Main Menu

চামেলি গ্রীষ্ম প্রধান দেশের সুগন্ধি ফুল

বৈজ্ঞানিক নাম: Jasminum grandiflorum. সমনাম: Jasminum officinale L. var. grandiflorum (L.) Kobuski (1932). ইংরেজি নাম: Spanish_Jasmine, Catalonian Jasmine. স্থানীয় নাম: চামেলী, চামেলিকা, জ্যোতি। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots অবিন্যাসিত: Asterids বর্গ: Lamiales পরিবার: Oleaceae গণ: Jasminum প্রজাতি: Jasminum grandiflorum

ভূমিকা: চামেলির বৈজ্ঞানিক নাম: Jasminum grandiflorum   ইংরেজি: Catalonian Jasmine বা Spanish_Jasmine। এটি Oleaceae পরিবারের Jasminum গণের লতানো বা অর্ধলতানো গুল্ম।

বর্ণনা:  চামেলি মসৃণ পত্রঝরা গুল্ম। এটি লম্বায় ২ থেকে ৪ মিটার ও উপশাখাগুলো বৃত্তাকার, কোণীয় বা খাঁজকাটা হয়। পাতার সামনের দিক  ডানাযুক্ত খন্ডিত থেকে  যৌগিক। পাতার আকার ৫ থেকে ১২ সেমি লম্বা, পাতা ৬ থেকে ১১টি হয়ে থাকে, পাতার প্রথমের দিকের দৈর্ঘ্য ২.২-৪.০ ও প্রস্থ ১.২-২.০ সেমি, বাকী অংশ দেখতে বৃহদাকার, রম্বসাকার থেকে ডিম্বাকার বা ডিম্বাকার থেকে ভল্লাকার। কিনারা ডিম্বাকার ও শীর্ষ তীক্ষ্ণ হলেও ভোঁতা হয়, কখনও সুক্ষ্ম খর্বাকার বিশিষ্ট, ঝিল্লিময় মসৃণ। পাতার বৃন্ত ১ থেকে ৪ সেমি লম্বা, নিচের পাতা জোড়া প্রশস্ত ও যমক পাদদেশবিশিষ্ট এবং প্রায়ক্ষেত্রেই প্রান্তীয় পত্রক বরাবর পৌছে, সর্ব উপরের পাতা জোড়া, খর্বাকার বৃন্তবিশিষ্ট, মধ্যবর্তী পত্রকগুলো অবৃন্তক বা প্রায় অবৃন্তক।

পুষ্পমঞ্জরী কম ঘন কাক্ষিক বা প্রান্তীয় স্তবক, ২ থেকে ৯টি পুষ্পবিশিষ্ট। ফুল সাদা হয়, কখনও গোলাপী আভাবিশিষ্ট হয়ে থাকে, সুগন্ধিময়, মঞ্জরীপত্র রৈখিকাকার থেকে ডিম্বাকার বা চমসাকার থেকে দীর্ঘায়ত, পত্র সদৃশ, ২-৩ মিমি লম্বা, পুষ্পবৃন্ত ০.৮-২.৫ সেমি লম্বা, সরু, মঞ্জরীদন্ড ৪.৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা। বৃতি ৫-খন্ডিত, মসৃণ, খন্ডকগুলো তুরপুন আকার, রৈখিকাকার, ৫-১০ মিমি লম্বা। দলমন্ডল রেকাবাকৃতি, নল ১.৩-২.৫ সেমি লম্বা। পুংকেশর ২টি, দলনলের অভ্যন্তরে জন্মায়, পুংদন্ডগলো খর্বাকার। গর্ভাশয় দ্বি-প্রকোষ্ঠী, গর্ভদন্ড সূত্রাকার। ফল বেরী, ডিম্বাকার, চকচকে, মসৃণ।

ফুল ও ফল ধারণ: জুন থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে এর ফুল ও ফল ধরে।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২৬ (Fedorov, 1969).

চাষাবাদ ও আবাসস্থল: সমভূমি। বংশ বিস্তার হয় বীজ দ্বারা।

বিস্তৃতি: আদিনিবাস সৌদি আরব, ভারত এবং মায়ানমারে বিস্তৃত, গ্রীষ্ম প্রধান দেশগুলোতেও চাষ হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলায় প্রজাতিটি পাওয়া যায়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্বপুর্ণ দিক: উদ্ভিদটি কৃমিনাশক, মূত্রবর্ধক এবং ঋতুস্রাব নিয়মিত কারক হিসেবে বিবেচিত হয়। শিকড় বিরেচক এবং যৌনশক্তি বর্ধক, পিত্তাধিক্যজনিত অসুস্থতা এবং বাতরোগে উপকারী। পাতা কোষ্ঠবদ্ধতাকারী এবং রেজিন ও স্যালিসাইটিক এসিড সমৃদ্ধ। সুগন্ধি তৈরিতে ইহার পুষ্প ব্যবহৃত হয়।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: আমেরিকার অঙ্গরাজ্যসমূহে চর্মরোগের চিকিৎসায় ইহার পুষ্প এবং দন্তশূলে ইহার পাতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৬ঠ খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) চামেলি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে চামেলি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. রহমান, এম অলিউর (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩৪৬-৩৪৭। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *