেমে যায়, দিনাতিপাতের পরে আবার বাড়ে এক ফালি হিসেব নিকেশ দৈনন্দিন হাজিরা ও অনুপস্থিতির গড়;   কবেকার বস্তির দলা পাকানো জঙ্গলে জন্মেছিলো আমার উৎসাহহীন ভ্রুণ, তারপর অবিরাম পথচলা রাজপথ অলিগলি জংলি ইট কাঠ রড টিন সিমেন্ট মেলায়; উদ্যান চোখেও দেখেনি কারো দাদা, আমি জানি না কে আমার বাবা, বাগান তখন

মৃত্যু এসে নিয়ে যাক শৃঙ্খলিত প্রাণ

জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই জন্মেছো তুমি, উঠেছো বেড়ে কন্টকাকীর্ণ সুবিস্তীর্ণ জনমানববহুল মাঠে, তোমার মাথার উপরে গভীর পুঁজভর্তি সাদা আকাশ, প্রভাত সূর্য অতিরুগ্ন বৃদ্ধের মতো লাঠি ধরে এগিয়ে আসে ঘন দেয়ালের ভিতর দিয়ে, অথচ তুমি জানো না আজো এদেশে রাত্রি নামে ঘুষখোরের মতো বীরদর্পে, তোমার মহানিয়ন্ত্রককে তুমি চোখে দেখোনি কিন্তু উপনিয়ন্ত্রকের পা টিপে দাও, গোসল করাও, রাত্রিকালে অবাধ সঙ্গ দাও।   তোমার

তৃতীয় পক্ষের গমনাগমন

ক্ষণে ক্ষণে টের পাই তোমার ত্রিসীমানায় আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ে আছি; পথ নেই ছেড়ে যাবার; ইতিহাস শিক্ষা দেয় একদিন প্রয়োজন ফুরাবে, কেননা ইতিহাস সবকিছু পাঠায় ধ্বংসকুপে তুমি-আমি-কংকাল-রাজপ্রাসাদ-সভ্যতা-কৃষ্ণগহ্বর; ইতিহাস পাঠায় ধ্বংসকুপে মরণের স্পন্দনে চলমান প্রাণের ঘূর্ণায়মান সুতা ছিঁড়ে ছুটে চলা অবিরাম বিড়বিড় আউলা প্রলাপ বকা ঘুড়ি। সেই ঘুড়ি আমার ছাদ হতে পৌঁছে যায় তোমার অলিন্দে; আমাকে পৌঁছে দেয় তোমার কল্পনার ফুলবাগানে, কল্পফুল তুলে

ঘেউ ঘেউ স্বপ্ন অথবা উজবুক

জমে আছে মাথার ক্ষতস্থানে জমাট রক্তপিন্ডের মতো কালচে বিষাদ, বুকের বেয়াড়া রোগে কাবু হয়ে বসে থাকি ব্যাঙের প্রস্তরমূর্তি, উপপাত্র বাঁকা হাসির;— নাম নেই; শালা গাধা, বলির পাঁঠা, দুবর্গ ইঞ্চি জমির অস্থায়ি মালিক, চেয়ার টেবিলবিহীন মাটিতে বসে খাই, তৃপ্তির ঢেকুর তুলি, ফিকফিক হাসি হঠাৎ, কোলাহলহীন শব্দহীন অর্থহীন অচিননগরে   অকাজ বা কাজ— ইটভাঙা হাড়িভাঙা ঘুমভাঙা ডিমভাঙা রাষ্ট্রভাঙা রাজ্যভাঙা ইত্যাদি নেই, শুধু আছে

প্রশ্নহীন পোড়াবৃক্ষ

একা শহরে দাঁড়িয়ে আছি আমি বাজ পড়ে পুড়ে যাওয়া পাতাহীন গাছ, কখনো নড়ে উঠি ভুকম্পনে কিংবা দেখি কখন বেখেয়ালে ঘুনপোকা খেয়েছে কেন্দ্রিয় শাঁস, পাঁজরের অবকাঠামো; ক্ষণিক বৃষ্টি হলে জংধরা ডালপালা ঝরঝর ঝরে পড়ে, প্রবল হাওয়ার লুকোচুরি হাড়ে লাগায় টক্কর, চিন্তাজ্বরে কেঁপে কেঁপে মৃত্যুর সাথে লড়ি বিশ্রী বামন; বিদ্রোহি ক্রীতদাসের বেড়ি পরানো দুপায়ের মতো আমার আয়ু ও চোখে হাতকড়া বাঁধা,

পৌরাণিক প্রেম

‘চলো দূরের ওই দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে ওখানে অপেক্ষা করে আছে আমাদের কাল’ উদ্দীপিত সখী রাজকন্যার কানে জানায় আজকের গোপন সংবাদ, পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীটির ধারে কার খোঁজে দাঁড়িয়ে সেই অচেনা যুবক? দূরে বন্য হরিণীরা খেলা করছে ইতিহাসের সংগে, সখীদের সাথে নিয়ে রাজকন্যা কেন প্রাণ চাইলেও খুব কাছে আসছে না তার, সেকি অমঙ্গলের ভয়ে— তবে জীবন টানছে কেন অপর

গতিশীল কালের জননী

ও নদী, তোমার বুকে আজ ধ্বংসের বিশুষ্ক ঝিলিক, শাখা প্রশাখায় উড়ছে মৃত্যু আগমনি বাঁশির ধূলা, পাহাড় তোমার চলার পথে গড়েছে পাথুরে  প্রতিবন্ধকতা, শুখা মরুভূমি মারীভূমি বানিয়েছে ধূধূ বালিয়াড়ি; গুমোট শীত রাত্রি এনেছে চলমান হিংসুটে হাড় কাঁপানো হিংস্রতা, তোমার প্রবহমানতা কী থামিয়ে দেবে তুমি? ঘৃণায় কি জল দেবে না আমাদের, তরুণ তরল জল, সেই জলের জীবনও তো উচ্ছ্বল যেন স্বচ্ছ

একদিন তোলপাড় বর্ষার বৃষ্টির ফোঁটায়

তোমার শৈশব তোমার মেয়েবেলা আজকের সারাদিনের বৃষ্টির ভুরভুর গন্ধে মিশে গেছে; তোমার মানসপ্রতিমা জানালা বন্ধ করেছে বৃষ্টির ছাঁট এসেছে বলে; না তুমি খোলা জানালা বন্ধ করো না, তুমুল বৃষ্টি আসুক, আমি বৃষ্টির কণায় মিশে হাওয়া জলে সাঁতার কেটে এসে দাঁড়াবো তোমার জানালার পাশে;— তোমার চোখের বুদবুদে আমার ছায়াকে নিশ্চিত দেখতে পাবো।   পৃথিবীর সমস্ত জলের ফোঁটা আজকে তোমার বিমূর্ত

Top