Main Menu

Sunday, October 7th, 2018

 

পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি

মনে রাখো তোমাদের দশদিক এখন বড়ই কুটিল, মনে রাখো তোমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস থামতে বসেছে, ধীর ও জটিল তোমার রক্তমাখা সরীসৃপের মতো গতি, তোমার বংশের সাথে গাছপালা পাঠ চুকায় ক্রান্তিকালের মোড়ে, তবুও কোথায় কোনো এক সুতোর টান অনুভূত হতে পারে প্রাণ আছে বলে আবিষ্কৃত জগদীশের আবিষ্কারে।   গাছ হতে শিশু জন্ম নেয়, তুমি শিশুর কান্না থামাও,   রুমঝুমির ঝুনঝুন শব্দে আর পল্লবের প্রশাখায় ফোটাও ফুল; যদিও তুমি অর্ধমৃত। মায়ের মুখ থেকে শিশুরাই মুখ সরায়, সেখানে কিছু সময় জোঁকের মুখ ছিলো জোঁকেরা চুষেছিলো মায়ের সম্পদ সম্বল কেউ বোঝেনি তুমি ছাড়া কিন্তু তুমি করোনিRead More


বাঁশিঅলা

আমি বাজাই বাঁশি মনের আনন্দে নয়, মনহরিণীর মন হরণ করার জন্যেও নয়, আমি বাঁশি বেচি, বাঁশি বেচতে গেলে বাঁশি বাজিয়ে শোনাতে হয়; অবশ্য খারাপ বাঁশিটিও আমার কাছে সুমধুর সুর তোলে, নেতার স্পর্শে যেমন বেয়াড়া মানুষটিও সুন্দর গুণে ভরে ওঠে; আমার ফুঁ দিয়ে যাদুর সুর আসে; সেই সুর মৃত মানুষকে জাগিয়ে তোলে, মহামানুষে পরিণত করে, কিন্তু আমি থাকি পূর্বেরই মতো।   আমি জানি আমার বাঁশিরা কথা বলতে জানে; তাদের প্রগতি, শান্তি ও সৌন্দর্যের আকাঙ্ক্ষা আছে। তদুপরি তারা মাঝেমধ্যেই উল্টো পথে গাড়ি চালায়, উল্টো রথে নিজেদের হত্যা করে, অন্যান্য মানুষের মতো তারাওRead More


চুম্বন ও স্বাধীনতা

— কী দেখতে পাচ্ছো? — আলোর উজ্জ্বলতা ? — কী স্পর্শ করছ? — তার মুখ; এলোমেলো দীপ্ত চিবুক, সবুজ স্নিগ্ধ বনানি, লাস্যময় জারুল বেগুনি   শিশিরস্নাত কচুরির ফুল; আমাদের দুজনের সময় মশগুল, চুম্বন, উষ্ণ হার্দ্য নরম লাজলজ্জ্বাহীন সভ্যতার সীমাহীন মনোরম আমাদের হর্ম্য স্বাধীনতা; প্রেমে যুদ্ধে এবং যুদ্ধোত্তর বেদনায় পাওয়া এই ভালোবাসা, খুঁটেখুঁটে জমানো হৃদয়ের ডাকবাক্সে পরিত্রাণের আশা, আপাদমস্তক পাবার প্রত্যাশা; — আলকাতরার মতো জমাট অন্ধকার কেটে কেটে কতোটা এগুচ্ছো? — সামনে কাদের দেখতে পাচ্ছো? স্বর্ণকেশী তরুণীর স্বপ্নের মতো আলোর উজ্জ্বলতা, কাকে কাছে ডাকছো?   ১৮.০৮.২০০৪; কাস্টম মোড়, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ। চিত্রেরRead More


সৌন্দর্য বিষয়ক কথা ও শত্রুরা

শক্তি শিল্প অধিকারহীন আমরা তাদেরকে প্রাণবন্ত সময়ের গান শোনাতে পারিনি। পৃথিবীর সুন্দর কথাগুলোকে তারা নদী ও সমুদ্রগর্ভে বিলীন করতে চেয়েছে। তারা বোঝেনি; সুন্দর কথা সবকালে পাল্টে নিতে হয়।   ২৫.০৮.২০০৪; কাস্টম মোড়, কুষ্টিয়া। চিত্রের ইতিহাস: কবিতায় ব্যবহৃত অংকিত চিত্রটি বরিস কুস্তোদিয়েভ (১৮৭৮-১৯২৭) আঁকা চিত্র ‘সুন্দর এবং পশু‘ (Beauty and the beast)। শিল্পী চিত্রটি আঁকেন ১৯১৬ সালে। ছবিটি উপরে নিচে সামান্য ছেঁটে ব্যবহার করা হয়েছে।


ইত্যাদি

হাজার বর্গমাইল জুড়ে তোমার প্রতিচ্ছবি, হাসছ, নাচছ, কইছ কথা সাদা-কালো রাতে, চিত্রময় যে প্রেম আসে ফুটন্ত জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে তার পাশে হাত ধরে কবিতা পড়িও, টাঙনের তীরে বেড়াতে আসিও, জলপ্রপাতের মতো ভালোবাসিও, পাখির তিয়াসা নিয়ে আমায় ডাকিও,   ইষদুষ্ণতায় মন খুব ভিজে যাক, সমার্থক প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাক, সহযোগী বাদ্যগুলো বাজনা বাজাক রিনিঝিনি রিমঝিম কিংবা সরগম, অর্ফিয়ুসের বাঁশি যেন বাজে রাধার কানে, ছায়াছবির ছায়া হতে তোমাদের বাগানে।   নতুন দীপ্তি হাওয়া দিক প্রতিভা প্রবাহে; বস্তুর এইটুকু সত্য জেনে হৃদয় হারাবে সূর্যের মাঝে।   ১৬.০৭.২০০৪; কুষ্টিয়া। চিত্রের ইতিহাস: কবিতায় ব্যবহৃত অংকিত চিত্রটিRead More


তোমার ছন্দে, জীবনানন্দে

বহুদিন পর আবার দেখা— সেই জারুল ফুল, সেই কাল, সেই কোমলতা; একদিন সৃষ্টির সহযোগিতায় আমাদের দৃষ্টিমত্ততায় আনন্দের কলরোল। ইন্দ্রানি দিন যাক বা নাই যাক বদলাক বা নাই বদলাক, অনুভবে তোমার পাশে আমি একই গাড়িতে সবুজ শাড়িতে সজীব সিঁড়িতে উঠানামা, সেই রকম চাহনিতে চোখ, তবুও সময়ের দরজায় আকাঙ্খার তীর, ঐশ্বর্য আসুক ঘরে জোস্নার আলোয় মিশে, চিত্রলিপি হোক পদ্মফুলের ঘ্রাণ, তুমি এসেছো এই সত্যটুকু শুধু পৃথিবীকে সংবাদ সম্মেলন করে জানালাম; ইন্দ্রানি, ভয় নেই জেনেই তোমায় বলি হৃদয়বিলাসি নই তাই ভুলতে পারিনি স্বর্ণচাঁপার ছবিতে আঁকা মধুমাসের সুসজ্জিত মেঘবালিকার নীলাভ আকাশখানি।   জুন, ৮,Read More


সেদিনের সন্ধেটা

দূরে তবু খুব দূরে নয়, আছো কাছে তুমি দাঁড়িয়েছো বৃত্ত ভাঙবার ভঙ্গিমায়, জাপটে ধরেছ ধোঁয়া ভুল ভাবনাহীন; হাসিখুশি, যেন তুমি ঘরোয়া ঝর্ণা ছড়িয়ে দিয়েছ গণসংগীত মূর্ছনা, মৃদু সম্ভাষণ শেষে জানতে চেয়েছিলে, কেমন ছিলে সেইদিন কার গৃহডোরে? এখন কেমন আছে সেই সন্ধ্যেটা?   ছলকে উঠেছে মন, ভাবনায় স্মৃতি, আমরা হয়েছি আজ কার সাথে সাথী, নড়ছে স্মৃতিপাতা স্মৃতিপ্রবাহে, ঘটে কী জগতে সব হৃদয়ে যা চাহে?   ২৫.০২.২০০৪; কাস্টম মোড়, কুষ্টিয়া। চিত্রের ইতিহাস: কবিতায় ব্যবহৃত অংকিত চিত্রটি রোজেলিও দে গুসকুইজা (১৮৪৫-১৯১৫) আঁকা চিত্র ‘নাচের সময়ের দিবাস্বপ্ন‘ (A reverie during the ball)। শিল্পী চিত্রটিRead More


ফি বাৎসরিক ভুল ফল অথবা গণ্ডার

একের সংগে একাধিক যোগ করে দেখেছি আমি শেষকালে সাদা খাতা জমা আছে হাতের তালুতে, পথের মধ্যখানে দাঁড়িয়েছি, ডেকেছি নতুন সুরে সবটুকু উজাড় করে, পাইনি নতুন কোনো সঙ্গী পথিক; আলাপের কালে বারবার হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে কিছুই মেলেনি একঝাঁক আধামানুষ অবলীলায় বলে গেছে শেখানো সব কথা, দেখেছি সবুজ দ্বীপে সেইসব প্রাণিদের খেলা যারা ভুল পথে দিয়েছে পাড়ি হাতে নিয়ে আগুনের গোলা, যারা গড়েছিলো সুন্দর ঘর, এনেছিলো নাগরিক সুবাস গ্রহণ করেনি কেউ, শোয়নি কেউ, হাঁটেনি কেউ সেই নতুনত্বে, তারা সব সহজাত পথ খোঁজে অমরত্বে, আমি তাই তারপর সকালের খোলা রোদে শুকিয়েছি সবারRead More