You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > Author : ঋত্বিক ঘটক

চলচ্চিত্রের স্বরূপ কী?

ফরাসি ভাষায় “engage” বলে একটা কথা আছে। আমার মনে হয়, সর্ব শিল্পে সেইটিকে গ্রহণ করা উচিত। নিরালম্ব, বায়ুভূত শিল্প কখনাে শিল্পের পর্যায়ে ওঠে না। মানুষটিকে কোথাও না-কোথাও আত্মীকরণ করতে হয়। ভালাে না বাসলে শিল্প জন্মায় না। এর প্রকাশভঙ্গি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, শিল্পীর মেজাজের উপর নির্ভর করে। কিন্তু মূল সূত্রটি সেই ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’। ভালাে করে তাকিয়ে দেখুন, প্রথমে সত্য। সত্য সিদ্ধ না হলে কোনাে শিল্পই শিল্পের পর্যায়ে ওঠে না। আরো পড়ুন

‘কোমল গান্ধার’ প্রসঙ্গে

চলচ্চিত্র ও সাহিত্যের সম্পর্ক

‘কোমল গান্ধার’ নির্মাণকালে কোনাে সুনির্দিষ্ট তত্ত্বকে অনুসরণ করা হয় নি। সমস্ত অবরােহী তত্ত্বগুলি প্রকৃতপক্ষে বাস্তবের সুসংবদ্ধ মূল্যায়নের প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর সে কারণেই সব তত্ত্বই বাস্তবের তুলনায় কম নির্ভরযােগ্য। কোনাে পূর্বনির্ধারিত তত্ত্বের আক্ষরিক অনুসরণ সৃষ্টিশীলতার পক্ষে বিশেষ অনুকুল নয়। তা ছাড়া বিশিষ্ট শৈল্পিক সমস্যার সম্মুখীন হলে সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ভঙ্গি বেছে নেওয়া আদৌ অযৌক্তিক নয়। আরো পড়ুন

দুই বাংলায় আমার দেখা মানুষ

পূর্ব বাংলায় আমি সম্প্রতি একটা ছবি করেছি ‘তিতাস একটি নদীর নাম'। সেটা করতে গিয়ে ঢাকা থেকে প্রায় আশি মাইল দুরে আড়িচাঘাট বলে একটা জায়গা আছে সেখান থেকে লঞ্চ নিয়ে পদ্মা-যমুনার সংগমস্থল পেরিয়ে প্রায় বারো মাইল দূরে আমায় কাজ করতে যেতে হতো। তীরেই একটি মুসলমান পল্লী, তার পরে একটি হিন্দু মালো

শিল্প ও সততা

১৯৬১ সালে ‘কানে’ চিত্র সাংবাদিকরা মিকেলেঞ্জেলো আন্তোনিওনিকে তার ছবি সম্বন্ধে কিছু বলতে বলেছিলেন। তাতে তিনি যে উক্তি করেছিলেন তার মর্মার্থ মোটামুটি দাঁড়ায় এই :- ছবি করার গোড়ার শর্ত হচ্ছে সততা। নিজের অনুভূতি এবং উপলব্ধির সৎপ্রকাশ। আরো পড়ুন

ডকুমেন্টারি ফিল্ম

ডকুমেন্টারি ফিল্ম সম্পর্কে আমাকে আপনারা কিছু লিখতে বলেছেন। (ডকুমেন্টারি ফিল্মের বাংলা হিসেবে তথ্যচিত্র বা দলিলচিত্র আমার পছন্দ নয়।) ও-ধরনের ছবি সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। কাজেই আমার কথাগুলোকে আপনারা দয়া করে প্রামাণ্য বলে ধরে নেবেন না। এককালে বিহার সরকারের হয়ে উপজাতিদের বিষয়ে কিছু ছবি করা গিয়েছিল, মাঝে পুনার বিপর্যয় ঘটে, সেখানেও

শিল্প মানেই লড়াই …

প্রশ্ন: একান্নর-পরবর্তী ঢাকা সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী? উত্তর: ঢাকা এখন আগেরকার সরলতা খুঁজে পাচ্ছি না। এখন দেখছি আভিজাত্য চারদিক জাঁকিয়ে বসেছে। জীবন যখন বদলায়, মানুষও বদলায়। জীবন হচ্ছে বহতা নদীর মতো। প্রশ্ন: নবজাত রাষ্ট্র বাংলাদেশের সমস্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে ঋত্বিক বাবু বলেছিলেন- উত্তর: বিহারী পাঞ্জাবীরা আগে ডমিনেট করেছিল, বাঙালিরা সেই শেকড় এবং শেকল

ছবিতে বাংলাদেশ

একটা বিরাট জোচ্চুরির ফলে বাংলাদেশ কেটে দু'ভাগ হয়েছে। এবং কর্তাব্যক্তিরা চেষ্টাচরিত্তির করে দুই ভাগ বাংলার মধ্যে যোগাযোগটা কেটে দিয়েছেন। কিন্তু বাংলা বাঙালির, ছবি যদি করতে হয় তা হলে পুরো বাংলাদেশকে ভুললে চলবে না। এই কথাটা আমি আগেও নানাভাবে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি, জানি না কতখানি কৃতার্থ হয়েছি। কথাগুলো মনে পড়ল। কারণ,

মার্কসবাদ প্রসঙ্গে

কার্ল মার্কস-এর সাথে দীর্ঘ আলোচনা প্রয়োজন। একেবারে প্রথম থেকে তিনি কি বলতে চাচ্ছেন, কেমন করে আর কেন বলতে চাচ্ছেন তার হদিস শুদ্ধু। বদলানোর তাগিদ আমাদের তাড়াহুড়োতে ফেলে দিয়েছে। তার সাথে জুড়েছে আলসেমি। ফলে মার্কসের জ্ঞান রাজ্যে না ঢুকে আমরা তার কড়ি-বরগা গুণে সময় কাটিয়েছি বেশি। তিনি দিতে চেয়েছিলেন বিশ্লেষণের পদ্ধতি,

Top