You are here
Home > প্রাণ > উদ্ভিদ > বৃক্ষ > লাল শিমুল বাংলাদেশের উপকারি ফুল বৃক্ষ

লাল শিমুল বাংলাদেশের উপকারি ফুল বৃক্ষ

বৈজ্ঞানিক নাম: Bombax ceiba

সমনাম: Bombax malabaricum DC. Gossampinus malabaricus (DC.) Merr. Salmalia malabarica (DC.) Schott & Endl.

বাংলা নাম: শিমুল, শিমুল তুলা, লালশিমুল

ইংরেজি নাম: Silk Cotton Tree.

আদিবাসি নাম: Pongchong (Bawm), Chamful Gaith (Tanchangya), Lakh Pine (Marma), Chapang (Khumi), Man-chow (Mandi, Garo)

শিমুল ফুলে রামধনু টিয়া, আলোকচিত্র: Andrew Mercer

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants

উপরাজ্য: Tracheobionta – Vascular plants

অধিবিভাগ: Spermatophyta – Seed plants

বিভাগ: Magnoliophyta – Flowering plants

শ্রেণী: Magnoliopsida – Dicotyledons

উপশ্রেণি: Dilleniidae  

বর্গ: Malvales

পরিবার: Bombacaceae – Kapok-tree family.

গণ: Bombax L. – cottontree

প্রজাতি: Bombax ceiba L. – red silk cottontree

পরিচিতি: লালশিমুল পাতাঝরা বড় বৃক্ষ। ১৫-২০ মিটার বড় হয়। শাখা-প্রশাখা কম। সরল ও বৃত্তাকারভাবে চারদিকে বিস্তৃত। বড় গাছের অধিমূল হয়। গাছের গায়ে কাঁটা থাকে। অগ্রভাগ সরু ও তীক্ষ্ণ এবং গোড়াটা বেশ মোটা। পাতার গঠন এমন যেন একটি বোঁটায় ছড়ানো হাতের পাঞ্জা। পলাশের মতো শিমুলেরও শীতের শেষে পাতা ঝরে যায়। ফাল্গুন মাসে ফুলের কুঁড়ি আসে এবং চৈত্র মাসে বড় এবং উজ্জ্বল রঙের লাল ফুল ফোটে। মোচাকৃতি ফল হয় যা পাকে এপ্রিল মাসে। ফল ফেটে বীজ ও তুলা বের হয়ে আসে। 

শালিক এবং অন্য পাখিরা প্রস্ফুটিত শিমুলের সহযোগী। ফুল ফোটার সময় এদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে শিমুলের আবেষ্টনী। এদের ছড়ানো ফুলে ফুলে ভরে ওঠে তরুতল। ফুলের প্রতি পক্ষীকুলের প্রসন্ন দৃষ্টির কারণ বর্ণ কিংবা গন্ধ নয়, পরাগচক্রে লুকনো মৌ-গ্রন্থি। শিমুল মধুক্ষরা আর পাখিরা মৌলোভী। তাই দুয়ের এ সখ্য। এমন যোজনা অবশ্যই প্রকৃতির নিষ্কাম খেয়ালমাত্র নয়, স্পষ্টতই পরাগসংযোগ তথা গর্ভধানই লক্ষ্য।

ফুলের পরই আসে ফল এবং এই সঙ্গে পাতারা সারা গাছ সবুজে সবুজে টেকে দেয়। কচি শিমুল ফলের রং সবুজ। কিন্তু গ্রীষ্মের শুরুতে পাকা ফল ধূসর হয়ে ওঠে। ফল রুক্ষ, কঠিন, ভঙ্গুর ও বিদারী। শিমুলের পাকা ফল এক সময় কেটে পড়ে এবং মধ্য থেকে তুলা-জড়ানো কালো বীজেরা হাওয়ায় দূর-দূরান্তরে পাড়ি জমায়। বীজ প্রক্ষেপণের এই রীতিটি বংশরক্ষার এক অনন্য অভিযোজনা। একই জায়গায় এই বীজেরা স্থূপীকৃত হলে অংকুরোদগম থেকে পরিণত অবস্থায় পৌছানো পর্যন্ত এরা টিকে থাকত খুবই কম এবং ফলত প্রজাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হতো। কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে এমন অবলুপ্তি নেহাতই দুর্ঘটনা। যেসব অজস্র বিচিত্র পন্থায় তরুরাজ্য আত্মরক্ষা করে বীজ-প্রক্ষেপণ তার অন্যতম। এ প্রক্রিয়ায় বীজেরা দূর-দূরান্তরে বিক্ষিপ্ত হয় এবং পরস্পর প্রতিযোগিতা ও আনুষঙ্গিক মৃত্যুকে এড়ানোর চেষ্টা করে। শিমুলের এই অভিযোজনা সার্থক। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড ঝড়ে চৌচির ফল থেকে বের হওয়া তুলা জড়ানো বীজেরা কোথায় কতদূরে উড়ে যায় তার হদিস কে জানে!

বিস্তৃতিঃ লাল শিমুল বৃক্ষের আদি নিবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। তবে সারা বাংলাদেশেই এদের দেখা যায়। বড় আকারের শিমুল গাছ দুর্লভ হয়ে গেছে লোভি ব্যক্তির কারণে। ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ হিসেবে এটি অনন্য।

ব্যবহার: শিমুল কাঠ নরম ও অস্থায়ী। কিন্তু প্যাকিং, চায়ের বাক্স, দেশলাইয়ের খোল ও কাঠি, কাগজের মণ্ড এমনি বহু প্রয়োজনীয় কাজে বহুলব্যবহার্য। আমাদের দেশলাই শিল্প আজ অনেকাংশেই শিমুলনির্ভর। তাই ইদানীং শিমুল চাষের প্রতি সরকার জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণে তৎপর। ওর ব্যাপক চাষের মাধ্যমেই আজ দুমূল্য বিদেশি মুদ্রার অপব্যয় রোধ সম্ভব। বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত বিধায় চাষ লাভজনক। শিমুল তুলার উৎস এর পাকা ফল। শিমুল তুলা বালিশ, গদি ও কার্পাস তুলার সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় তোশক ও জাজিমে ব্যবহার্য। একটি সাধারণ আকারের গাছ থেকে ১০-১৫ কেজি তুলা পাওয়া যেতে পারে। শিমুল ফুল কোনো কোনো অঞ্চলে সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত। শিকড় টনিক এবং ফুল চর্মরোগের উপকারী। আঠা বই বাঁধাইয়ের কাজে ব্যবহার্য। এছাড়াও ফুল ফুটলে মধু খাবার জন্যে একটি বড় শিমুল গাছে হাজার হাজার পাখি ভিড় করে। প্রায় অর্ধশত প্রজাতির পাখি শিমুলের মধু খাবার জন্য ভিড় করে। দৃষ্টিনন্দন এই ফুলের জন্য এর সুখ্যাতি সুবিদিত।

ঢাকায় শিমুলের সংখ্যা কম। গাছটি ভঙ্গুর এবং পথতরু হিসেবে আদর্শ নয়। শাহবাগের কাছে আজও যে কটি শিমুল বেঁচে আছে তাদের প্রস্ফুটনেই আমরা শহরে বসন্তের আগমনী লক্ষ করি। “সালমালিয়া শিমুলের সংস্কৃত নাম থেকে গৃহীত। ‘মালাবারিকা’ অর্থ হলো মালাবার থেকে উৎপন্ন। শহরে না হোক অন্যত্র অবশ্যই শিমুল রোপণ প্রয়োজন। ইদানীং জাদুঘরের আশপাশে অনেক শিমুল গাছ লাগানো হয়েছে।

বিবিধঃ Bombax গণের পাঁচটি প্রজাতি হলোঃ

১. রেশ্মি শিমুল, Bombax buonopozense,

২. লাল শিমুল, Bombax ceiba,

৩. কাপোক শিমুল, Bombax costatum,

৪. পাহাড়ি শিমুল, Bombax insigne.

৫. বুরুশ শিমুল, Bombax ellipticum.

তথ্যসূত্র:

১. দ্বিজেন শর্মা, শ্যামলী নিসর্গ, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, চতুর্থ মুদ্রণ, জানুয়ারি ২০১৬, পৃষ্ঠা ১০৬-৭।

আরো পড়ুন

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম বই প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top