আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > জীবনী > দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বিশিষ্ট বাঙালি সংগীতস্রষ্টা

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বিশিষ্ট বাঙালি সংগীতস্রষ্টা

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৯ জুলাই ১৮৬৩ – ১৭ মে ১৯১৩) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টা। তাঁর জন্ম নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। পিতা দেওয়ান কার্তিকেয়চন্দ্র ছিলেন মার্গসংগীতে কৃতবিদ্য গায়ক এবং পদরচয়িতা। অল্পবয়সেই দ্বিজেন্দ্রলালের গীতিপ্রতিভা স্ফুরিত হয়। ছ-সাত বছরেই পিতৃকণ্ঠে গান শুনে হার্মোনিয়ামে সে গান তুলে নেন। ন’বছর বয়সে অগ্রজের ফরমায়েসে গান বাঁধেন। প্রথম গীত-সংকলন বেরোয় উনিশ বছরে।

১৮৭৮ সালে তিনি বৃত্তিসহ এণ্ট্রান্সি ১৮৮০ সালে কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে এফ. এ. ১৮৮২ সালে হুগলী কলেজ থেকে বি.এ. ১৮৮৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরাজি এম. এ. পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম স্থান পান। এরপর তিনি সরকারি বৃত্তি নিয়ে কৃষিবিদ্যা শিখতে ইংলণ্ড যান।

সেখানে থাকাবস্থায় বিলাতি গান শুনে আকৃষ্ট হন এবং দক্ষিণা দিয়ে রীতিমাফিক বিলাতি শেখেন ও কণ্ঠমার্জনা করেন। পরবর্তীকালে তার ওজস্বী কণ্ঠ ও অনায়াস সুরের চলন গায়করূপে তাকে প্রতিষ্ঠা এনে দেয়। তাঁর গানের কম্পোজিশনে বিলিতি সুরের সংযোগ একই সঙ্গে জনপ্রিয় ও বিতর্কযোগ্য হয়ে ওঠে। তখন তার পক্ষে লিখিত সমর্থন জানান স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।

বিলাত থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করে এসে দ্বিজেন্দ্রলাল সরকারি কর্মে যোগ দেন। সেটেলমেন্ট অফিসার, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, আবগারি ইন্সপেক্টর, ল্যাণ্ড রেকর্ডস ও এগ্রিকালচার বিভাগের সহকারী পরিচালক এই বহু বিচিত্র ও নানাস্থানী কাজে তাঁর সাতাশ বছরের কর্মজীবন ছিল দাস্যের গ্লানিতে সন্তপ্ত। তার মধ্যে গভীর পত্নীপ্রেম এবং নানারকম গানের মজলিস তাকে জোগাতে গান রচনা ও গাইবার প্রেরণা। ১৮৮৮ থেকে ১৮৯৩ পর্যন্ত ভাগলপুর ও মুঙ্গেরে কর্মরত থাকার কালে প্রসিদ্ধ গায়ক সুরেন্দ্রনাথ মজুমদারের কাছে তিনি মার্গসংগীতের তালিম নেন। তারই ফলে তিনি নৈপুণ্যের সঙ্গে সৃষ্টি করেন বাংলা টপ খেয়াল।

দ্বিজেন্দ্রলালের অন্তরে ছিল তীব্র স্বদেশাভিমান ও ভণ্ডামির বিরুদ্ধ স্বভাব। সেই বেদনা থেকে উৎসারিত রচনা ‘হাসির গান’ বঙ্গসংস্কৃতিতে তার সবচেয়ে বড় দান। উচ্চারণের বৈপরীত্যে ও সুরের দেশি-বিদেশি মিশ্রণে সে গান অনবদ্য। তার গানের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। তার মধ্যে দু’শো গান নাটকের প্রয়োজনে লেখা। ১৯০৩ সালে পত্নীবিয়োগের গভীর বেদনা ভুলতে তিনি সাধারণ রঙ্গমঞ্চের উন্মাদনায় জড়িয়ে পড়েন। এই উপলক্ষেই তিনি লেখেন দেশাত্মবোধক ও ঐতিহাসিক নাটকগুলি। এই সব নাটকগুলির বিপুল জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ তার গান।

দ্বিজেন্দ্রলালের গানের তিন ধারা প্রেমের গান, স্বদেশী গান ও হাসির গান। এর মধ্যে তার প্রেমের গান সবচেয়ে আন্তরিক সৃজন, স্বদেশী গান সবচেয়ে জনপ্রিয়, হাসির গান সবচেয়ে মৌলিক ও অভিনব। তবে যথার্থ সচেতনতা ও সুর সংরক্ষণের অভাবে তার বেশির ভাগ গানের সুর এখন হারিয়ে গেছে। দ্বিজেন্দ্রগীতির কোনো নির্ভরযোগ্য ও সুসম্পাদিত সংকলন নেই ।

তথ্যসূত্র:

১. সুধীর চক্রবর্তী সম্পাদিত আধুনিক বাংলা গান, প্যাপিরাস, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১ বৈশাখ ১৩৯৪, পৃষ্ঠা, ১৭১-১৭২।

আরো পড়ুন

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top