Main Menu

বন জুঁই দক্ষিণ ও দক্ষিণ পুর্ব এশিয়ার আলংকারিক ফুল

বৈজ্ঞানিক নাম: Jasminum auriculatum Vahl. সমনাম: জানা নেই। ইংরেজি নাম : Jasmine. স্থানীয় নাম: জুঁই, যুথি । জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots অবিন্যাসিত: Asterids বর্গ: Lamiales পরিবার: Oleaceae গণ: Jasminum প্রজাতি: Jasminum auriculatum.

বর্ণনা: বন জুঁই একধরনের লতা বা আরোহী গুল্ম অথবা ভাইন। এটি একটি মধ্যপ্রসারি উদ্ভিদ। এদের কান্ড কিছুটা রোমশ থেকে কোমল রোমাবৃত থাকে এবং বৃত্তাকার হয়।

পাতাগুলো যৌগিক, প্রতিটি পাতায় তিনটি বা কোনো কোনো পাতায় পাঁচটি করে পত্রক থাকে। পত্রকগুলো দৈর্ঘ ২.০ থেকে ৪.৫ ও প্রস্থ ১.০ থেকে ২.৫ সেমি হয়। পাতা দেখতে সরু উপবৃত্তাকার থেকে ডিম্বাকৃতি অথবা স্থুল ডিম্বাকার। পাতার ত্বক রোমশ থেকে কাগজের মতো মসৃণ। এদের শীর্ষ তীক্ষ্ণ থেকে গোলাকৃতি, নিম্নপ্রান্ত গোলাকৃতি, কিনারা অখন্ড, মধ্যশিরার উভয়পাশে প্রাথমিক শিরা ২-৩টি, পার্শ্বশিরা ১২ জোড়া, পত্রবৃন্ত ২-৫ মিমি লম্বা। পুষ্পমঞ্জরী প্রান্তীয় অথবা সর্বশীর্ষের পাতার কক্ষে এবং সহায়ক কাক্ষিক বিটপ বিশিষ্ট, নিয়ত পুষ্পবিন্যাসবিশিষ্ট যৌগিক মঞ্জরী, উপছত্রমঞ্জরী, ২-৬ সেমি লম্বা, ১২ থেকে অসংখ্য পুষ্পবিশিষ্ট, পুষ্পবৃন্ত ১-২ মিমি লম্বা। বৃতির নল ১.৫-২.০ মিমি লম্বা, কোমল রোমাবৃত থেকে রোমশ, খন্ডক ৪-৫টি, গোলাকৃতি, তীক্ষ, ০.৫-১.০ মিমি লম্বা, খন্ডকগুলোর পাদদেশ অবশিষ্ট বৃতির নলের সাপেক্ষে কিছুটা উথিত। দলমন্ডল রঙ্গনাকার, সাদা, সুগন্ধিময়, নল ১.০-১.৬ সেমি লম্বা, খন্ডক ৫-৭টি, সরু, তীক্ষ, ৭-৯ x ২-৪ মিমি।

পুংকেশর ২টি, পুংদন্ডগুলো খর্বাকার, পরাগধানীগুলো অনুদৈর্ঘ্য বরাবর বিদারিত হয়। গর্ভাশয় দ্বি-প্রকোষ্ঠী, প্রতি প্রকোষ্ঠে ডিম্বক ২টি, গর্ভদন্ড প্রান্তীয়, গর্ভমুণ্ড দ্বি-খন্ডিত। ফল বেরী, উপবৃত্তীয় থেকে বৃত্তাকার, ৬-৮ x ৫-৬ মিমি, পরিপক্ক অবস্থায় বেগুনি কালো।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২৬ (Mukherjee, 1981).

আবাসস্থল: অরণ্য, ঝোপ-ঝাড় এবং তৃণভূমি, কখনও কখনও লাগালো হয়।

বিস্তৃতি: পেনিনসুলার ভারত এবং থাইল্যান্ড। হেইনিগ (১৯২৫) বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলা থেকে ইহা লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়াও নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা এই গাছ জন্মে থাকে।

অর্থনৈতিক ব্যবহার/গুরুত্ব/ক্ষতিকর দিক: ইহার পুষ্প ক্ষয়রোগে ব্যবহৃত হয়। শিকড় বিরেচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: ভারতের লোধা আদিবাসীরা শিশুর এ আমাশয় চিকিৎসায় ইহার কান্ডের বাকলের ক্বাথ গোলমরিচের পেষ্টের সাথে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকে। সাঁওতাল আদিবাসীরা মুখে বসন্ত রোগের ফলে সৃষ্ট দাগ দূর – করতে ইহার পাতা সরিষার তেলে ফুটিয়ে ঐ তেল  ব্যবহার করে থাকে।

বংশ বিস্তার: বীজ এবং কর্তিত কান্ডের সাহায্যে এর বিস্তৃতি হয়।

প্রজাতিটির সংকটের কারণ: আবাসস্থল ধ্বংস।

সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা: তথ্য সংগৃহিত হয়নি (NE), কিন্তু ধারণা করা হয় ইহা একটি বিরল প্রজাতি।

গৃহিত পদক্ষেপ: সংরক্ষণের জন্য কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপ: প্রজাতিটি পুনরায় খুঁজে বের করার জন্য চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান চালাতে হবে। ইহার আবাসস্থলের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং মূল আবাসস্থলে প্রজাতিটিকে টিকে থাকতে সহায়তা করতে ইহার আবাসস্থলের সঠিক তত্তাবধান করতে হবে। ইহাকে সংরক্ষণের জন্য স্ব-স্থানে এবং স্ব-স্থানের বাইরে উভয় ধরণের সংরক্ষণ পদ্ধতিই অবলম্বন করতে হবে।

তথ্যসূত্র:

১. রহমান, এম অলিউর (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩৪৪-৩৪৫। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *