Main Menu

কাউফল এশিয়ার ফলদায়ী চিরসবুজ বৃক্ষ

কাউ বা কাউফল 

বৈজ্ঞানিক নাম: Garcinia cowa Roxb.  

সমনাম: Stalagmitis kydiana G. Don; Stalagmitis cowa (Roxb.) G. Don; Oxycarpus gangetica Buch.-Ham.; Garcinia wallichii Choisy; Garcinia umbellifera Wall.; Garcinia roxburghii Wight; Garcinia lobulosa Wall.; Garcinia cambogia Roxb.; Cambogia crassifolia Blanco.;

সাধারণ নাম: Mangosteen.  

বাংলা নাম: কাউফল

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae

বিভাগ: Angiosperms

অবিন্যাসিত: Edicots

অবিন্যাসিত: Rosids

বর্গ: Malpighiales  

পরিবার: Clusiaceae  

গণ: Garcinia

প্রজাতি: Garcinia cowa Roxb.

পরিচিতি: কাউফল দীর্ঘ বৃক্ষ প্রকৃতির চিরসবুজ গাছ। গাছ মাঝারি আকৃতির, ডালপালা কম, উপরের দিকে ঝোপালো। গাছ থেকে ডালপালা নিচের দিকে ঝুলে থাকে। গাছের রঙ কালচে। সাধারণত জঙ্গলে এই গাছ দেখা যায়। গাছের ডালে ফুল ধরে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাসে এবং ফল ঝুলতে থাকে। আর ফল পাকে মধ্য আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে। ফল গোলাকার, অনেকটা টেবিল টেনিস বলের মতো। কাঁচা অবস্থায় সবুজ এ ফল পাকলে হলুদ বা কমলা বর্ণ ধারণ করে। ফল গ্লোবাকার বা গোল। ফলের ভিতরে চার-পাঁচটি দানা থাকে। ফল পাকার পর এই দানা চুষে খেতে হয়। বীজযুক্ত এসব দানা রসালো ও টক। কাউ খেলে দাঁতে হলদেটে কষ লেগে যায়। পাকা ফল ইঁদুর ও পাখি খায়। মাটিতে যে বীজ পড়ে সেটাও ইঁদুর খেয়ে ফেলে। স্বাভাবিক পরিবেশে সেসব বীজ থেকেই চারা মে থেকে জুন মাসে গজায়। গাছের বাকল থেকে হলদে আঠা বের হয়। ফলের খোসা চামড়ার মতো পুরু। পাকা ফলের শাঁস বা কোয়া খাওয়া হয়।

বিস্তৃতি: চট্টগ্রামে কাউফলকে ডাকা হয় কাউগোলা, পিরোজপুর ও বরিশালে কাউ, কাউয়া। এদেশে একদা প্রচুর কাউগাছ ছিলো, তবে এখন বেশি দেখা যায়না, তাই কাউফলও বেশ বিরল এখন। অথচ এই ফলে আছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। তাছাড়া কাউগাছের আছে ভেষজ ও অন্যান্য গুনাগুণ। বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, দক্ষিন চীন, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশে। থাইল্যান্ডে কাউফলের কচি পাতা বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি এবং রান্নায় ব্যবহৃত হয়।

পুষ্টিগুণ: এই ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি যা ত্বকের জন্য অত্যধিক উপকারী। আরো আছে কপার, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ ও ম্যাগনেশিয়াম যা শরীরের হাড় মুজবত রাখতে সাহায্য করে। এতে আছে খনিজ ও পটাসিয়াম যা হৃদস্পন্দনে সাহায্য করে, এবং রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হার্ট রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা করে।

ভেষজগুণ: কাউ গাছের ছাল খিচুনি রোগের জন্য এবং ফল আমাশয় ও মাথা ব্যথার জন্য ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পাতার নির্যাস সর্দি ও চুলের খুশকি দূর করতে ব্যবহার হয়।

অন্যান্য ব্যবহার: এই গাছের কষ রং ও বার্নিশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

চাষাবাদ: স্যাঁতস্যাঁতে জংগলে কাউগাছ ভালো হয়। জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। কিছুটা লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। মে থেকে জুলাই মাসে চারা রোপণ করা যায়। চারা থেকে চারার দুরত্ব দিতে হবে ৭ মিটার। তেমন কোনো সার দিতে হয় না। তবে প্রতি বছর গাছ প্রতি ১৫ থেকে ২০ কেজি গোবর সার, ১ কেজি ইউরিয়া, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, এবং ৫০০ গ্রাম এমপি সার দিলে ভাল হয়।

তথ্যসূত্র:

১. মৃত্যুঞ্জয় রায়; বাংলার বিচিত্র ফল, দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০০৭, পৃষ্ঠা ১৪৮।

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *