আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > Author: সুভাষ মুখোপাধ্যায়

কিংবদন্তী

শেষ করেছে পেয়ালা।/ বুড়োর এখন দেয়ালা।।/ হেঁড়ে গলা, মুখ গোমরা।/ নিশ্চয় কোনো হোমরা-চোমরা ॥/ ওঠবার জন্যে মই।/ পড়বার জন্যে বই।।/ সকলেই ভেড়ের ভেড়ে,/ সকলেই এক রা।/ তাতে গণতন্ত্রের/ থাকে নাকো ফ্যাকড়া।। আরো পড়ুন

উড়ো চিঠি

বসে রয়েছি পা ছড়িয়ে/ খরায়/ স্মৃতির নৌকো আটকে আছে/ হাঁটুজলের চড়ায়/ শুকনো ডালে হলদে পাতার/ মাটিতে চোখ/ যেখানে রক্ত, ছিন্নভিন্ন/ পাখির পালক/ / হৃদয়ের লাল ডাকবাক্‌সে/ ফেলা চিঠিতে আরো পড়ুন

বুড়ি বসন্ত

ফুল থাক ফুলের মতো/ খাঁড়া খাঁড়ার মতো/ ফুল তুলে কেউ যেন আমাকে কাটতে/ খাড়া তুলে কেউ আমাকে/ যেন গন্ধ শোঁকাতে না আসে/ যার যে জায়গা/ সেখানেই সে যেন/ মাটি কামড়ে প’ড়ে থাকে/ জল থাক জলের মতো/ আগুন আগুনের মতো/ এ ওর পা মাড়িয়ে দিয়ে/ জল যেন জ্বালাতে/ আগুন যেন জুড়োতে না চায় আরো পড়ুন

গদির মধ্যে যদি

গদি/ তার মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে থাকে/ জী-হাঁর পিছে লুকিয়ে রেখে হাঁ-কে/ শান্তশিষ্ট ল্যাজবিশিষ্ট এক পশুরাজ/ যদি/ ঘাঁটি/ যতই কেন আগলে রাখুক সদলে সবলে/ কথার সঙ্গে কাজের অমিল মাত্রাছাড়া হলে/ আস্তে আস্তে পায়ের তলায় সরে যাবেই/ মাটি আরো পড়ুন

স্বর্গীয়

দরজা ভেজানো ছিল/ অনভ্যাসে/ নত হতে না পারায়/ মাথা ঠুকে গিয়েছে ঝনকাঠে/ ফুটো মালসা, জল শেষ/ উঠোনে তুলসীর প্রেতচ্ছায়া/ নাচায় প্রদীপ/ দাওয়ার ওপর রাখা/ জলচৌকি/ পা-ধোয়ার জল, গামছা/ কাঠের খড়ম আরো পড়ুন

সপ্তাহ প্রতিদিনই

শিব নেই। ছি! ছি !/ সেই দুঃখে/ দক্ষযজ্ঞে/ যান নি দধীচি।/ বৃত্রাসুর হানা দিলে/ স্বর্গচ্যুত/ হল দেবতারা –/ খোদ ইন্দ্র রণে ভঙ্গ দেন।/ তখন দধীচি ছাড়া/ দেবগণ/ অনন্য উপায় ।/ দধীচি দিলেন প্রাণ। আরো পড়ুন

ঘরের বাইরে, বাইরের ঘরে

ঘরের বাইরে বাইরের ঘরে/ শিশিরে শ্রাবণে/ জলবৃষ্টিতে তুফানে ও ঝড়ে/ সভায় বা নির্জনে/ স্বচ্ছন্দে যে নিজের জন্যে পারে/ ঘর বেঁধে নিতে/ বটের ঝুরিতে/ আলোয় অন্ধকারে আরো পড়ুন

এসো হে

আমাকে চিনবে না।/ অনেকটা রাস্তা উজিয়ে/ আজ এই পড়ন্ত বেলায়/ আমি আসছি।/ মাথাভর্তি মাঠ ভাঙা ধুলো,/ দুটো পা-য়/ কাটায় কাটাছেঁড়ার দাগ।/ ৰলি, চেনা লোকেরা সব/ গেল কোথায় গা?/ গোধূলির শূন্য দাওয়ায়/ এমন কেউ নেই/ যে তার মুখ ঘোমটায় ঢেকে/ পিঁড়ি পেতে দেয়,/ কনুই ছুঁয়ে এগিয়ে দেয়/ এক ঘটি তৃষ্ণার জল। আরো পড়ুন

ঘরে না, বাইরে না

এক পক্ষে/ তিন লক্ষ অক্ষৌহিণী/ নারায়ণী সেনা—/ প্রত্যেকে দুর্ধর্ষ যোদ্ধা/ সংশপ্তক/ ভয় কাকে বলে তা জানে না।/ যে জন্যেই হোক/ ( এরাও কৃষ্ণেরই জীব ! )/ প্রাণ দেয় হেলায়।/ দ্বারকায় বসে দুর্যোধন/ চেটে নেয় জিভ –/ আজ তার প্রাণে বড় সুখ।/ অন্য পক্ষে/ নিরস্ত্র একাকী/ যুদ্ধপরাঙ্মুখ।/ শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং।/ ভূ-ভারতে একালে কেবা কী।/ তাকালেই বোঝা যাবে। আরো পড়ুন

দৃশ্যত

রাস্তা দিয়ে যেই যায়, খোলা জানলা, উঁকি মেরে দেখে –/ কে একজন সারাক্ষণ গদি-আঁটা কাঠের চেয়ারে/ টেবিলে দু-ঠ্যাং তুলে গালে হাত দিয়ে বসে থাকে।/ চুলগুলো খোঁচা খোঁচা, ভাঙা গাল, দেখতেও চোয়াড়ে,/ মাঝখানে সামান্য ভুঁড়ি, যে রকম হয় ভারি ট্যাঁকে—/বেড়া ভেঙে ভাবনা ঢুকলে সম্ভবত দেয় সে খোঁয়াড়ে। আরো পড়ুন

Top