You are here
Home > প্রাণ > উদ্ভিদ > বৃক্ষ > সফেদা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের সুস্বাদু ফল

সফেদা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের সুস্বাদু ফল

বৈজ্ঞানিক নাম: Manilkara zapota

সমনাম: অনেকগুলো, তাই দেয়া হলো না

বাংলা নাম: সফেদা,

ইংরেজি নাম: sapodilla.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants

উপরাজ্য: Angiosperms

বিভাগ: Eudicots

শ্রেণী: Asterids

বর্গ: Ericales

পরিবার:  Sapotaceae

গণ: Manilkara

প্রজাতি: Manilkara zapota (L.) P.Royen.

বিবরণ: সফেদা মধ্যম আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ। পত্র লম্ব-আয়তাকৃতি, হ্রস্ববৃন্তক, স্থূলকোণী, ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি দীর্ঘ, শাখান্তে একান্তরে ঘনবিন্যস্ত। পত্রবৃন্ত আধ থেকে এক ইঞ্চি দীর্ঘ। পুষ্প একক, কাক্ষিক, দীর্ঘবৃন্তক, ম্লান-সাদা, প্রায় ১ ইঞ্চি প্রশস্ত। বৃতির ৬ বৃত্যংশের মধ্যে বহিঃস্থ তিনটি বৃহত্তর। পাপড়ি ৬, নিম্নাংশে যুক্ত। পরাগকেশর ৬, কিন্তু উপদলে রূপান্তরিত পরাগকোষশূন্য পরাগকেশর বহুসংখ্যক। গর্ভকোষ অধস্তন, ১০-১২ প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। ফল গোলাকৃতি, মাংসল আধ থেকে দুই ইঞ্চি প্রশস্ত, বাদামি, অমসৃণ। শাঁস রসাল, সুমিষ্ট, নরম, হালকা বাদামি। বীজ ৫ কিংবা ততোধিক, কঠিন, উজ্জ্বল কালো।

মধ্যমাকৃতি এই তরুর কাণ্ড সরল, উন্নত, শীর্ষ ছত্রাকৃতি ও ছায়াঘন, বাকল ধূসর, অমসৃণ এবং পাতা শাখান্তে গুচ্ছবদ্ধ, ঘনসবুজ। গ্রীষ্ম প্রস্ফুটনের কাল। ফুল তেমন আকর্ষণীয় না হলেও এদের উগ্র গন্ধ দূরবাহী ও দীর্ঘস্থায়ী। আপাতদৃষ্টিতে ফুলের পাপড়ি সংখ্যা অজস্র মনে হলেও মূলত এগুলোর অধিকাংশই রূপান্তরিত পরাগকেশর এবং সেগুলো মূল পাপড়ি অপেক্ষা ছোট। বকুলের সঙ্গে এই ফুলের সাদৃশ্য ঘনিষ্ঠ। বকুল ও সফেদা তো সমগোত্রীয়।

বিস্তৃতি: আমেরিকার উষ্ণমণ্ডল আদি আবাস হলেও বাংলা-ভারতে সফেদার প্রসার ও সুখ্যাতি খুবই প্রাচীন। বাংলাদেশে সফেদা সহজলভ্য এবং ফলতরু হিসেবে আদৃত। বর্ষা শেষে ফলের মৌসুমে শহরের অলিতে-গলিতে সফেদা-বিক্রেতাদের হামেশাই দেখা যায়। কাঁচা ও পাকা ফলের বাহ্যিক পার্থক্য খুবই কম বলে ফল পাড়ার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা সফেদা যেমন কষাটে, অতিপাকা ফলও তেমনি নির্গন্ধ ও স্বাদহীন। দুয়ের মাঝামাঝি অবস্থায়ই সফেদা সবচেয়ে সুস্বাদু।

সফেদার বাকল থেকে সাদা গুঁড়ার আস্তর যখন ধীরে ধীরে খসে পড়ে তখনই ফল পাড়ার সময় আসে। অবশ্য সঠিক সময় বোঝার জন্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আমাদের দেশীয় সফেদা সুমিষ্ট ও সুগন্ধি হলেও আকার ও গুণগত বৈশিষ্ট্যে আমেরিকার সফেদার চেয়ে অনেক নিম্নমানের। ও-দেশে ইদানীং বীজহীন রাক্ষুসে সফেদা পাওয়া যায়, যাদের কোনোটার ওজন আধসেরের মতো। ফলের মূল্যই নয়, গাছের আকৃতির বৈশিষ্ট্যেও পালিত তরুকুলের মধ্যে সফেদা রূপসী। এজন্য একটি সম্পূর্ণ বাগানের পক্ষে সে অপরিহার্য। এদেশে বাগানবিলাসীদের এমন বাগান খুব কমই আছে যা সফেদা শূন্য।

ব্যবহার: সফেদার ফুল ও ফলের মৌসুম সঠিকভাবে চিহ্নিত নয়। বারোমেসে সফেদা আমাদের দেশে দুষ্প্রাপ্য নয়। তাই অকালে গাছে ফুল ও ফল দেখা যায়। কাঠ লালচে-বাদামি, দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী। ভেষজ হিসেবেও মূল্য অল্প নয়। সফেদার বাকল অরেচক, টনিক, জ্বরহারী এবং বীজ রেচক। দুধকষ চুয়িংগামের উপকরণ এবং আঠায় ছোটখাটো ভাঙা জিনিসপত্র জোড়া দেয়া যায়। বীজ থেকে চারা জন্মানো সহজ হলেও কলম ও জোড়-কলমের ব্যবহারই বেশি। কলমের গাছে মাত্র চার বছরের মধ্যেই ফল ফলে। ঢাকায় দৈবাৎ সফেদা গাছ চোখে পড়ে।

অ্যাকসরস গ্রিক নাম, অর্থ জংলী নাশপতি। জাপটা সফেদার মেক্সিকো দেশীয় নাম।

তথ্যসূত্র:

১. দ্বিজেন শর্মা, শ্যামলী নিসর্গ, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, চতুর্থ মুদ্রণ, জানুয়ারি ২০১৬ পৃষ্ঠা ২২০-২২১।

আরো পড়ুন

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম বই প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top