আপনি যা পড়ছেন

জনযুদ্ধের গান

বজ্রকণ্ঠে তােলাে আওয়াজ রুখবো দস্যুদলকে আজ, দেবে না জাপানি উড়ােজাহাজ ভারতে ছুঁ‘ড়ে স্বরাজ।   এদেশ কাড়তে যেই আসুক, আমরা সাহসে বেঁধেছি বুক, তৈরি এখানে কড়া চাবুক, চলছে কুচকাওয়াজ।   একলা তবু তাে পাঁচ বছর চীনের গেরিলা লড়ছে জোর, তাই তাে শহরে গ্রামে কবর পাচ্ছে জাপ বহর।   আমরা নই তাে ভীরুর জাত দেব নাকো হতে দেশ বেহাত, আজকে না যদি হানি আঘাত দুষবে ভাবী সমাজ।।

দুয়ো

১. আমি তো আর ফটোয় তোলা ছবি নই যে, সারাক্ষণই হাসতেই থাকব। আমার মুখে তো চোঙ লাগানো নেই, যে সারাক্ষণ গাঁক গাঁক করব আমার তো হাতে কুষ্ঠ হয়নি যে, সারাক্ষণ হাত মুঠো করে রাখব। ২. জামার নীচে পৈতে আর আস্তিনের তলায় তাবিজ ঢেকে এক নৈকষ্য কুলীনের ছাঁ আমাকে পরিস্কার বোঝাল দুনিয়াটাকে কীভাবে বদলাতে হবে।

এক অস্থায়ী চিত্র

বাঁশির শব্দে সবুজ আলোয় আস্তে আস্তে ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেন । প্ল্যাটফর্মের খালি বেঞ্চে, মনে করুন, আপনি একা বসে বসে শুধুমাত্র দেখছেন । সামনেই যেখানে যার থাকার কথা নিজের নিজের জায়গায়.. কেউ নেই। কাছের মানুষ মায়া কাটিয়ে চলেছে দূরপাল্লায়। তাকিয়ে দেখুন, এক মুহূর্তে সমস্ত মুখ ভিড় করেছে জানলায়— বুকের কাছে ফুলের গুচ্ছে নড়ছে কাছে-থাকার ইচ্ছে ওঠানো হাত বিদায় নিচ্ছে রুমাল উড়ছে রুমাল উড়ছে হঠাৎ..... দাঁড়িয়ে গিয়ে স্টেশনের সেই স্থিরচিত্র নড়িয়ে দিল ট্রেন। টেনেছিল নিশ্চয় কেউ চেন। আপনি তখন

স্বাগত

গ্রাম উঠে গিয়েছে শহরে— শূন্য ঘর, শূন্য গোলা, ধান-বোনা জমি আছে পড়ে। শুকনো তুলসীর মঞ্চে নিষ্প্রদীপ অন্ধকার নামে, আগাছায় ভরেছে উঠোন। সূর্য পাটে বসেছে কখন। রাখালের দেখা নেই – কোথাও গরুর পাল ওড়ায় না ধুলো; ঢেঁকিতে ওঠে না পাড়, একটি কলসীও জল ওঠায় না ঘাটে। বুনো ঘাসে পথ ঢাকে, বিনা শাঁখে সন্ধ্যা হয়, সূর্য বসে পাটে। তাঁতি বোনে না কো তাঁত, কলু আর

একটি কবিতার জন্য

একটি কবিতা লেখা হবে। তার জন্যে আগুনের নীল শিখার মতন আকাশ রাগে রী-রী করে, সমুদ্রে ডানা ঝাড়ে দুরন্ত ঝড়, মেঘের ধূম্র  জটা খুলেখুলে পড়ে, বজ্রের হাঁকডাকে অরণ্যে সাড়া, শিকড়ে-শিকড়ে পতনের ভয় মাথা খুঁড়ে মরে বিদ্যুৎ ফিরে তাকায় সে-আলোয় সারা তল্লাট জুড়ে রক্তের লাল দর্পণে মুখ দেখে ভস্মলোচন। একটি কবিতা লেখা হয় তার জন্যে। একটি কবিতা লেখা হবে। তার জন্যে দেয়ালে দেয়ালে এঁটে দেয়

জেলখানার গল্প

গাছ পাখি মাঠ ঘাট হাট দেখে            আসছিলাম চলে— হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন চিৎকার করে ডাকতে লাগলো ‘কমোরে-ড !’ ‘কমোরে-ড !’ ব’লে। ফিরে দেখি চেনামুখ দেখে থাকবো হয়তো কোনো মিছিলে-মিটিঙে; মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি ভাঙা গাল, একেবারে রোগা টিঙটিঙে খাটো ধুতি, মার্কামারা খাঁকির হাফশার্ট। কাছে যেতে মনে পড়ে গেলো অকস্মাৎ— এক সময় আমরা সব একই জেলে একসঙ্গে ছিলাম, মুখচ্ছবি মনে ছিলো; কিছুতেই মনে

ছেলে গেছে বনে

সুগত মৈত্র-কে ১. রাম তো গেলেন বনে দশরথ বাপ দুঃখ যা পেলেন মনে ছ’ রাত্রেই সাফ ভাবতেও আশ্চর্য লাগে, এই কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে সাতকাণ্ড বানিয়ে কী করে গেলেন তরে কঠিন এ সংসারে বাল্মীকি! আমি যদি লিখি, নিয়তিকে করতে আজ্ঞাবহ, মিথ্যে অন্ধ মুনিকে টানব না। লেখা বলতে, মনে পড়ল, ছিল বটে একদা বাসনা লেখক হবার শব্দবেধে ছিল দুরাগ্রহ (তখন তো আমারও কৌমার!) রাম রাম, এ ছি! মার্জনা

যা হট

নায়েব, গােমস্তা, বাঈজী, মাহুত, সহিস তোষাখানা, রাতেক দিন-করবার ডায়নামাে সব চাই, নইলে গ্রামে থাকাই বােকামাে— বােতলকে-বােতল করে দৈনিক হাবিস আত্মারাম খাঁচা ছেড়ে দিতেই চম্পট সে গদিতে বসতে গেল যে তার ওয়ারিশ   কালের সিপাই এসে ঘাড় ধরে তুলি দিয়ে বলল: যা হট!   উঠে আসছে শক, হুণ, কুষাণ, পহ্লবী স্বপ্নাদ্য কলমে, হচ্ছে ছাপাই বাঁধাই বই যা ভারী, বইতে

যদি কোনো দিন

যদি কোনদিন দিগন্তের উপরে মাথা তুলে দাড়াতে পারি আমি তোমাদের সব হিসেব মিটিয়ে দিয়ে দেবো। মেঘ বরণ কাঁশ ফুলের মত আঙুলে ক্যারাম খেলা দেখেছি জানালার বাইরে থেকে চোখ তুলে নিঃশব্দে কতদিন বলতে চেয়েছি শুধু ১ বার তোমরা আমাকে খেলতে নাও দেখেও দেখেনি তারা কোনোদিন । গোঁয়াল ঘরের পেছনে পোষা কুকুরের গলায় মুখ রেখে অস্ফুটে বলেছি দেখিস লালু যদি কোনদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারি. . ২৬বছরে ১ বারো দেখিনি

দূর থেকে দেখো

আমি আমার ভাবনাগুলোকে চামচে ক’রে নাড়তে থাকব— অন্য কোনো টেবিল থেকে তুমি শুনো। সামনে দাঁড় করানো থাকবে কাপ আমার কোলের ওপর দুটো আঙুল কুরুশকাঠির মত বুনবে স্মৃতির জাল— তুমি অন্য কোনো টেবিল থেকে দেখো। তারপর যখন জুড়িয়ে জল হয়ে যাবে সময় চেয়ারে শব্দ ক’রে আমি উঠে পড়ব পেছনে একবারও না তাকিয়ে আমি চলে যাব যেখানে বাড়িগুলোর গায়ে চাবুক মারছে বিদ্যুৎ যেখানে গাছগুলোকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে

Top