আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > ঘাস > দ্রোণের ঔষধি গুণাগুণ

দ্রোণের ঔষধি গুণাগুণ

দ্রোণ ও শ্বেতদ্রোণ হচ্ছে এক ধরনের ছোট আকারের ঘাস জাতীয় আগাছা। এটিকে শাক হিসেবে কচি অবস্থায় ব্যবহার করা যায় এবং ফুল থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে। এছাড়াও এদের ঔষধি কাজে ব্যবহার করা হয়। এখানে কিছু ব্যবহার উল্লেখ করা হলো।

আরো পড়ুন শ্বেতদ্রোণ একটি ঔষধি গুণাগুণসম্পন্ন শাক

১. কামলা বা জন্ডিস রোগ: যাকে চলতি কথায় আমরা ন্যাবা বলি। কোন অসাত্ম্য অর্থাৎ যেটি আপনি খেতে অভ্যস্ত নন বা দূষিত খাদ্য খাওয়ার পরিণতিতে হয় পিত্তবিকার, সেই বিকৃতপিত্ত যখন বায়ু কর্তৃক চালিত হয়ে যকৃতে উপস্থিত হয় এবং পরে মূত্রগ্রন্থিতে সে সঞ্চিত হতে থাকে, তারই পরিণতিতে হয় জ্বর, পিপাসা, আহারে অরুচি, মূত্রকৃচ্ছ্রতা ও দাহ; আরও সঞ্চিত হলে গায়ের, হাতের তালু, পায়ের তলার রং হলুদ হতে থাকে, তার সঙ্গে প্রস্রাবের রংও হলুদ হয়। এদের পক্ষে দ্রোণপুষ্প দুই প্রকারে ব্যবহার করা হয়। যেটির বাহ্য ব্যবহার (External application) হলো দ্রোণ গাছের পাতা বেটে, সেটা হাতে মাখিয়ে রগড়াতে হয়, তারপর আস্তে আস্তে জল ঢালতে হবে আর রাগড়াতে হবে; যদি প্রকৃতই কামলা বা জন্ডিস হয়ে থাকে, তাহলে হাত থেকে হলুদ আভাযুক্ত জল ঐ পাতা বাটার সঙ্গে মিশে বেরুতে থাকবে; তাই প্রাচীন বৈদ্যগণের মধ্যে প্রথমেই এই দ্রোণ পাতা বাটা হাতে মাখিয়ে এটা কামলা রোগ না অন্য কোনো কিছু, সেটা নির্বাচন করার পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। বর্তমানে আর এক প্রকার জন্ডিস দেখা যায়, সেটাকে বলা হচ্ছে ভাইরাস জন্ডিস; তার লক্ষণও একই, তবে সেটা দ্রুতগতিতে শরীরকে দূষিত করে ফেলে। যদি ভাইরাসজনিত জন্ডিস  হয়, তাহলে সংহিতার যুগেও তাঁরা অবগত ছিলেন। আর আভ্যন্তর ঔষধ হিসেবে দ্রোণপাতার রস ৫ ফোঁটা ৭ থেকে ৮ চা চামচ আখের বা ইক্ষুর রসে অথবা গ্লুকোজের জলে মিশিয়ে দু’বেলা খেতে দিতে হবে। আর পথ্য হিসেবে প্রাচীনেরা সমস্তদিন বালকদের পক্ষে ১২০ মিলিলিটার থেকে ২oo মিলিলিটার বা আধ পোয়া থেকে এক পোয়া পর্যন্ত আখের রস খেতে দিতেন, তবে অগ্নিবল কম থাকলে রসের মাত্রা হিসেব করে ব্যবস্থা করতে হয়। বর্তমানে পাশ্চাত্য চিকিৎসকগণ আখের রসের পরিবর্তে গ্লুকোজ ব্যবহার করে থাকেন।

২. ঘুসঘুসে জ্বর: যে জ্বর ৩ সপ্তাহের মধ্যে সুচিকিৎসার অভাবে অথবা ভুল চিকিৎসায় তাঁর শরীর দোষমুক্ত হলো না, সেক্ষেত্রে পুনরাক্রমে ভয়ও তাঁর গেল না; পরিণতিতে সেই দোষাংশ রক্তগত হবে, যার ফলে অল্প অল্প জ্বর মাঝে মাঝে হাতে থাকবে এবং যকৃৎ বা লিভার প্লীহাও আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। এক্ষেত্রে ফুল সমেত দ্রোণপুষ্প গাছকে কলার পাতায় জড়িয়ে, একটু মাটি লেপে, তাকে পোড়াতে হবে; তারপর মাটি ছাড়িয়ে গাছগুলি একটু থেঁতো করে, ছেঁকে, সেই রস এক চা চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে দু’বার দুধসহ খেতে দিতে হবে; তবে দুধ পাওয়া না গেলে জলের সঙ্গেও খাওয়ানো যায়। একে দেশগাঁয়ে বলা হয় ঘুসড়ো করে খাওয়ানো।

৩. নাকভরা সর্দিতে: ঝেড়ে ফেললেই আবার ভরে যায়, বুকে পিঠে যেন জগদ্দল পাথরের মতো চাপ ধরে আছে; এক্ষেত্রে দ্রোণপুষ্প ফুল ৩ থেকে ৪ গ্রাম পিষে নিয়ে অল্প গরম জলসহ খেলে সর্দিটা বেরিয়ে যাবে এবং বুকে পিঠের চাপাটাও কমে যাবে।

৪. শিশুদের ক্রিমিতে: শিশু কাঁদে, কিন্তু এর কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, পেট যে ফাঁপা তাও নয়, এক্ষেত্রে বুঝতে হবে শিশুর পেটে ক্রিমি আছে; সেখানে দ্রোণের পাতার রস ৩ থেকে ৪ ফোঁটা একটু জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে দিতে হবে। এটাতে ক্লিমির উপশম হবে।

৫. শিশুদের দুধে শ্বাসে: এক্ষেত্রে দ্রোণপাতার রস ২ থেকে ১ ফোঁটা একটু মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে দিতে হয়, এর দ্বারা ঐ দুধে শ্বাসটা প্রশমিত হবে।

৬. দূষিত ঘায়ে: কোনো কিছুতেই পুরে উঠতে চায় না প্রতিদিনই ক্লেদ জন্মে, সেক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ চা চামচ দ্রোণের পাতার রস এক কাপা গরম জলে মিশিয়ে ঈষদুষ্ণ অবস্থায় সেই জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

৭. দাঁতের পোকা লাগালে: অনেক সময় আমরা দেখতে পাই দাঁতগুলো কালো হয়ে সেখানে গর্ত হয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে দ্রোণের পাতার রস বা সমগ্র গাছ পাতা নিলেও চলবে;  ২ থেকে ৩ চা চামচ ঈষদুষ্ণ জলে মিশিয়ে সেটা ২ থেকে ৩ বারো ৫ থেকে ৭ মিনিট করে মুখে পুরে বসে থাকতে হবে, তারপর ওটা ফেলে দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে এর সঙ্গে অল্প একটু লবণ দিলে ভালো হয়।

রাসায়নিক গঠন

(a) Essential oil. (b) Alkaloid. (c) Fatty alcohols. (d) Glucoside.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ      

১. আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৪, পৃষ্ঠা,২৪২-২৪৪।

আরো পড়ুন

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top