You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > বৃক্ষ > মহুয়া গাছের ভেষজ গুণ

মহুয়া গাছের ভেষজ গুণ

মহুয়া ( বৈজ্ঞানিক নাম: Madhuca longifolia ) বেশ বড় ধরনের গাছ। লম্বায় এটি প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত হয়। মহুয়া গাছের উপরের ছাল মোটা এবং ধূসর। পাতা লম্বা ধরনের এবং চওড়ায় প্রায় পাঁচ ইঞ্চির মতো হয়। কনকচাঁপার পাতার সাথে এর মিল আছে। আগাটা চাপার মতো সূচালো নয়, বেশ ভোতা। ডালের আগায় ছাতার মতো ছড়িয়ে থাকে। অনেকটা ছাতিমের মতো। ফাল্গুন চৈত্র মাসের মধ্যে গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে। গরমে সময় ফল ধরে। ফলের আকৃতি সুপারির মতো। ফলের ভিতরটা শাঁসে ভরা থাকে। প্রথম দিকে ফলের রং সবুজ থাকে। পরে পেকে গেলে রং পাল্টে ফিকে হলুদে পরিণত হয়। মহুয়া গাছের ছাল, বীজ, ফুল, বীজের তেল ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

আরো পড়ুন: মহুয়া ভারতবর্ষ ও এশিয়ার চিরসবুজ বৃক্ষ

বিভিন্ন অসুখে ব্যবহার:

রক্তপিত্তে: মহুয়া গাছের শুক্রা ছালের ছাই ৫০০ মি.গ্রা. এবং তার সাথে আধা চামচ মধু দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর ঐ মিশ্রণে গাওয়া ঘি সামান্য। গরম করে মধুর মতো একই পরিমাণ মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে সারা দিনে দু’বার করে খাওয়া দরকার। রোগ প্রথম অবস্থায় ধরা পড়লে তিন থেকে চার দিন নিয়ম মেনে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে রোগ জটিল হলে আট দশ দিন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

মহুয়া ছালের ছাই যেভাবে তৈরি করা যায় সেটা শিখে রাখা জরুরি। গাছের শুকনা ছাল টুকরা করে একটি পরিষ্কার মাটির পাত্রে রেখে মুখে সারা চাপা দিয়ে চুলায় বসাতে হবে। তবে মাঝে মাঝে পাত্রের মুখ থেকে ঢাকনা সরিয়ে দেখা দরকার ঠিক মতো ছাল পুড়ছে কিনা। কারণ তাপ বেশি হলে পুড়ে শেষে আগুন জ্বলে উঠতে পারে। পোড়ানোর কাজ সম্পূর্ণ হলে পাত্র চুলা থেকে নামিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে এরপরে মিহি করে গুড়া করে নিতে হবে।

আরো পড়ুন:  ডালিমের ২০টি ঔষধি গুণ

আঘাতের ক্ষতে এবং পুরানা ঘায়ে: উভয় ক্ষেত্রেই মহুয়া বীজের তেল কোনো পরিষ্কার কাপড়ের টুকরা বা তুলাতে লাগিয়ে ঘায়ে ওপরে রেখে কাপড়ের ফালি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে। কয়েক দিন এভাবে তেল লাগালে ঘা ভালো হয়ে যাবে।

কাশি: যে কোনো বয়সের মানুষের হঠাৎ ঠাণ্ডা লেগে টনসিল ফুলে কাশি হতে পারে। এক্ষেত্রে মহুয়া ফুল (টাটকা অবস্থায়) সংগ্রহ করতে পারলে হবে। অবশ্য সারা বছরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় ছাড়া মহুয়া ফুল পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে শুকনা ফুল হলেও কাজ মিটে যাবে। খুব মিহি করে পরিষ্কার শিলে বেটে তার সাথে ৭৫ মিলিলিটার পরিষ্কার পানি মিশিয়ে খানিকটা লাস্যির মতো ফেটিয়ে সারা দিনে তিন বার খাওয়া দরকার। এতে কাশি সম্পূর্ণ ভালো হতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে।

ক্রিমিরোগে: বালক অথবা বয়স্ক মানুষের পেটে ছোট ক্রিমি হলে সারা দিনের মধ্যে তিনবার পাঁচ ফোটা করে মহুয়া বীজের তেল খেলে ক্রিমি মরে যাবে। তবে বীজের তেল একই নিয়মে তিন থেকে চারদিন খাওয়া দরকার।

অর্শ রোগে: শুকনা মহুয়া ফুলকে সামান্য গাওয়া ঘিয়ে ভেজে দিনে এক থেকে দু’বার অর্শের বলিতে এবং মলদ্বারে ব্যবহার কলে উপশম হয়। এতে অর্শরোগের স্থায়ীভাবে রোগমুক্তি ঘটে না, তবে সাময়িকভাবে রোগী আরাম পায়।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:   

১. আঃ খালেক মোল্লা সম্পাদিত;লোকমান হেকিমের কবিরাজী চিকিৎসা; মণিহার বুক ডিপো, ঢাকা, অক্টোবর ২০০৯; পৃষ্ঠা ৯৭-৯৮।

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top