You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > লতা > হাড়জোড়া লতার ঘরোয়াভাবে তৈরি ছয়টি ভেষজ চিকিৎসা গুণ

হাড়জোড়া লতার ঘরোয়াভাবে তৈরি ছয়টি ভেষজ চিকিৎসা গুণ

হাড়জোড়া লতা

হাড়জোড়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Cissus quadrangularis) লতানো শ্রেণীর উদ্ভিদ। এ গাছ লতিয়ে লতিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত যায়। অনেক সময় গাছকে পত্রহীন দেখায়। পাতা এক থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। দেখতে ঠিক হৃদপিণ্ডের মতো। তিন থেকে পাঁচটি অংশে বিভক্ত। পাতার কিনারাগুলো করাতের মতো কাটা। পুষ্পগুচ্ছ ছোট বোঁটাতে থাকে। খুব চকচকে এবং লোমযুক্ত।

হাড়জোড়া ফল দেখতে অনেকটা মটরের দানার মতো লাল রং-এর হয়। ফুলের পাপড়ি ডিম্বাকৃতি, আগার দিকটা সরু এবং রং সাদা। লতার ডাটা একটি গাঁটের সাথে মাটিতে ফেলে দিলে তার থেকেই নতুন চারাগাছ জন্মায়।

বিভিন্ন অসুখে ব্যবহার:

ঋতুর অনিয়মে: হাড়জোড়া গাছের কাণ্ডের রস ২০ মিলিলিটার, গাওয়া ঘি সমপরিমাণ, গোপীচন্দন ১০ গ্রাম ও পাঁচ গ্রাম চিনি, সমস্ত জিনিস একসাথে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধ্যায় প্রতিদিন খেলে ঋতু নিয়মিত হয়।

কানে পুঁজ হলে: শিশু, কিশোর এবং বড়দের কানে পুঁজ হলে হাড়জোড়া গাছের কাণ্ডের রস একটি মূল্যবান ওষুধ। বহু যুগ আগে থেকে এর প্রচলন রয়েছে। কাণ্ডকে ভালোভাবে বেটে তার রসটা পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে ছেঁকে নিতে হবে। দিনের মধ্যে দু’বার তিন ফোঁটা করে প্রয়োগ করতে হবে। মাত্র তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করা দরকার। তবে প্রতিদিন টাটকা কাণ্ড সংগ্রহ করে তার রস দিতে হবে।

হাড়ের যন্ত্রণায়: হাড়জোড়া গাছের কাণ্ড (অবশ্যই ওপরের শক্ত খোসা আগে ছাড়িয়ে নিতে হবে) ৬৫ গ্রাম এবং খোসা ছাড়ানো কলাইয়ের ডাল ৩০ গ্রাম, এক সাথে বেটে মটরের দানার মতো বড়ি তৈরি করে নিতে হবে। কাজটি শেষ হলে এক ঘণ্টা বাদে। সমস্ত বড়ি তিলের তেলে ভেজে রোজ সকালে দু’টি বড়ি একসাথে মোট সাত দিন খাওয়া দরকার।

পুষ্টির অভাবজনিত রোগে: হাড়জোড়া গাছের কাণ্ডের রস ২০ মিলিলিটার এক কাপ ঠাণ্ডা পানির সাথে মিশিয়ে দিনের বেলায় সকালের দিকে খেলে শরীরে পুষ্টির অভাব পূরণ হয়। তবে নিয়মিত এবং একমাস খাওয়া দরকার।

আরো পড়ুন:  থানকুনির গুণাগুণ ও উপকারিতা

শ্বাসরোগে: হাড়জোড়া গাছের কাণ্ডের ওপরের খোসা ছাড়িয়ে রোদে ভালোভাবে শুকির নিতে হবে। শুকনা কাণ্ডকে গুড়া করে পাঁচ থেকে সাত গ্রাম আধা গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে দিনকতক খেলে রোগ নিরাময় হয়।

হাড় ভেঙ্গে গেলে: ভাঙ্গা জায়গায় হাড়জোড়া গাছের শুকনো কাণ্ডের গুড়া সামান্য ঠাণ্ডা পানির সাথে মেখে বেশ মোটা করে প্রলেপ দিয়ে কাপড়ের ফালি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে। দুই-তিন দিন অন্তর প্রলেপ ফেলে দিয়ে আবার নতুন করে একই পদ্ধতিতে প্রলেপ দেয়া দরকার। আর বাঁধতে হবে একটু চাপ দিয়ে। অবশ্য তার আগে সঠিক জায়গায় বসিয়ে দেয়া দরকার। তিনবার প্রলেপ পাল্টে দেয়ার পর চতুর্থবারে আরও শুরু করে প্রলেপ দিয়ে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বাধা থাকবে। এর সাথে হাড়জোড়া গাছের কাণ্ডের গুড়া রোজ ২ চামচ করে একবার ঠাণ্ডা পানির সাথে খেতে হবে।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:   

১. আঃ খালেক মোল্লা সম্পাদিত;লোকমান হেকিমের কবিরাজী চিকিৎসা; মণিহার বুক ডিপো, ঢাকা, অক্টোবর ২০০৯; পৃষ্ঠা ১৪০-১৪১।

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top