আপনি যা পড়ছেন

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতা

ইতিপূর্বে রোদ্দুরে ডট কম মার্কসবাদী বিপ্লবী কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পদাতিক (১৯৪০) কাব্যগ্রন্থটি অনলাইনে সহজলভ্য করে দিয়েছে। আমাদের ইচ্ছে রয়েছে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কবিতার একটি অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করা। সেই ইচ্ছা থেকে এখানে কবির শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে। আশা করি এই শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো পাঠকদের ভালো লাগবে। আপনারা কবিতাগুলোর শিরোনামে

এখন ভাবনা

১. এখন একটু চোখে চোখে রাখো— দিনগুলো ভারি দামালো; দেখো, যেন আমাদের অসাবধানে এই দামালো দিনগুলো গড়াতে গড়াতে     গড়াতে গড়াতে         আগুনের মধ্যে না পড়ে। আমার ভালোবাসাগুলোকে নিয়েই আমার ভাবনা। এখন সেই বয়স, যখন দূরেরটা বিলক্ষণ স্পষ্ট— শুধু কাছেরটাই ঝাপসা দেখায়। এখন সেই বয়েস, যখন আচমকা মাটিতে প’ড়ে যেতে যেতে মনে হয় হাতে একটা শক্ত লাঠি থাকলে ভালো হত। ২. পিছনে তাকালে আজও দেখতে পাই— সিংহের কালো কেশর

বলছিলাম কী

বলছিলাম– না, থাক্ গে। যা হচ্ছে হোক, কে খণ্ডাবে লেখা থাকলে ভাগ্যে। পাকানো জট, হারানো খেই, চতুর্দিকের দৃশ্যপট এখনও সে-ই– শক্ত করে আঁকড়ে-ধরা চেয়ারের সেই হাতল। বিষম ভয়, কখন হয় ক্ষমতার হাতবদল। বলছিলাম– না, থাক্ গে! কী আসে যায় হাতে নাতে প্রমাণ এবং সাক্ষ্যে। মোড়লেরা ব্যস্ত বেজায় যে যার কোলে ঝোল টানতে। সারটা দেশ হাপিত্যেশে, পান্তা ফুরোয় নুন আনতে। চোর-বাটপার সাধুর ভেখে ফাঁদে কারবার আড়াল থেকে– হাতিয়ে জমি, বানিয়ে বাড়ি করছে টাকা কাঁড়ি কাঁড়ি কতক সাদা

ভুলে যাব না

চায়ের দোকান।                তুমুল তর্কে                 চিড় খাচ্ছে টেবিল। হঠাত আওয়াজ।                মাটিতে পা;                হাত আকাশে। মিছিল। দৃষ্টি বদল।     হাতে বেঁধেছ         হাত। করেছ ঋণী! ভুলে যাই নি।     ভুলে যাব না          জীবনে কোনোদিনই।।   পাড় ভাঙছে।      ছইয়ের ভেতর           আলো দুলছে। হাওয়া।   সকাল বেলা      ডাঙায় পৌঁছে           বন্দরে চা খাওয়া। গলা মিলিয়ে      গেয়েছি গান_           ‘মা আমার বন্দিনী’। ভুলে যাই নি।     ভুলে

চিরকুট

শত কোটি প্রণামান্তে হুজুরে নিবেদন এই—  মাপ করবেন খাজনা এ সন ছিটে ফোঁটাও ধান নেই। মাঠে ঘাটে কপাল ফাটে দৃষ্টি চলে যত দূর খাল শুক্‌নো বিল শুক্‌নো চোখের কোলে সমুদ্দুর। হাত পাতব কার কাছে কে গাঁয়ে সবার দশা এক তিন সন্ধে উপোস দিয়ে খাচ্ছি আজ বুনো শাক। পরনে যা আছে তাতে ঢাকা যায় না লজ্জা ঘটি বাটি বেচেছি সব আছে বলতে

পারাপার

আমরা যেন বাংলাদেশের চোখের দুটি তারা। মাঝখানে নাক উঁচিয়ে আছে_                থাকুক গে পাহারা। দুয়োরে খিল।               টান দিয়ে তাই                  খুলে দিলাম জানলা।               ওপারে যে বাংলাদেশ এপারেও সেই বাংলা।। 

যেতে যেতে

তারপর যে-তে যে-তে যে-তে এক নদীর সঙ্গে দেখা।। পায়ে তার ঘুঙুর বাঁধা পরনে উড়ু-উড়ু ঢেউয়ের নীল ঘাগরা। সে নদীর দুদিকে দুটো মুখ। এক মুখে সে আমাকে আসছি বলে দাঁড় করিয়ে রেখে অন্য মুখে ছুটতে ছুটতে চলে গেল। আর যেতে যেতে বুঝিয়ে দিল আমি অমনি করে আসি অমনি করে যাই। বুঝিয়ে দিল আমি থেকেও নেই, না থেকেও আছি। আমার কাঁধের ওপর হাত রাখল সময় তারপর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—        দেখলে! কাণ্ডটা দেখলে! আমি

নুতন বছরে

সোনা আমার, মানিক আমার বাছা রে, কী পেলে তুই খুশি হবি, কী নিবি নতুন এই বছরে? আমাকে দিও খেতে এক বাটি দুধ দিনে মাটির দুটো খেলনা দিও কিনে বরং এক বাক্স রং আকাশে দিও ঢেলে এবং বালাই মুছে মাটিতে দিও পেতে অফুরন্ত স্বপ্ন দেখার শান্তির পৃথিবী।

সুখটান

বাঁচার গর্বে মাটিতে তার পা পড়ছিল না ব'লে গান গাইতে গাইতে আমরা তাকে সপাটে তুলে দিয়ে এলাম         আগুনের দোরগোড়ায় লোকটার জানা ছিল কায়কল্পের জাদু ধুলোকে সোনা করার ছুঁ-মন্তর তাঁর ঝুলিতে থাকত যত রাজ্যের ফেলে-দেওয়া      রকমারি পুরনো জিনিস যখন হাত ঢুকিয়ে বার করত      কী আশ্চর্য         একেবারে ঝকঝকে নতুন লোকটা ছিল নিদারুণ রসিক পাড়-ভাঙ্গা নদীর মতন রাস্তায়      বরবেশে যখন তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল  

পায়ে পায়ে

সারাক্ষণ সে আমার পায়ে পায়ে          সারাক্ষণ          পায়ে পায়ে ঘুরঘুর করে। তাকে বলিঃ তোমাকে নিয়ে থাকার সময় নেই- হে বিষাদ, তুমি যাও এখন সময় নেই তুমি যাও। গাছের গুঁড়িতে বুক-পিঠ এক করে যৌবনে পা দিয়ে রয়েছে একটি উলঙ্গ মৃত্যু— আমি এখুনি দেখে আসছিঃ পৃথিবীতে গাঁক-গাঁক করে ফিরছে যে দাঁত-খিঁচানো ভয়, আমি তার গায়ের চামড়াটা খুলে নিতে চাই। চেয়ে দেখো হে বিষাদ— একটু সুখের মুখ দেখবে বলে আমাদের

Top