আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > বীরুৎ > দোপাটি আলংকারিক বর্ষজীবী বীরুৎ

দোপাটি আলংকারিক বর্ষজীবী বীরুৎ

বৈজ্ঞানিক নাম: Impatiens balsamina L., Sp. Pl.: 938 (1753). সমনাম: Impatiens cornuta L. (1753). ইংরেজি নাম : Garden Balsam, Lady Slipper. স্থানীয় নাম: দোপাটি। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots অবিন্যাসিত: Asterids বর্গ: Ericales পরিবার: Balsaminaceae গণ: Impatiens প্রজাতি: Impatiens balsamina.

ভূমিকা: দোপাটি হচ্ছে বলসামিনাসি পরিবারের ইম্পেসেন্স গণের একটি সপুষ্পক বিরুৎ। এটিকে বাংলাদেশে আলংকারিক উদ্ভিদ হিসেবে বাগানে বা গৃহে চাষাবাদ করা হয়। বাড়ির টবে বা বাগানের শোভাবর্ধন করে এই  বিরুৎ।  এর আকার বেশি বড় হয় না তাই অল্প জায়গাতেই জন্মাতে পারে।

বর্ণনা: দোপাটি বর্ষজীবী বীরুৎ। এরা প্রায় ৮০ সেমি উঁচু হয়। এদের কান্ড ঋজু, সরল বা অনিয়মিত শাখান্বিত, তরুণ অবস্থায় রোম বিহীন বা রোমশ।

পত্র একান্তর, ভল্লাকার-উপবৃত্তাকার দৈর্ঘ্য ২.৭ থেকে ৯.০ সেমি ও প্রস্থ ১.২ থেকে ২.৫ সেমি। নিম্নপ্রান্ত কীলকাকার, শীর্ষ সূক্ষ্মাগ্র, প্রান্ত দপ্তর, বৃন্ত ৩-১০ সেমি লম্বা, গ্রন্থিল, মঞ্জরীপত্র রৈখিক-ভল্লাকার, অস্পষ্ট।

ফুল একটি বা ২ বা ৩ টির গুচ্ছে, সাদা বা ফ্যাকাশে লাল হতে পারে। বৃন্ত সরু, ১-২ সেমি লম্বা, রোমশ বা রোম বিহীন। বৃত্যংশ ৩ টি, পার্শ্বীয় বৃত্যংশ ২ টি, সরু ডিম্বাকৃতি-ভল্লাকার, নিচের বৃত্যংশ স্পষ্ট নৌকাকৃতি, ফুল ১৩-১৯ মিমি লম্বা হয়, দলপুট সূত্রাকার, রোম বিহীন বা সর্বত্র বা আংশিক সূক্ষ্ম রোমশ। পাপড়ি ৫টি, পৃষ্ঠীয় পাপড়ি আবরণযুক্ত, ১০-১৪ মিমি লম্বা, পার্শ্বীয় ৪ যুক্ত পাপড়ি ২৩-২৫ মিমি লম্বা, প্রতি জোড়ার উপরের পাপড়ির আকার নিচের পাপড়ির আকারের এক তৃতীয়াংশ, উপরের পাপড়ি দীর্ঘায়ত, ৯-১১ X ৪-৭ মিমি, অসম।

পুংকেশর ৫ টি, পুংদন্ড খাটো, পরাগধানী সংসক্ত। গর্ভাশয় ঘন রোমশ, ৫-কোষী, ডিম্বক অনেক, গর্ভমুন্ড গর্ভদন্ডবিহীন, ৫ দন্তক। ফল ক্যাপসিউল, ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমাবৃত। বীজ গোলাকার, জালিকাকার ।

ফুল ও ফল ধারণ: মার্চ থেকে অক্টোবর মাসে দোপাটির ফুল ফোটে ও বীজ হয়। [১]

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ১০, ১২, ১৪ [২]

আবাসস্থল ও চাষাবাদ:  উন্মুক্ত পরিবেশে ও ভিজা মাটিতে, সচরাচর আবাদী জমি বা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এই দোপাটির বীজ বোপন করলে পুষ্ট চারা জন্মে। দোপাটির পাকা ফল চাপ দিলে বীজ ফেটে বের হয়। দোপাটি প্রধানত খরিপ মৌসুমের ফুল। বীজ দ্বারাই এর বংশবিস্তার হয়।[৩]

বিস্তৃতি: আদিনিবাস সম্ভবত ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উষ্ণ ও নাতিশীতোষ্ণ ও শীতপ্রধান অঞ্চলের সর্বত্র বাহারি উদ্ভিদরূপে জন্মে। বাংলাদেশর সব জেলার মাটিতে জন্মাতে দেখা যায়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্বের দিক: পাতা ও মূলের পুলটিস তৈরি করে ক্ষত, তৃকের প্রদাহ ও ফাটল নখে ব্যবহার করা হয়।

ফুল বলবর্ধক এবং পোড়া ঘা, বাষ্পদাহ ঠান্ডা রাখতে এবং বাতরোগে উপকারী। আঙ্গুলের নখ রং করতে ফুল ব্যবহার করা হয় (van Walkenburg and Bunyapraphatsara, 2002)। বাহারি উদ্ভিদরূপে চাষ করা হয়।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: ব্রুনাইয়ে মহিলারা অনিয়মিত রজ:স্রাবের জন্য মূলের ক্বাথ ব্যবহার করে থাকেন (van Valkenburg and Bunyapraphatsara, 2002)। বীজ আহার্য।

 অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) দোপাটি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে দোপাটি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।[৪]

তথ্যসূত্র:                                                                  

১. এম আহসান হাবীব (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২-৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২. Kumar, V. and Subramaniam,, B. 1986 Chromosome Atlas of Flowering Plants of the Indian Subcontinent. Vol.1. Dicotyledons Botanical Survey of India, Calcutta. 464 pp.  

৩. ড. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ফুলের চাষ প্রথম সংস্করণ ২০০৩ ঢাকা, দিব্যপ্রকাশ, পৃষ্ঠা ১০৬। আইএসবিএন 984-483-108-3

৪. এম আহসান হাবীব প্রাগুক্ত, প. ২-৩

আরো পড়ুন

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top