Main Menu

আফ্রিকান গাঁদা সারা দুনিয়ার আলংকারিক ফুল

বৈজ্ঞানিক নাম: Tagetes erecta L., Sp. Pl: 887 (1753). সমনাম: জানা নেই। ইংরেজি নাম: African Marigold. স্থানীয় নাম: গেন্দা, গাঁদা। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Edicots বর্গ: Asterales পরিবার: Asteraceae গণ: Tagetes প্রজাতি: Tagetes erecta

ভূমিকা:  আফ্রিকান গাঁদা (বৈজ্ঞানিক নাম: Tagetes erecta, ইংরেজি: African Marigold) এসটারেসি পরিবারের টাগেটেস গণের গুল্ম।  এটি  অনেকে প্রতিষ্ঠানে বা গৃহের শোভাবর্ধনের জন্য লাগিয়ে থাকে।

বর্ণনা: অনূর্ধ্ব ৬০ সেমি বা ততোধিক উচ্চতার, সভঙ্গ, রোমশ, বর্ষজীবী বীরুৎ। পত্র পক্ষলভাবে বিভক্ত, পত্রক। সূক্ষ্ম দস্তুর।

পুষ্পবিন্যাস শিরমঞ্জরী, অসম জননকোষী, বৃহৎ, ব্যাস ১০ সেমি, রে-বিশিষ্ট, দীর্ঘ পুষ্পদন্ডবিশিষ্ট, প্রশাখায় একল, মঞ্জরী পত্রাবরণ বেলনাকার। মঞ্জরীপত্র ১স্তরে বিন্যস্ত, নিম্নে যমক, বীরুৎ সদৃশ, পুষ্পধার উত্তল, উন্মুক্ত, কূপযুক্ত। প্রান্ত পুষ্পিকা বহু-স্তরে বিন্যস্ত, জিহ্বাআকৃতি, স্ত্রী। মধ্য পুষ্পিকা জিহ্বা-আকৃতি, উভলিঙ্গ। প্রান্ত পুস্পিকার দলমণ্ডল কমলা বা ক্যানারি হলুদ, পরিব্যাপ্ত দলফলক বিশিষ্ট। পুংকেশর ৩টি, পরাগধানীর নিম্নাংশ স্থূলা, শীর্ষ উপাঙ্গবিশিষ্ট। স্ত্রী পুষ্পিকার গর্ভদন্ডীয় বাহু। সূচ্যগ্র, মধ্য পুষ্পিকার গর্ভদন্ডীয় বাহু কর্তিতা, রোমশ।

ফল সিপসেলা, রৈখিক, ৯.৪ x ১.০ মিমি, সভঙ্গ, নিম্নাংশ সরু, সুস্পষ্ট মূলীয় ক্যালাস বিশিষ্ট, বৃতিরোম স্বল্প সংখ্যক, ৪-৫টি, শুকযুক্ত শল্ক বিশিষ্ট, ২টি আয়তাকার ও লোমশ।

ফুল ও ফল ধারণ: শীতকাল জুড়ে।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ২৪ (Fedorov, 1969)।

আবাসস্থল ও চাষাবাদ: বাগান এবং নার্সারীর জন্য এই ফুল চাষ করা হয়। বাগানের জন্য এই গাছ বেশি লাগানো হয়। নরম মাটিতে ও সামান্য যত্ন নিলে গাছ ও ফুল দুটোই ভালো হয়। বীজ এবং কাণ্ড কাটিং দ্বারা নতুন চারা জন্মে।

বিস্তৃতি: মেক্সিকোতে স্থানীয়, এই প্রজাতি পৃথিবীর সব দেশে ব্যাপকভাবে আবাদ করা হয়। বাংলাদেশে উদ্ভিদটি বাগানে ও আবাসভূমিতে ব্যাপকভাবে আবাদ করা হয়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার/গুরুত্ব/ক্ষতিকর দিক ও উদ্ভিদটির পুষ্পে হলুদ রঙের কুয়ারসেটাগেটিন এবং বীজে তেল থাকে। পাতার রস রক্ত জমাটকারী এবং সদ্য কাটা স্থান কার্যকর ভাবে প্রতিহত করে। আফ্রিকার ম্যারি গোল্ড পুষ্প প্রধানত ফুলের মালা তৈরী, পুষ্প সজ্জা এবং ভোজ্য উৎসবে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: তাজা পাতার পেষ্ট কাটা স্থানের রক্তক্ষরণ বন্ধে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) আফ্রিকান গাঁদা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে আফ্রিকান গাঁদা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন এক্স-সিটু পদ্ধতি, বিশেষত ইহার ব্যাপক পরিমাণ আবাদের জন্য মাইক্রো-প্রপাগেশন পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে।[১]

তথ্যসূত্র:

১. এ বি এম এনায়েত হোসেন (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩৭২। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন




Tagetes erecta






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *