আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > বীরুৎ > কালোজিরার ১০টি ভেষজ গুণ

কালোজিরার ১০টি ভেষজ গুণ

পুরনো পেটের অসুখে কালোজিরে আয়ুর্বেদ মতে কালোজিরে উষ্ণবীর্য বা গরম-কড়া, কটু-তিক্ত রস (তেল), রুচি ও বল বৃদ্ধি করে, মেধা বৃদ্ধি করে, অগ্নিদীপক (খিদে বাড়িয়ে দেয়), পাচক (খাবার হজম করায়), ধারক (মল রোধ করে), গর্ভাশয় বিশোধক অর্থাৎ মেয়েদের গভাশয়ের পক্ষে ভাল। কালোজিরে বদহজম, পেটের অসুখ, বাতের জন্যে পেট ফাঁপা, গুম, রক্তপিত্ত বা পিত্তের জন্য রক্তাধিক্য-অবমন), কৃমি, কফ, বায়ু, আমদোষ, পুরনো পেটের অসুখ, বাত, ব্রণ ও শূল রোগে ব্যবহার করা হয়।

সুস্থ থাকতে কালোজিরের প্রয়োগ :

১. কফ দূর করে: বঙ্গসেনের মতে, নতুন কফ রোগে কালোজিরের চূর্ণ নস্যের মতো নাকে টানলে উপকার হয়।

২. বুকের দুধ বাড়ে: প্রসবের পরে কালোজিরের ক্বাথ খেলে গর্ভাশয়ের দ্বার সঙ্কুচিত হয় এবং স্তনের দুধ বেড়ে যায়।

৩. পেটের অসুখে: পেটের অসুখে, খিদে হলে, বদহজম হলে পুরনো পেটের অসুখে চিতামূলের (কবিরাজ্ঞি দোকানে পাওয়া যায়) সঙ্গে কালোজিরে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৪. মাসিক বা ঋতু স্রাবজনিত সমস্যায়: কালোজিরে মেয়েদের ঋতু স্রাব করায়, সেইজন্যে ঋতু ঠিক মতো না হলে (রজঃকৃচ্ছ্র), ঋতু রোধে (রজরোধে) বা বিলম্বিত ঋতুতে (বিলম্বিত রজে) অল্প পরিমাণে খেলে ফল পাওয়া যায় বেশি মাত্রায় খেলে গর্ভস্রাব হয়।

৫. পা ফোলা কমাতে: কালোজিরে জলে বেটে প্রলেপ দিলে হাত পা ফোলা (হস্ত ও পায়ের শোথ) কমে। এছাড়া কালোজিরে বিষ নাশ করে। কালোজিরে বাঁটা লাগালে সব রকল্পে ফুলো কমে।

৬. কৃমি নাশ করে: সিকা বা ভিনিগারে দিয়ে বেটে কালোজিরে খেলে কৃমি নষ্ট হয়।

৭. ব্যথা কমায়: কালোজিরে সিকতে ভিজিয়ে শুকলে মাথা ব্যথা সারে। গরম জলে কালোজিরে দিয়ে কুল্লি করলে দাঁতের ব্যথা কমে। কালোজিরে বেটে প্রলেপ দিলে মাথা ব্যথা, সন্ধির ব্যথা, বা জয়েন্টের ব্যথা বা গটি ব্যথা উপকার হয়।

৮. মুখ উজ্জ্বলতা বাড়ায়: ঘিয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মুখ উজ্জ্বল হয় এবং রং ফরসা বা বর্ণ পরিষ্কার হয়।

 ৯. ক্ষত শুকায়: কালোজিরা মোমে পুড়িয়ে এবং মোমের সঙ্গে মিশিয়ে ক্ষতস্থানে লাগালে ক্ষত শুকিয়ে যায় ।

১০. মাথার চুল গজায়: দীর্ঘকাল মাথায় (বেটে নিয়ে) মালিশ করলে নতুন চুল গজায়।

হাকিমি বা ইউনানি মতে: কালোজিরে খেলে শরীরে দৃষিত রস এবং ধাতুর শোধন হয়। কালোজিরে জলে সেদ্ধ করে খেলে সন্তানের প্রসব তাড়াতাড়ি হয়।

এছাড়া বায়ু কৃমিনাশক, পাচক অথাৎ হজম করায় তাড়াতাড়ি, প্রস্রাব বৃদ্ধি করে (মূত্রকারক), গলাভাঙা সারিয়ে দেয় (স্বরভঙ্গ নাশক)। বিষম জ্বর অথাৎ পুরনো জ্বর বা ম্যালেরিয়ায়, দাদ ধবল ও চুলকুনিতে উপকার হয়।

কালোজিরা পরিমাণ মত খেলে প্রস্রাব পরিষ্কার হয়, ঋতু পরিষ্কার হয় এবং গুনের দুধ বেশি পরিমাণে বেরোতে থাকে। কান থেকে পুঁজ পড়া, বমি ভাব, পিলে বড় হয়ে যাওয়া, খাস নিতে কষ্ট হওয়া সব কিছুতেই উপকার বা আরাম দেয়। এছাড়া সুরমা তৈরি করে চোখে দিলে ছানি সারে।

কালোজিরার ঝাঝালোভাব উপকার দেয় যাদের সর্দির জন্যে নাক বন্ধ হয়ে গিয়ে যে কাশি হয়, বুকের ব্যথা, বমনেচ্ছা বা গা বমি ভাব, পাণ্ডু বা কামলা রোগে (জনডিসে) প্লীহা এবং বায়ুর জন্যে যে পেটে তীব্র ব্যথা হয় বা শূল রোগে। এক্ষেত্রে কালোজিরে বেটে বাইরে থেকে প্রলেপ লাগালে বা কালোজিরে বাটা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে কালোজিরে পাতলা কাপড়ের ছোট পুঁটলিতে বেঁধে শুকলে আরাম পাওয়া যায়। কালজিরে পুঁটলি করে বেঁধে শুকলে মাথা ব্যথা সেরে যায়।

তথ্যসূত্রঃ

১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, ২১০-২১২।

আরো পড়ুন

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top