You are here
Home > Author: Dolon Prova

মোগল আমলে দাক্ষিণাত্য দখল অভিযান

জাহাঙ্গীরের আমালে দাক্ষিণাত্যের যুদ্ধ সপ্তদশ শতকের মোগল-সম্রাটরা সমগ্র দক্ষিণ-ভারত নিজেদের পদানত করার আশা ত্যাগ করেন নি। ওই সময়ে মোগল-সেনাবাহিনীর দাক্ষিণাত্য-অভিযান শুরু করার পক্ষে প্রধান অগ্রসর ঘাঁটি ছিল গুজরাট। আহমদনগর, বিজাপুর ও গোলকুণ্ডা-রাজ্য মোগলদের বশ্যতাস্বীকারে রাজি ছিল না। এই তিনটি রাজ্য সর্বদাই নিজেদের সীমানা-সংলগ্ন ভূখণ্ডের দাবিদাওয়া নিয়ে পরস্পরের মধ্যে লিপ্ত থাকত যুদ্ধ-বিগ্রহে,

শাহ জাহান পরিচালিত ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতালোভ

শাহ জাহান ও মহব্বত খাঁর পরিচালিত ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতা লোভ আহমদনগর জয় করার পুরস্কারস্বরূপ জাহাঙ্গীর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র খুররমকে শাহ জাহান (অর্থাৎ দুনিয়ার শাসনকর্তা) উপাধি দিলেন ও তাঁকে নিযুক্ত করলেন সমৃদ্ধ গুজরাট রাজ্যের শাসনকর্তা। ওই সময়ে জাহাঙ্গীর তাঁর প্রধানা মহিষী নুর জাহানের একেবারে হাতের মুঠোয় চলে গিয়েছিলেন এবং এই প্রমত্ত আফিমখোর

মোগল আমলে গুজরাটের অর্থনৈতিক অবস্থা

মোগল-সাম্রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত এলাকা ও সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের কেন্দ্র ছিল গুজরাট। অপুর্ব চমৎকার নানা ধরনের কাপড় বোনা হতো সেখানে, নীলের চাষ হতো, মূল্যবান রক্তিমাভ ক্যরনীলিআন পাথরের নানা হাতে তৈরি জিনিস প্রস্তুত হতো আর তৈরি হতো আলঙ্কারিক নানা অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি। অঞ্চলটির অভ্যন্তর প্রদেশেও ব্যবসা-বাণিজ্য সু-বিকশিত ছিল এবং বেশির ভাগ শহরে

বাংলায় মোগল-শাসনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

যদিও আকবরের রাজত্বকালে বাংলা মোগল-শাসনের অধীনে আসে তবু সাম্রাজ্যের এই প্রত্যন্ত প্রদেশটিতে মোগলদের শাসন যথেষ্ট নিশ্চিত ও নিরাপদ ছিল না। বাংলার ‘জমিদার’ ও ‘জায়গিরদার'রা তাঁদের ভূ-সম্পত্তিগুলিকে নিজেদের বাহুবলে স্বাধীন রাজ্যে পরিণত করতে সচেষ্ট ছিলেন সর্বদাই। বাংলার ‘জমিদার’দের বশ্যতাস্বীকার করাতে মোগলদের সময় লেগেছিল চার বছর — ১৬০৮ থেকে ১৬১২ খীস্টাব্দ পর্যন্ত।

জাহাঙ্গীরের রাজত্বকাল ও রাজ্য বিস্তার

সপ্তদশ শতকের গোড়ার দিকে জাহাঙ্গীরের মোগল-সিংহাসনে আরোহণ আকবরের ঘোষিত ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি থেকে কিছু-পরিমাণে বিচ্যুতির সুচক। এর ফলে হিন্দু, জায়গিরদার’দের অধিকাংশের মধ্যে এবং মুসলিমদের কিছু-কিছু অংশের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়। এর অল্প কিছুদিন পরে জাহাঙ্গীরের জ্যেষ্ঠপুত্র খুসরো পাঞ্জাবে পালিয়ে যান ও সেখানে এক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। শিখদের পঞ্চম গুরু অর্জুন

