Main Menu

ছোট জারুল পৃথিবীর উষ্ণ অঞ্চলের বাগানের শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ

বৈজ্ঞানিক নাম: Lagerstroemia indica L., Sp. Pl. ed. 2. 1: 734 (1762). সমনাম: Lagerstroemia chinensis Lamk. (1789), Murtughas indica O. Kuntze (1891) ইংরেজি নাম: China Privet, Crepe Myrtle, Indian Lilac. স্থানীয় নাম: ছোট জারুল। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্য: Plantae বিভাগ: Angiosperms অবিন্যাসিত: Eudicots অবিন্যাসিত: Rosids বর্গ: Myrtales পরিবার: Lythraceae গণ: Lagerstroemia প্রজাতি: Lagerstroemia indica

ভূমিকা: ছোট জারুন (বৈজ্ঞানিক নাম: Lagerstroemia indica, ইংরেজি নাম: China Privet, Crepe Myrtle, Indian Lilac) হচ্ছে লেথারসিস পরিবারে লেগারস্ট্রোমি গণের সপুষ্পক উদ্ভিদ। এই প্রজাতিটি বৃক্ষ ও গুল্ম উভয়ই   হয়।  বাগানের বা রাস্তার পাশে শোভাবর্ধনের জন্য লাগানো হয়ে থাকে।

বর্ণনা: ছোট জারুল বৃহৎ গুল্ম বা ক্ষুদ্র বৃক্ষ আকারে হয়। উচ্চতায় ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, উপশাখা ৪-কোণাকার বা তুরপুন আকার, অণুরোমশ বা প্রায় মসৃণ।

পত্র অবৃন্তক বা খাটো বৃন্তযুক্ত, পত্রবৃন্ত ২ মিমি পর্যন্ত লম্বা, পত্রফলক উপবৃত্তাকার, আয়তাকার, বিডিম্বাকার বা উপবর্তুলাকার, বৈশিষ্ট্যমূলকভাবে নিদেনপক্ষে কিছু উপবর্তুলাকার থেকে বিডিম্বাকার ও সূক্ষ্ম খর্বাগ্র, ২.০-৭.৫x ১-৪ সেমি, কাগজতুল্য থেকে সামান্য চর্মবৎ, পৃষ্ঠদেশ মসৃণ বা শিরা বরাবর সামান্য ইনডুমেন্টেড, শীর্ষ সূক্ষ্মাগ্র, ক্ষুদ্র তীক্ষাগ্র সহ স্থূলা বা খণ্ডিতা, গোড়া প্রশস্ত কীলকাকার থেকে গোলাকার, পার্শ্ব শিরা ৩-৭ জোড়া। প্যানিকেল ৭২০ সেমি লম্বা, অর্ধ-পিরামিড ৪ আকৃতির, অণুরোমশ।

ঘন পুষ্পবিশিষ্ট। পুষ্প নল ৭-১১ মিমি লম্বা, মসৃণ প্রাচীর বিশিষ্ট বা ৬-শিরাল, মসৃণ। বৃতি গভীরভাবে ৬-খন্ডিত, খন্ড আয়তাকার-বল্লমাকার, ৩.৫-৫.৫ মিমি লম্বা, পৃষ্ঠদেশ মসৃণ, সূক্ষ্মাগ্র, শিরা বা খাঁজ বিহীন। পাপড়ি চওড়া, কুঞ্চিত ও বক্র, রক্তবেগুনি, ফ্যাকাশে লাল বা সাদা, বর্তুলাকার, ১২-২৫ মিমি লম্বা, দলদণ্ড ৭-১১ মিমি লম্বা।

পুংকেশর দ্বিরূপী, বাইরের ৬টি পুংকেশর ভেতরের অনেকগুলো থেকে দীর্ঘতর ও বৃহত্তর। গর্ভাশয় মসৃণ, গর্ভদণ্ড বাইরে প্রসারিত, গর্ভমুণ্ড মুণ্ডাকার।

ফল গোলকাকার, উপবৃত্তীয় ক্যাপসিউল, ১.০-১.৩ X ০.৭-১.২ সেমি, ৪ থেকে ৬-কপাটিকা বিশিষ্ট। বীজ পক্ষসহ ৮ মিমি লম্বা।

ফুল ও ফল ধারণ: ছোট জারুল গাছে  জুন থেকে নভেম্বর মাসে ফুল ফোটে।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ১৬, ৪৮, ৫০ (Guha, 1972)।

আবাসস্থল ও চাষাবাদ: অর্ধ-ছায়াযুক্ত স্থান, বন্য পরিবেশেও এই গাছ হয় অনেকে বাগানেও লাগিয়ে থাকে। বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে।

বিস্তৃতি: চীন, ভারত, ইন্দো-চীন ও জাপান, পৃথিবীর উষ্ণ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আবাদ করা হয়। বাংলাদেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়, তবে সেটা অধিকাংশই রোপিত।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্বের দিক: শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গাছের বাকল উদ্দীপক ও জ্বরনাশক।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: ইন্দো-চীনে বাকল, পাতা ও ফুল কোষ্ঠ পরিষ্কারক।

সংরক্ষণ ও অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ছোট জারুল প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ছোট জারুল সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে শোভাবর্ধনের জন্য চাষাবাদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।[১]

তথ্যসূত্র:

১. এম অলিউর রহমান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৪১৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *