You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > লতা > নীল অপরাজিতা একটি আলংকারিক লতানো ফুল

নীল অপরাজিতা একটি আলংকারিক লতানো ফুল

বৈজ্ঞানিক নাম: Clitoria ternatea সমনামঃ Clitoria albiflora Mattei, Clitoria bracteata Poir., Clitoria mearnsii De Wild., Clitoria tanganicensis Micheli, Clitoria zanzibarensis Vatke, Clitoria ternatea L. var. albahort. বাংলা নামঃ নীল অপরাজিতা। ইংরেজি নাম: Butterfly Pea. আদিবাসি নাম: অঔমাবেওয়াবং (রাখাইন), বে সং ক্রা (মুরং), অমিও (মারমা) জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস জগৎ/রাজ্যঃ Plantae – Plants উপরাজ্যঃ Tracheobionta – Vascular plants অধিবিভাগঃ Spermatophyta – Seed plants বিভাগঃ Magnoliophyta – Flowering plants শ্রেণীঃ Magnoliopsida – Dicotyledons উপশ্রেণিঃ Rosidae বর্গঃ Fabales পরিবারঃ Fabaceae – Pea family গণঃ Clitoria L. – pigeonwings প্রজাতিঃ Clitoria ternatea L. – Asian pigeonwings

ভূমিকা: নীল অপরাজিতা (বৈজ্ঞানিক নাম: Clitoria ternatea ইংরেজি: Butterfly Pea)  Fabaceae পরিবারের ক্লিটোরিয়া  গণের বীরুৎ। বাগানের শোভাবর্ধনের জন্যের লাগানো হয়। এরা হচ্ছে একটি আলংকারিক লতা জাতীয় উদ্ভিদ যেগুলো প্রায় ২০ ফুট লম্বা হয়। সারা বছরই ফুল ফোটে। প্রতিটি পাতায় দুই বা তিন জোড়া গোলাকার পাতা থাকে। অনেকটা বক ফুলের মতো দেখতে তবে ফুলে কোনো গন্ধ নেই। এই গাছের মূল বা শেকড় তিতা। এদেশে সাদা, নীল ও কদাচিৎ বেগুনী রংয়ের ফুলের অপরাজিতা আমরা দেখতে পাই; এই নীল অপরাজিতার দুই স্তবকের পাপড়ির ফুলও দেখা যায়।

বিবরণ: নীল অপরাজিতা বহুবর্ষজীবী লতানো বীরুৎ। কান্ড বেলনাকার, মোটামুটি রোমশ। পত্র সচুড় পক্ষল । পত্রক ৫-৭টি, অর্ধচর্মবৎ, উপবৃত্তাকার-আয়তাকার, স্থূলা, রোমহীন বা স্বল্প খাটো চাপা রোমশ, সূক্ষ্মাগ্র, গোড়া স্থূলাগ্র বা সূক্ষ্মাগ্র, উপপত্র লম্বা, রেখাকার, সূক্ষ্মাগ্র, উপপত্রিক সূত্রাকার। এদের লতা থেকে পাতার ডাঁটা বেরোয়, সেগুলি লম্বায় ৩/৪ ইঞ্চি, সেই ডাঁটায় দুই বা তিন জোড়া পাতা থাকে। আর তার মাথায় একটি বিজোড় পাতা থাকে, পাতাগলি ডিম্বাকৃতি।

পুষ্প কাক্ষিক, একল, পুষ্পবৃন্ত লম্বা, মঞ্জরীপত্র ৪-৫ মিমি লম্বা, রেখাকার, মঞ্জরীপত্রিকা প্রায় ৭ মিমি লম্বা, প্রায় গোলাকার, স্থূলাগ্র। বৃতি ১.২-১.৬ সেমি লম্বা, দন্তক। বল্লমাকার, নল থেকে খাটো। দলমন্ডল লম্বা, ধ্বজক উজ্জ্বল নীল বা সাদা। পুংকেশর দ্বিগুচ্ছক, ৯+১, ধ্বজকীয় পুংকেশর মুক্ত। গর্ভাশয় রোমশ, গর্ভদণ্ড সরল। ফল পড়, চ্যাপ্টা, প্রায় খাড়া, চোখা চঞ্চযুক্ত, হালকা রোমশ। ফুল ও ফল ধারণ ঘটে জুন থেকে মার্চ মাসে।[১]

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২n = ১৪, ১৫, ১৬ (Kumar and Subrarmanian, 1986).

আবাসস্থল ও চাষাবাদ: শোভাবর্ধক উদ্ভিদরূপে আবাদী। বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে। পাশ্চাত্য উদ্ভিদ বিজ্ঞানীগণ বলেন—এই অপরাজিতা ফুলের বীজ আনা হয়েছে টারনেট (Ternete) থেকে, এই টারনেটি মালাক্কা দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত। এটি টারনেটি থেকে আনা হয়েছিলো বলেই এই লতা গাছটির প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে ternatea (টারনেটিয়া)। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ২-এ লিখেছেন যে, সেই গাছ নীলপুষ্প অপরাজিতার বীজ আনা হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত নয়, কারণ যজুর্বেদে দেখা যাচ্ছে, শ্বেত পুষ্প অপরাজিতার উল্লেখ এবং তার গুণাগুণের বর্ণনা; তবে মালাক্কা সে যুগের জম্বুদ্বীপের বৃহত্তম ভারতের অন্তর্গত ছিল কিনা জানি না। যা হোক, এই অপরাজিতা গাছে বারোমাসই ফল হয়, তবে কম বেশী; তবে এটা লক্ষ্য করা গেছে, নীল ফসলের গাছ যত তাড়াতাড়ি শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে, শ্বেত পুষ্প লতাগুলি সেটা করে না। এর ফুলগুলি শিমের মত চেপ্টা, চওড়া সিকি ইঞ্চিরও কম আর লম্বা দেড় থেকে দুই ইঞ্চি বীজে গাছ হয়।[২]

বিস্তৃতি: গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলিতে বিস্তৃত। বাংলাদেশে সমগ্র জেলায় পাওয়া যায়। আদিবাস মালাক্কা দ্বীপপুঞ্জ।

অর্থনৈতিক ব্যবহার ও গুরুত্ব: এই লতা গাছটিকে বাগানে বেড়ার ধারে অথবা গেটের উপর লাগানো হয়। আলংকারিক লতা হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় এর ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়াও এটির রয়েছে দারুণ সব ঔষধি গুণাগুণ। মূল তিক্ত, স্নিগ্ধকারক, বিরেচক, রেচক ঔষধ এবং মূত্রবর্ধকরূপে ব্যবহৃত হয়। বীজ রেচক ঔষধ বা বিরেচক। আগুনে ঝলসানো বীজের পাউডার শোথরোগ, পাকস্থলীর আন্ত রযন্ত্রের স্ফীতাবস্থা, দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা, গলার ক্ষত, টিউমার এবং চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত (Ghani, 2003)। পাতার রস লবণের সাথে মিশ্রিত করে কান ব্যাথা নিমূলে প্রয়োগ করা হয়। মূল, কান্ড এবং পুষ্প সাপের কামড় এবং পোকার হুল ফোটানোতে ব্যবহৃত হয় (Kirtikar et al., 1935)।[১]

ঔষধি ব্যবহার বিষয়ে পড়ুন নীল অপরাজিতা লতার ভেষজ গুণ

অন্যান্য তথ্য: বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০)  অপরাজিতা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে অপরাজিতা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে বাগানে ও বাসা বাড়িতে অধিক আবাদের উৎসাহ করা যেতে পারে।[১]

তথ্যসূত্র:

১. এ.টি. এম নাদেরুজ্জামান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস”  আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৮ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৫-২৬। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

২. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৪, পৃষ্ঠা, ৯০-৯৫।

আরো পড়ুন:  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়াতে ফুলের ভূমিকা
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top