মোগল শাসনামলে সমাজ-চিন্তা ও গণ-আন্দোলন

আকবরের শাসনামলে গণ-আন্দোলন: আবুল ফজলের বাবা শেখ মুবারক ‘মাহদি’বাদী আন্দোলনের অনুসারক ছিলেন এবং এই আন্দোলন আবুল ফজলের চিন্তাধারাকে বহুলাংশে প্রাভাবিত করেছিল। শহরের মুসলিম ব্যবসায়ী ও কারুশিল্পীদের মধ্যে প্রসারলাভ করে এই আন্দোলনটি। পঞ্চদশ শতকে গুজরাটে মীর সয়ীদ মুহম্মদ (১৪৪৩ থেকে ১৫০৫ খ্রীস্টাব্দ) নামে এক প্রখ্যাত পণ্ডিত নিজেকে ‘মাহদি’ (অর্থাৎ, মানবজাতির ত্রাণকর্তা বলে

আকবরের আমলে শাসন ও ধর্মীয় সংস্কার

আকবরের শাসন সংস্কার ১৫৬৯ খ্রীস্টাব্দে আকবর নির্দেশ দেন আগ্রা থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে বাবর যেখানে রাণা সঙ্গকে যুদ্ধে পরাস্ত করেছিলেন সেই সিক্রিতে নতুন একটি শহর-নির্মাণের। ‘পাতশাহের’ হুকুম অনুযায়ী আকবরের দরবারের আমির ওমরাহরা আগে যেখানে ধু-ধু মাঠ ছিল সেই বিশাল প্রান্তরে বহুবিধ প্রাসাদ ও প্রমোদ-উদ্যান নির্মাণ করালেন। এইভাবে লাল বেলে-পাথরের তৈরি অপরুপ

আকবরের শাসনামলে ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

আকবরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা: মোগল-রাষ্ট্রে প্রধান প্রশাসনিক বিভাগ ছিল রাজস্ব-সম্পর্কিত বিভাগ। এ-বিভাগের প্রধান ছিলেন ‘দিওয়ান’। রাজস্ব-আদায়কারী কর্মচারিরা বেশির ভাগই হিন্দু ছিলেন। সৈন্যবিভাগে সৈন্যদের খাদ্যবস্ত্র ইত্যাদির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ও খাজাঞ্চি ‘মির-ই-বখশি’ ‘জায়গিরগুলির বিলিবণ্টন তত্ত্বাবধান করতেন এবং তিনিই ফৌজী কুচকাওয়াজের সময় পরিদর্শন করতেন সৈন্যদের ও তাদের সাজসরঞ্জামের। এছাড়া অন্যান্য ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেন বাহিনীগুলির সেনাধ্যক্ষরা।

আকবরের রাজত্বকাল ও রাজ্যবিস্তারের ইতিহাস

আকবরের রাজত্বকাল: শের শাহ মৃত্যুর ফলে পুনরায় একবার দিল্লীর সিংহাসন নিয়ে আফগান সামন্ত-ভূস্বামীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। শেষপর্যন্ত ক্ষমতা দখল করেন শের শাহের কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি রাজত্ব করেন ১৫৫৪ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। এর মত্যুর পরে আবার প্রচণ্ড সংঘর্ষ বাধে, আর তা বাধে সিংহাসনের চারজন দাবিদারের মধ্যে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিলেন হুমায়ন, তিনি

মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে

দিল্লীতে সুলতানশাহীর অস্তিত্ব, মুসলিম সামন্ত-ভূস্বামীদের এক শাসক সম্প্রদায়ের উদ্ভব, হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের দীর্ঘকালীন সহ-অবস্থিতি এবং এই দুই সম্প্রদায়ের ওপর পারস্পরিক প্রভাব—এই সবকিছুই উত্তর ভারতে এক নতুন ও শক্তিশালী সাম্রাজ্য স্থাপনের পথ প্রশস্ত করে। যদিও এই উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে সমুদ্র-তীরবর্তী অঞ্চলগুলি —যেমন, মালাবার, গুজরাট, করমণ্ডল ও বঙ্গ দীর্ঘকাল ধরে

Top