আপনি যা পড়ছেন

সে নিল বিদায়

সে নিল বিদায় না-বলা ব্যথায় আমি ছিনু অভিমানে রজনীগন্ধা জানে সে কেন তাহারে সাধিল না হায়! ছিল মোর চোখে জল দেখি নি যাবার আগে, যূথী কেন কহিল না, - ‘যেও না, শপথ লাগে।’ পথে তৃণদল ছিল সে কেন রে যেতে দিল, ফুটিল না কেন নিঠুরের পায়।।

কথা কও দাও সাড়া

কথা কও দাও সাড়া; শেষ রাগিণীর বীণ বাজে প্রাণে, ফুটেছে বিদায়-তারা। মনে পড়ে সব কাজে তব মণিহার বিরহ রচিত নিশীথ শয়ন মাঝে, আজ কোথা তুমি কত দূরে আমি হিয়া মোর হিয়া ছাড়া। আমার গানের একটি কথা যে ভালবেসেছিলে কত, শত গান আজি গাহি আর ভুলি ভুলি না তো ব্যথা যত। আজো মোর মনে পড়ে আমার কাঁদনে কাঁদিয়াছ তুমি তবু কেন গেলে সরে; ভুল নিয়ে বুঝি

আমার ব্যথার গানে তোমায় আমি

আমার ব্যথার গানে তোমায় আমি ছুঁয়ে গেলাম বারে বারে কেমন ক’রে ভুলবে তারে।। অশ্রু আমার বাদল হয়ে তোমায় কাঁদায় র’য়ে র’য়ে, আমার জ্বালা প্রদীপ হয়ে জ্বলে তব অভিসারে।। কণ্ঠমালায় হয় নি যে ঠাঁই পথপারের কুসুম আমি, সুবাস দিয়ে তোমার পায়ে জানাই প্রণাম দিবসযামী। শেষ হয়েছে বিফল চাওয়া, এবার শুধু এড়িয়ে যাওয়া, যে নাম ছিল মনের মাঝে মুছে যাবে নয়নধারে।।

আমি ছিনু একা বাসর জাগায়ে

আমি ছিনু একা বাসর জাগায়ে হৃদয়ের ব্যথা ছিল মিশে। প্রদীপে শুধানু, ‘কিছু জান কি গো?’ শুধু সে কহিল, ‘সে যে মায়ামৃগ,      কিছু তার আলো কিছু ঢাকা ছায়ে।’ কহিনু কাঁদিয়া, ‘যে গান পাঠানু     শুনিলো না সে কি?’ দ্বার খুলে দেখি সে গান আমার       ফিরে এল এ কি! কেতকী কহিল, ‘তারে কোথা পাই, ফুটেছিনু পথে আজি ঝ’রে যাই,   দিয়ে

এ গান তোমার শেষ করে দাও

এ গান তোমার শেষ করে দাও      নূতন সুরে বাঁধো বীণাখানি। আঁধার পথে যাত্রা এবার,            শেষ হয়েছে দিনের জানাজানি।। কান্না হাসির দিনগুলো সব           একে একে হলো নীরব, চির রাতের অজানা সুর              বাজাও তবে কঠিন আঘাত হানি।। ডুবলো যদি একটি রবি               জ্বললো দিনের চিতা নিভলো যদি একটি বাতি,           জ্বালাও দীপান্বিতা। বাঁধলে যারে যায় না বাধা            তার

জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল

জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল। মুখপানে যার কভু চাওনি ফিরে, কেন তারি লাগি আঁখি অশ্রু ব্যাকুল মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল জীবনে যারে কভু দাওনি মালা? চিরদিন যারে তুমি দিয়েছো হেলা, হৃদয় লয়ে শুধু খেলোছো খেলা বিরহে তারি আজি বলো গো কেন, শুন্য লাগে এই ধরণী

ছিল চাঁদ মেঘের ওপারে বিরহীর ব্যথা লয়ে

ছিল চাঁদ মেঘের ওপারে বিরহীর ব্যথা লয়ে বাঁশরীর সুর হয়ে কে গো আজ ডাকিল তারে, ছিল চাঁদ... ধরণীর ধুলি থেকে চামেলি এসে কহে ডেকে এস প্রিয় আমারই দ্বারে------ছিল চাঁদ চাঁদ কহে সুদূরে আমি মোর প্রেম জোছনা সে কেঁদে মরে তব বাসে ওগো ফুল কেমনে নামি ---- চাঁদ কহে সুদূরে আমি চামেলি কহিল তবে আমি যাই দূর

চৈত্র দিনের ঝরা পাতার পথে

চৈত্র দিনের ঝরা পাতার পথে দিনগুলি মোর কোথায় গেল, বেলা-শেষের শেষ আলোকের রথে।। নিয়ে গেল কতই আলো কতই ছায়া, নিল কানে-কানে-ডাকা নামের মনে-মনে-রাখা মায়া, নিয়ে গেল বসন্ত সে আমার ভাঙা কুঞ্জশাখা হতে।।   দূরে দূরে কোথায় আমার স্বপনখানি কয়ে বেড়ায়, ‘এই তো আমি, প্রাণে প্রাণে চিরদিনের জানাজানি।।’   কোথায় আমার নয়ন-আলো কোন প্রদীপের আলোর সনে কেমন করে সে মিলালো! আবার সে কোন সুদূর

তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে

তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে। নিয়ে গেছ হায় একটি কুসুম আমার কবরী হতে। নিয়ে গেছ হিয়া কী নামে ডাকিয়া নয়নে নয়ন দিয়া আমি যেন হায় ফেলে-যাওয়া-মালা কূলহারা নদীস্রোতে।   খেলাঘরে কবে ধূলির খেলায় দু’টি হিয়া ছিল বাঁধা আমার বীণাটি তোমার বাঁশিটি একসুরে ছিল সাধা। সে খেলা ফুরালো, সে সুর মিলালো, নিভিলো কনক আলো; দিয়ে গেছ মোরে শত পরাজয় ফিরে এস জয়রথে।   টিকা: গানটির সুরকার ও শিল্পী

দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কি রে?

দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কি রে? হাসবি তোরা বাঁচবি তোরা, মরণ যদি আসেই ফিরে। অন্ধকারের শিশু তোরা আলোর তৃষায় মিছে ঘোরা, আপন হৃদয় জ্বালিয়ে দিয়ে জ্বালবি সবার প্রদীপটিরে।।   তোদের প্রাণে বন্দি হয়ে কাঁদে ভুখা ভগবান। মুখে তবু খেলার বাঁশি যখন বুকে রয় পাষাণ। হেলায় হেসে নিলি মরণ তাইতো মরণ পেলো লাজ। ধুলির সাথে মিশে

Top