আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > গুল্ম > মানকচুর ভেষজ গুণাগুণ

মানকচুর ভেষজ গুণাগুণ

আয়ুর্বেদ মতে, মানকচু মৃদু বিরেচক অথাৎ ‘অল্প মাত্রায়’ মলকারক (অনেকের মতে মল ধারক অর্থাৎ মল রোধ করে), মূত্র বৃদ্ধি করে, শোথ রোগ সারিয়ে তোলে, শীতবীর্য অর্থাৎ শরীরে ঠাণ্ডা প্রভাব সৃষ্টি করে, লঘু অথাৎ সহজে হজম হয়, পিত্ত ও রক্তের দোষ নাশ করে।

সব রকম কচুর মধ্যে মানকচুরই মান অথাৎ কদর বেশি। খেতেও বেশি ভাল। কচু পাতার মতো মানকচুর পাতাও খাওয়া যেতে পারে। প্রথমে পাতা ভাল ভাবে সেদ্ধ করে জল ফেলে দিয়ে ঘন্ট ইত্যাদি রান্না করতে হবে। মানকচু সেদ্ধ করে চাকা চাকা করে কেটে তেলে ভেজে খেতে খুবই ভাল লাগে।

মানকচুর ঔষধি ব্যবহার:

১. ঘা বা ক্ষত দূর করতে: মানকচু শিকড়ের এক টুকরা নিয়ে নালী ঘায়ে ঢুকিয়ে দিলে পুঁজ, রক্ত ও রস সব বেরিয়ে যায় এবং ঘায়ের ক্ষত তিন-চার দিনের মধ্যে সেরে যায়। পচা নালী ঘায়েও এই ওষুধ কাজ দেয়।

২. পেটের অসুখ দূর করতে: বড় আকারের পুষ্ট মানকচু কেটে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে রাখা যায়। এই শুকনা গুঁড়াই হলো মানকচুর শুঠ। এই শুঠ জলে সেদ্ধ করবার পর মণ্ড তৈরি করে খেলে উদরী (পেটে জল ভরা রোগ) ও শোথ (শরীর ফুলে যাওয়ার অসুখ) রোগে খুব উপকার পাওয়া যায়। দু চা চামচ মান কচুর শুঠ অল্প দুধে গুলে খেলে জ্বর, পেটের অসুখ ও পিলের রোগ কমে যায়। মানের শুঁঠ, চালের গুড়াতে কিছু দুধ, জল ও আন্দাজ মতো চিনি দিয়ে পায়েস তৈরি করে খেলে পেটের অসুখে উপকার দেয়। অল্প গরম দুধের সঙ্গে পুরোন মানকচুর শুঁঠ মিশিয়ে খেলে শোথ রোগ ও পিলের রোগ কমে।

৩. কান পাকা রোগ সারাতে: মানকচুর ডাঁটা আগুনে সেঁকে নিয়ে তার রস কানে দিলে বাচ্চাদের কান পাকা রোগে উপকার পাওয়া যায়।

৪. ফোঁড়া সারাতে: পুলটিস লাগিয়ে ফোড়ার মুখ না হলে মানকচু গাছের পচা ডাঁটা জল দিয়ে শুধুই কেটে নিয়ে তার প্রলেপ ফোড়ায় লাগালে ফোড়া ফেটে গিয়ে পুঁজ রক্ত ইত্যাদি বেরিয়ে যাবে এবং ফোড়া সেরে যাবে।

৫. মুখের ঘা গুড় করতে: মুখের ভেতর ঘা হলে মানকচু পুড়িয়ে তার ছাই মধুর সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

৬. অর্শ রোগে: অর্শ ও কোষ্ঠবদ্ধতায় মানকচু খাওয়া ভাল।

৭. শিশুর খাদ্য হিসেবে: রোগীকে দুধ, সাবু বা এরারুট না খাইয়ে যদি পথ্য হিসেবে মাচুর উঠ দুধে ফুটিয়ে নিয়ে খাওয়ানো হয় তাহলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

আয়ুর্বেদ মতে, কচু রক্তপিত্ত (নাক মুখ থেকে রক্ত পড়া) দূর করে, মল রোধ করে, বায়ুর প্রকোপ করে। কচু শীতল, খিদে বাড়ায়, শরীরের বল বৃদ্ধি করে, মায়েদের স্তনের দুধ বাড়িয়ে দেয়, মলের বেগ কমিয়ে দেয়। কচু খেলে প্রস্রাব বেশি হয় কিন্তু সেইসঙ্গে কফ ও বায়ুও বেড়ে যায়। কচু গাছের শেকড়ে আছে ধাতু বৃদ্ধির শক্তি। মতান্তরে কচুকে মলভেদক বা মলকারকও বলা হয়।

তথ্যসূত্রঃ

১. সাধনা মুখোপাধ্যায়: সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাকসবজি মশলাপাতি, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, নতুন সংস্করণ ২০০৯-২০১০, পৃষ্ঠা,১০৮-১০৯।

আরো পড়ুন

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top