You are here
Home > প্রাণ > উদ্ভিদ > লতা > লাল শাপলা বাংলাদেশের জলজ আলংকারিক ফুল

লাল শাপলা বাংলাদেশের জলজ আলংকারিক ফুল

আলংকারিক ফুল গাছ: লাল শাপলা

বৈজ্ঞানিক নাম: Nymphaea rubra Roxb. ex Andrews.

বাংলা ও স্থানীয় নাম: লাল শাপলা

ইংরেজি নাম: Indian red water-lily.

লাল শাপলা ফুল, আলোকচিত্র: Anton Ardyanto

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্য: Plantae – Plants

শ্রেণীহীন: Angiosperms

বর্গ:  Nymphaeales

পরিবার: Nymphaeaceae

গণ: Nymphaea

প্রজাতি: Nymphaea rubra Roxb. ex Andrews.

লাল শাপলা বা রক্ত কমল (বৈজ্ঞানিক নাম: Nymphaea rubra) শাপলা পরিবারের একটি জলজ উদ্ভিদ। এটি বাংলার প্রজাতি। পাতা এবং বোঁটা লালচে সবুজ। ফুল ডাবল, ১০-২০ সেমি চওড়া, অনেকগুলি পাপড়ি এবং পাপড়ির রঙ লাল। লাল শাপলা রাতে ফোটে। গোলাকার ফলে অনেকগুলো ছোট ছোট বীজ হয়। বীজ খাওয়া যায়। গোঁড়ার চারা থেকে চাষ করা হয়।

অনেকেই লাল ও শাদা শাপলা চাষ করে থাকেন। শাপলা গাছ বা চারার চাষ পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো। আমরা আলংকারিক ফুল হিসেবে শাপলার চাষ করতে পারি। এতে আমাদের দেশের পুকুরগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। শাপলা চাষ খুবই সহজ একটা কাজ।

শাপলা লাগানোর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো মাটি নির্বাচন। প্রাকৃতিক ভাবে এরা পুকুর-খাল-জলাশয়ের তলদেশের মাটি থেকে জৈব পদার্থ নিয়ে বেঁচে থাকে। সেখানকার ইকো সিস্টেমও ভিন্ন। তাই মাটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে উর্বর লাল মাটি, বেলে দোয়াশ মাটি, দোরাশা মাটি (বেলে ও এঁটেল মাটির মিশ্রণ) সংগ্রহ করতে হবে।

মাটি সংগ্রহের পরের ধাপ হচ্ছে শাপলা লাগানোর পাত্র নির্বাচন করা। আপনি যদি চারিতে শাপলা রাখতে চান তাহলে একটি মিডিয়াম থেকে বড় গাছের জন্য ১০-১৫ লিটার এর প্লাস্টিকের গামলা সংগ্রহ করতে হবে। চারা বা ছোট গাছের জন্য ৫-৮ লিটার এর প্লাস্টিকের গামলা যথেষ্ট। পরে গাছ বড় হলে গামলা পরিবর্তন করে বড় গামলায় দিতে হবে। আর যদি কেউ সরাসরি প্লাস্টিকের গামলা বা বালতিতে শাপলা লাগাতে চান তাহলে চেষ্টা করবেন বাজারে পাওয়া যায় এরকম সবচেয়ে বড় সাইজের বালতি বা গামলা সংগ্রহ করতে।

প্লাস্টিকের গামলা বা বালতি সংগ্রহ করার পর তাতে প্রায় ৫-৮ ইঞ্চি পরিমান মাটি দিয়ে পূরণ করতে হবে। যারা চারিতে গাছ রাখতে চান তারা গামলার প্রায় পুরোটাই মাটি দিয়ে পুরন করতে পারেন নতুবা অল্প কিছু অংশ খালি রাখতে পারেন। আর যারা বালতি বা গামলাতে গাছ লাগাবেন তারা সর্বনিম্ন ৪ ইঞ্চি এবং সর্বোচ্চ ৬ ইঞ্চি পরিমাণ মাটি দিয়ে তারপর গাছ লাগাতে পারেন। যেহেতু আমাদের দেশে যে শাপলাগুলো পাওয়া যায় বা ইন্ডিয়া-থাইল্যান্ড থেকে যে শাপলা গাছ আনা হয় তার প্রায় সবই ট্রপিক্যাল। ট্রপিক্যাল শাপলা লাগাতে হয় পাত্রের মাঝখানে।

পরবর্তী ধাপ হচ্ছে যারা চারিতে শাপলা রাখতে চান তারা শাপলা রাখার জন্য উপযুক্ত একটি চারি সংগ্রহ করবেন। সেক্ষেত্রে চারির উচ্চতা কমপক্ষে ১৫ ইঞ্চি থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ ইঞ্চি এবং পাশে সর্বনিম্ন ২৪ ইঞ্চি থে ৩৬ ইঞ্চি হলে ভাল হয়। এই চারির উচ্চতা প্রায় ১৮ ইঞ্চহি এবং পাশে প্রায় ৩৬ ইঞ্চি। চারি সংগ্রহ করা থাকলে তা পুরোপুরিভাবে পানিতে আগেই পুরন করে গামলাতে বোনা শাপলা গাছে ধীরে ধীরে পানিতে ডুবিয়ে দেবেন।

শাপলা যেহেতু পানিতে জন্মায়, ফলে পানিতে মশা জন্মাবে। মশার বংশ বিস্তার রোধ করতে পানিতে বিদেশী গাপ্পী, মলি, প্লাটি বা দেশী খলিশা মাছ রাখলে ভাল। এখানে একটি থাই শাপলা গাছের রিপটিং করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম বই প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top