Main Menu

বড় কুবো বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি

দ্বিপদ নাম: Centropus sinensis সমনাম: Polophilus sinensis Stephens, 1815 বাংলা নাম: বড় কুবো ইংরেজি নাম: Greater Coucal. জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য Kingdom: Animalia বিভাগ/Phylum: Chordata শ্রেণী/Class: Aves পরিবার/Family: Centropodidae গণ/Genus: Centropus, Illiger, 1811; প্রজাতি/Species: Centropus sinensis (Stephens, 1815)

ভূমিকা: বাংলাদেশের পাখির তালিকায় Centropus গণে বাংলাদেশে রয়েছে ২টি প্রজাতি এবং পৃথিবীতে রয়েছে এর ২৬টি প্রজাতি। বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রজাতি দুটি হচ্ছে ১. বাংলা কুবো এবং ২. বড় কুবো। আমাদের আলোচ্য প্রজাতিটির নাম হচ্ছে বড় কুবো।

বর্ণনা: বড় কুবো বড় কালো পর্যায়ক্রমিক বিন্যস্ত পালকে লেজওয়ালা কাকের মত পাখি (দৈর্ঘ্য ৪২ সেমি., ওজন ২৫০ গ্রাম, ডানা ১৯ সেমি., ঠোঁট ৩.২ সেমি., পা ৫.৮ সেমি., লেজ ২৪ সেমি.)। পিঠ তামাটে ও দেহতল চকচকে কালো। উজ্জ্বল তামাটে ম্যান্টল ও ডানা ছাড়া পুরো দেহই কালো। পর্যায়ক্রমিক সজ্জিত পালকের লেজ কালো হয়। চোখ লাল এবং ঠোঁট, পা, পায়ের পাতা ও নখর কালো। ছেলে ও মেয়েপাখিরা দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথার চাঁদি ও ঘাড়ের পিছনটায় ফ্যাকাসে-লালচে ফুটকি এবং ম্যান্টল, পিঠ, ডানা ও পাছায় ডোরাসহ দেহের উপরিভাগ বাদামি-কালো । কালচে বাদামি দেহতলে সরু সাদা ডোরা থাকে। অনুজ্জ্বল তরুণ পাখির উড্ডয়ন পালক ও লেজে ডোরা থাকে। ৬টি উপ-প্রজাতির মধ্যে C. s. sinensisC. s. intermedius বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

স্বভাব: বড় কুবো আলোকময় বন, বাগান ও মানববসতির কাছাকাছি বাস করে। সাধারণত একা বা জোড়ায় বিচরণ করে। মাটিতে ধীরে হেঁটে এবং হঠাৎ শিকারকে ঠোঁট ও পা দিয়ে চেপে ধরে শিকার করে। খাবার তালিকায় পোকামাকড়, শামুক, ব্যাঙ, টিকটিকি, সাপ, ডিম, পাখির ছানা, ইঁদুর ইত্যাদি রয়েছে। একই অবস্থানে বসে দিনের অধিকাংশ সময় কাটায় ও ভূচর পাখি। ওড়ার চেয়ে বেশ দৌড়াতে পারে। সচরাচর অনুরক্তিক উচ্চ থেকে নিচু গভীর ও প্রতিধ্বনিত সুরে ডাকে: কুপ-কুপ…। জুন-আগস্ট মাস প্রজনন ঋতু। পূর্বরাগের সময় ছেলেপাখি লেজ নিচু করে, ডানা নামায় ও কর্কশ গলায় চিৎকার করে স্কি-ই-ইয়া-আও ডেকে মেয়েপাখিকে অনুসরণ করে। ঘন ঝোপ, বাঁশবন ও ঘাসে পল্লব ও পাতা দিয়ে পার্শ্বীয় প্রবেশপথসহ খাদ ওয়ালা পেয়ালার মত বাসা বানায় এবং মেয়েপাখি ৩-৪টি ডিম পাড়ে। ডিম সাদা, মাপ ৪.০×২.৮ সেমি.।

বিস্তৃতি: বড় কুবো বাংলাদেশের সুলভ আবাসিক পাখি; সব বিভাগের বনপ্রান্তে ও গ্রামাঞ্চলে পাওয়া যায়। চীন, ফিলিপাইন ও ভারত উপমহাদেশসহ (মালদ্বীপ ব্যতিত) পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।

অবস্থা: বড় কুবো বিশ্বে ও বাংলাদেশে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। বিগত তিন প্রজন্ম ধরে এদের সংখ্যা কমেছে, তবে দুনিয়ায় এখন ১০,০০০-এর অধিক পূর্ণবয়স্ক পাখি আছে, তাই এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এই প্রজাতি পৌঁছেনি। সে কারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern LC) বলে ঘোষণা করেছে।[২] বাংলাদেশের ১৯৭৪[১] ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এই বড় কুবোকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।[৩]

বিবিধ: বড় কুবোর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ চীনের গজালের মত নখর ওয়ালা পায়ের পাখি (গ্রীক:kentron = গজালের মত নখর, pous = পা ; ল্যাটিন: sinensis =চীনের)।

তথ্যসূত্র:

১. মো: আনোয়ারুল ইসলাম ও সুপ্রিয় চাকমা, (আগস্ট ২০০৯)। “পাখি”। আহমাদ, মোনাওয়ার; কবির, হুমায়ুন, সৈয়দ মোহাম্মদ; আহমদ, আবু তৈয়ব আবু। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ ২৬ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা – ৭৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।

২. “Centropus sinensis“, http://www.iucnredlist.org/details/22684229/0,  The IUCN Red List of Threatened Species। সংগ্রহের তারিখ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮।

৩. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৫৬।

আরো পড়ুন

অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *