আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > Author: সলিল চৌধুরী

বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা

বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা — আজ জেগেছে এই জনতা, তোমার গুলির, তোমার ফাঁসির, তোমার কারাগারের পেষণ শুধবে তারা ওজনে তা এই জনতা।। তোমার সভায় আমীর যারা, ফাঁসির কাঠে ঝুলবে তারা তোমার রাজা- মহারাজা, করজোড়ে মাগবে বিচার ঠিক জেনো তা এই জনতা।। তারা,  নতুন প্রাতে প্রাণ পেয়েছে, প্রাণ পেয়েছে প্রাণ পেয়েছে তারা,  ক্ষুদিরামের রক্তবীজে প্রাণ পেয়েছে প্রাণ পেয়েছে তারা,

কোনো এক গাঁয়ের বধুর

কোনো এক গাঁয়ের বধুর কথা তোমায় শোনাই শোনো রূপকথা নয় সে নয়। জীবনের মধুমাসের কুসুম- ছিঁড়ে- গাঁথা মালা শিশির ভেজা কাহিনী শোনাই শোনো।।   একটুখানি শ্যামল ঘেরা কুটিরে তার স্বপ্ন শত শত দেখা দিত ধানের শীষের ইশারাতে দিবা শেষে কিষাণ যখন আসতো ফিরে ঘি মউ-মউ আম কাঁঠালের পিঁড়িটিতে বসতো তখন সবখানি মন উজাড় ক’রে দিত তারে কিষাণী সেই কাহিনী শোনাই শোনো।   ঘুঘু ডাকা ছায়ায় ঢাকা গ্রামখানি কোন

ও আলোর পথযাত্রী

ও আলাের পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেম না এ বালুরচরে আশার তরণী তােমার যেন বেঁধাে না, আমি শ্রান্ত যে, তবু হাল ধরাে, আমি রিক্ত যে, সেই সান্ত্বনা তব ছিন্ন পালে জয় পতাকা তুলে  তূর্য তােরণ দাও হানা ও আলাের পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেম না আহা বুক ভেঙে

পথে এবার নামো সাথী

পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে এ পথ চেনা। জনস্রোতে নানান মতে মনোরথের ঠিকানা, হবে চেনা, হবে জানা।। অনেক তো দিন গেল বৃথাই এ সংশয়ে, এসো এবার দ্বিধার বাধা পার হ'য়ে—  তোমার আমার সবার স্বপন মিলাই প্রাণের মোহনায় কিসের মানা? তখন এ গান তোলে তুফান নবীন প্রানের প্লাবণ আনে দিকে দিকে; কিসের বাধা? বিপদ বরণ মরণ - হরণ, চরন ফেলে

হেই সামালো

হেই সামালো ধান হো কাস্তেটা দাও শাণ হো জান কবুল আর মান কবুল, আর দেবনা আর দেবনা রক্তে বোনা ধান মোদের প্রাণ হো।। চিনি তোমায় চিনি গো জানি তোমায় জানি গো, সাদা হাতির কালা মাহুত তুমিই না? পঞ্চাশে লাখ প্রাণ দিসি মা-বোনেদের মান দিসি, কালোবাজার আলো কর তুমিই না? মোরা তুলব না ধান পরের গোলায় মরব না আর ক্ষুধার জ্বালায় মরব

প্রান্তরের গান আমার

প্রান্তরের গান আমার, মেঠো সুরের গান আমার হারিয়ে গেল কোন্ বেলায়,  আকাশে আগুন জ্বালায় মেঘলা দিনের স্বপন আমার ফসল বিহীন মন কাঁদায়। মাঝে মাঝে উদাস হাওয়ায় এলোমেলো কি যে শুনি, বুঝি তাহার ব্যাথার ছোঁয়ায় হারায় আমার সুরের ধ্বনি ঝড়ের হাওয়ায়, পাতার মতন ঝরিয়া যায়— যায় যায় যায়! ক্লান্ত ডানায় নীড় খুঁজি, অথৈ নদীর তীর খুঁজি, শুধুই আমার যায়

পথ হারাবো বলেই এবার পথে নেমেছি

পথ হারাবো বলেই এবার পথে নেমেছি। চেনা- পথের ধাঁধায় আমি অনেক ধেঁধেছি।। নিষেধের পাহারাতে ছিলেম রেখে ঢেকে সে কখন গেছে ফিরে আমায় ডেকে ডেকে। নয়ন মেলে পাবার আশায় অনেক কেঁদেছি এই নয়নে পাবো বলেই নয়ন মেদেছি।। চেনা- শোনা- জানার মাঝে কিছুই চিনি নি যে অচেনায় হারায়ে তাই আবার খুঁজি নিজে সে যে গান শুনিয়েছিল হয়নি সেদিন শোনা সে গানের

আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা

আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা। আমি কাঁদলাম বহু হাসলাম এই জীবন জোয়ারে ভাসলাম আমি বন্যার কাছে ঘূর্ণির কাছে রাখলাম নিশানা।।   কখন জানিনা সে, সে যে আমার জীবনে এসে যেন স্বঘন শ্রাবনে প্লাবনে দু’কূলে ভেসে শুধু হেসে ভালোবেসে।।   যতো যতনে সাজানো স্বপ্ন হলো সকলি নিমেষে ভগ্ন আমি দূর্বার স্রোতে ভাসলাম তরী অজানা নিশানা।।   ওগো ঝরা পাতা যদি আবার

ধন্য আমি জন্মেছি মা

ধন্য আমি জন্মেছি মা তোমার ধূলিতে, আমার জীবন-মরণে তোমায় চাই না ভুলিতে। আমি তোমার তরে স্বপ্ন রচি আমার যত গান, তোমার কারণেই দেব জীবন বলিদান ওগো জন্মভূমি মা গো মা – মাটি তোমার সোনা খাঁটি মাঠে সোনার ধান, ক্ষেত খামারে, কলে খাটে কোটি সোনার প্রাণ। তবু নিজভূমে পরবাসী হায় রে দিনমান । মাগো তোমার পানে চেয়ে যায় –   হিমালয়

মন-ময়ূরী ছড়ালো পেখম তারি

মন-ময়ূরী ছড়ালো পেখম তারি। সোনালী আকাশে রঙে রঙে ভরা এমন দিনটি যদি থাকিতে তুমি মোর পাশে। বর্ষা নাই চোখে চোখে আমি তাই সেধে সেধে এনেছি আঁখিজল বরষায়, ভরসা নাই তুমি মোর কাছে নাই বুকে বুকে বেঁধেছি অসহায় ভরসায়। জানি — দিন রজনী। কেঁদে কেটে যাবে। তোমারই আশে ।।   ছন্দ নাই, চারিদিকে দ্বন্দ্ব হায় দুপায়ের শিকলে করেছি নূপুর তাই। গন্ধ নাই, এ জীবন

Top