Main Menu

অর্জুন গাছের উপকারিতা ও ভেষজ গুণাগুণ

ভূমিকা: অর্জুন (বৈজ্ঞানিক নাম: Terminalia arjuna) কমব্রেটাসি পরিবারের টারমিনালিয়া গণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি বৃক্ষ। এরা দেখতে বৃহত আকৃতির গাছ, ৫০ থেকে ৬০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়, পাতাগুলির আকারটা একটু বড় হলেও মানুষের জিভের মতো কিন্তু পাতার ধারগুলি খুব সরু, দাঁত করাতের মতো কিন্তু মাংসল নয়। শক্ত গাছটি সমগ্র ভারত বাআনলাদেসেই দেখা যায় কম বেশি। এই বৃক্ষের ব্যবহার্য অংশ হচ্ছে গাছ বা মূলের ত্বক, পাতা ও ফল।

আরো পড়ুন অর্জুন একটি মহা উপকারি ওষধি বৃক্ষ

অর্জুনের বিভিন্ন অংশ প্রয়োগ ক্ষেত্র নিম্নে আলোচনা করা হলো।

১. বুক ধড়ফড়: যাঁদের বুক ধড়ফড় করে অথচ হাই ব্লাড প্রেসার নেই, তাঁদের পক্ষে অর্জুন ছাল কাঁচা হলে ১o থেকে ১২ গ্রাম অথবা শুষ্ক হলে ৫ থেকে ৬ গ্রাম একটু থেঁতো করে, আধ পোয়া দুধ আর আধ সের জল একসঙ্গে সিদ্ধ করে, আন্দাজ আধ পোয়া থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে বিকেলের দিকে খেতে হবে। তবে গরম অবস্থায় ঐ সিদ্ধ দুধটা ছেঁকে রাখা ভাল। এর দ্বারা বুক ধড়ফড়ানি নিশ্চয়ই কমবে। তবে পেটে বায়ু না হয় সেদিকটাও লক্ষ্য রাখতে হয়।

২. লো ব্লাডপ্রেসারে: উপরিউক্ত পদ্ধতিতে তৈরী করে খেলে নিশ্চয়ই প্রেসার উঠবে।

৩. রক্তপিত্তে: মাঝে মাঝে কারণ বা অকারণে রক্ত ওঠে বা পড়ে; সে ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৫ গ্রাম ছাল রাত্রে জলে ভিজিয়ে রেখে ওটা সকালে ছেঁকে নিয়ে জলটা খাওয়াতে হবে।

৪. শ্বেত বা রক্তপ্রদরে: উপরিউক্ত মাত্রা মতো ছাল ভিজানো জল আধা চামচ, আন্দাজ কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে খেলে উপশম হয়।

৫. ক্ষয় কাসে বা যক্ষ্মায়: অর্জুন ছালের গুঁড়ো, বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে, সেটা শুকিয়ে নিতে হবে অন্ততঃ সাত বার। দমকা কাসি হতে থাকলে একটু ঘৃত ও মধু বা মিছরির গুঁড়ে মিশিয়ে চাটতে হবে।

৬. শুক্রমেহে (Spermatorrhoea): অর্জুন ছালের গুঁড়ো ৪ থেকে ৫ গ্রাম, ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা আধ পোয়া আন্দাজ গরম জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর ছেঁকে ঐ জলে আন্দাজ ১ চামচ শ্বেতচন্দন ঘষা মিশিয়ে খেলে উপকার হবে।

৭. Puscell: যাঁদের প্রস্রাবের সঙ্গে Puscell বেশি যায়, তাঁরা ৩ থেকে ৪ গ্রাম শুকনা অর্জুন ছাল আধা পোয়া আন্দাজ গরম জলে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে পরে ছেঁকে তার সঙ্গে একটু রান্না করা বার্লি মিশিয়ে খেলে ওটা চলে যাবে।

৮. রক্ত আমাশয়ে: ৪ থেকে ৫ গ্রাম অর্জুন ছালের ক্বাথ ছাগল দুধ মিশিয়ে খেল ওটা সেরে যাবে। এখানে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো, অর্জুন গাছের সব অংশই কষায় রস (Astringent); এর জন্যই ওর ক্বাথে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। ওদিকটাও লক্ষ্য রাখা দরকার। তবে এটা দেখা যায় দুধে সিদ্ধ অর্জুন ছালের ব্যবহারে কোষ্ঠকাঠিন্য হবে না।

অর্জুনের বাহ্য প্রয়োগ উল্লেখ করা হলো

অর্জুনের পাকা ফল, আলোকচিত্র: Yercaud-elango

৯. মচকে গেলে বা হাড়ে চিড় খেলে: অর্জুন ছাল ও রসুন বেটে অল্প গরম করে ওখানে লাগিয়ে বেঁধে রাখলে ওটা সেরে যায়। তবে সেই সঙ্গে অর্জুন ছালের চূর্ণ ২ থেকে ৩ গ্রাম মাত্রায় আধ চামচ ঘি ও সিকি কাপ আন্দাজ দুধ মিশিয়ে অথবা শুধু দুধ মিশিয়ে খেলে আরও ভাল হয়।

১০. মেশতায়: অর্জুন ছালের মিহি গুঁড়ো মধুর সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে ও দাগগুলি চলে যায়।

১১. পদ্মকাঁটায়: অর্জুন ছাল টক ঘোলে ঘষে লাগালে সেরে যাবে।

১২. পুঁজস্রাবী ঘা বা ক্ষত: অর্জুন ছালের ক্বাথে ধুয়ে, ঐ ছালেরই মিহি গুঁড়ো ঐ ঘায়ে ছড়িয়ে দিলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

১৩. ফোড়া: অর্জুনের পাতা দিয়ে ঢাকা দিলে ওটা ফেটে যায়, তারপর ঐ পাতার রস দিলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

১৪. হাঁপানীতে (Cardiac): অর্জুনের ফলের শুষ্ক টুকরো কলকে করে তামাকের মতো ধোঁয়া টানলে হাঁপের টান কমে যাবে।

১৫. হার্নিয়া হলে: ঐ ফল গ্রামাঞ্চলে কোমরে বেধে রাখে। এই রকম আরও অনেক টোটকার ব্যবহার চলে আসছে।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য, চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা, ১৭০-১৭৩।

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *