Main Menu

প্রেরণার আরেক নাম ভ্যান গগ

চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গগ (অন্য বানানে: ভ্যান গখ) (৩০ মার্চ ১৮৫৩ — ২৯ জুলাই ১৮৯০) ছিলেন এমন শক্তি যা মানুষের মাঝে হতাশা ঝেড়ে প্রেরণা যোগায়। মানুষকে নতুনভাবে বাঁচতে শেখায়। ভিনসেন্ট উইলিয়াম ভ্যান গগের জন্ম জুন্দার্ত, নেদারল্যান্ডে ৩০ মার্চ ১৮৫৩ সালে  ও মৃত্যু হয় ফ্রান্সে ২৯ জুলাই ১৮৯০। ওলন্দাজ এই চিত্রশিল্পী প্রকৃতির রুক্ষ সৌন্দর্যের ফুটিয়ে তুলে অতান্ত আবেগময় ভাবে নিজের প্রতিভায় রং ব্যবহার করেন। তাঁর কাজ বিখ্যাত ছিল যা বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলায় সুদূরপ্রসারি প্রভাব রেখেছিলো। ভ্যান গগ ছিলেন অভিজাত পরিবারের সন্তান। এরপরও তাঁর আচরণে অভিজাতের অহংকার প্রকাশ পায় না।

ভ্যান গগের মাঝে প্রগতিশীলতার বিষয়টি লুকিয়ে ছিল তা প্রকাশ পায় কয়লা শ্রমিকদের সাথে কাজ করার মধ্যে দিয়ে।  তিনি শ্রমিকদের সাথে থেকেছেন তাঁদের খাবার খেয়েছে এমনকি কয়লা শ্রমিকরা যেভাবে থাকতে ঠিক সেই ভাবে থাকতেন।  এছাড়াও তিনি কৃষকের সাথে জমিতে গিয়েছেন। একজন কৃষক যেমন শস্যদানা পাওয়ার জন্য রোদে-বৃষ্টিতে-শীতের সাথে লড়ায় করে ভ্যান গগও তেমনটি করেছে একটি সুন্দর ও কৃষকের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য।

জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য তিনি ঘর থেকে বের হন ২১ বছর বয়সে। তারপরে আর থাকার জন্য ঘরে ফেরা হয়নি। ঘরে ফিরেছিল কাজ করার জন্য। ২১ বছর বয়সে তিনি ব্রেবাঁতে চাচার ছবি বিক্রি করার প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনে কাজ করেছেন। কাজটা পছন্দের ছিলনা তার কিন্তু কখন অবহেলা করেন নি।

এই কাজের মাধ্যমে ভ্যান গগের বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে ধারণা হয়েছিল। শিল্প সম্পর্কে ধারণা হয়েছল। শিল্প সম্পর্ক কারো অরুচিকর আচরণ তিনি পছন্দ করতেন না। তাই মধ্যবিত্তদের সাথে প্রায় গোল বাঁধা। এই ব্যবসার মাধ্যমে তাঁর প্রশ্ন জাগে মধ্যবিত্তরা কেনো ছবি কিনতে পারে আর দরিদ্ররা কেনইবা ছবি কিনতে পারেনা। মধ্যবিত্তদের সম্পর্কে ভ্যান গগের ধারণা হয় ‘মধ্যবিত্তরা হীনবুদ্ধিতা এবং বাণিজ্যিক জীবনের এক পরিপূর্ণ প্রতীক’। একসময় বুঝতে পারেন চাকরিটা তার পক্ষে করা সম্ভব না। গ্রহণ করেন বাবার পছন্দ অনুযায়ী ধর্মযাজকের কাজ।

ভ্যান গগের চিত্র কৃষকের আলু রোপণ

ভ্যান গগ মনে করতেন অভিজাত এলাকার চেয়ে গরিব, শ্রমিকদের মাঝে ধর্মের প্রয়োজন বেশি। তিনি দেখেছিলেন কয়লা শ্রমিকরা কঠিন জীবন যাপন করত। অসুস্থ হলে চিকিৎসার টাকা থাকতো না। আগামীতে কি খাবে তার চিন্তা প্রতি মুহুর্তে করতে হত। জীবনের সাথে শ্রমিকের খারাপ দর কষাকষির সম্পর্ক। তাই তাদের সান্ত্বনা অনুভব করার জন্য ঈশ্বর চিন্তার প্রয়োজন। এজন্য তিনি বোরিনেজে খনি অঞ্চলে কাজ শুরু করেন। কয়লা শ্রমিকদের কাছে ভ্যান গগ বন্ধু হয়ে উঠলেন।

শ্রমিকদের প্রতি মালিকদের শোষণ দেখে ধর্মযাজকের কাজ ছেড়ে শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করেন। অনেক চেষ্টা করেও যখন দেখছেন শ্রমিকদের মালিকের জাতাকল থেকে রক্ষা করতে পারছেন না তখন আবার হতাশা নেমে আসে। ভ্যান গগ হতাশার মুহুর্তগুলোতে সবসময় মানসিক শক্তি দিত ছোট ভাই থিও। শ্রমিকদের দুর্দশা দেখে যখন হতাশায় বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন ঠিক সেই সময় ছোট ভাই থিও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। থিও এর সাথে পরামর্শ করে ভ্যান গগ ছবি আঁকার জগতে পা বাড়ান। থিও বলেন ছবি আঁকা হলে ছবিগুলো তাঁর কাছে পাঠাতে এবং এর জন্য মাসে তাকে কিছু টাকা দিবে যা ছবির উপকরণ কেনা ও জীবন পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হবে। এর পরেই শুরু হল জীবনের নতুন অধ্যায়।

ভ্যান গগ ছবি আঁকাতে যখন হাতেখড়ি নেন তখন তাঁর বয়স ২৮ বছর। ছবি আঁকার জন্য ভ্যান গগের প্রথম দৃষ্টি পড়ে শ্রমজীবীদের উপর। কয়লা শ্রমিকের জীবনচিত্র ভেন গগের ক্যানভাসে প্রথম স্থান পায়। ভ্যান গগের ছবির বিষয় ছিল কৃষক, শ্রমিক, প্রকৃতি। ছবির মধ্যে গাঢ় রং ব্যবহার করতেন। দিনের শুরুতে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা, প্রখর আলোর তেজস্বী রূপ, শ্রমিক, কৃষকের কাজের উদ্দাম, আলো আঁধারের খেলা সব কিছু তিনি অকৃত্রিম ভাবে তুলে এনেছেন তাঁর ক্যানভাসে।

প্রকৃতি বাস্তবে যে গাঢ়ত্ব ধারণ করে ভ্যান গগ সেই রূপ তাঁর ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন। ভ্যান গগ ছিলেন প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি অতি সংবেদনশীল। তিনি জানতেন যদি সাধারণ মানুষের মত জীবনযাপন করেন তাহলে ছবি আঁকতে পারবেন না। ভ্যান গগ বিশ্বাস করতেন, “হীরক বা রত্ন খোঁজার চাইতে একটি ভালো ছবি তৈরি করা এখন আর সহজ কর্ম নয়।” । ছবি আঁকা একটি সৃজনশীল কাজ আর জগৎতে সব সৃজনশীল কাজই সবচেয়ে কঠিন কাজ। ভ্যান গগ এই কঠিন কাজটাকেই ভালবেসেছেন।  

তথ্যসূত্র:

১. আর্ভিং স্টোন, অনুবাদক সিদ্দিকুর রহমান লাস্ট ফর লাইফ, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ জুন ২০০৪।

আরো পড়ুন

জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন।

তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে । বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *