আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সংকলন

হেঁ-হেঁ আলির ছড়া

কাণ্ড মহকুমার সদরে ভাই দেখে এলাম কাণ্ড একজন ডালে একজন পাতায় খোঁজে গাছের কাণ্ড দেখতে তালপাতার সেপাই মাথাগুলো প্রকাণ্ড তাকায় না ফলফুলে লক্ষ্য একদম মূলে বলে না অবিশ্যি খুলে তারা ছাড়া বাকি সবাই কেন অকালকুষ্মাণ্ড এ কয় ওরে, শিখো রে পৌঁছুতে হয় কী ক'রে সোজা সটান শিকড়ে— ব'লে যেই না হাত দেয় ছেড়ে চিৎ ক'রে দেয় ব্রহ্মাণ্ড।। বাঘে চরাতে নিয়ে গেছিলম গো মালিক তিন শো শব্দ গো মালিক তিন

কাছে দূরে

মুখখানি যেন ভোরের শেফালি নেমে গেল এক্ষুনি দু-অধরে চেপে চাঁদ একফালি নেমে গেল এক্ষুনি তার দুটি আঁখি খঞ্জন পাখি দূরে কাছে ঘুরে নাচে এই আছে এই নেই আছে নেই দূরে কাছে ঘুরে নাচে নেমে গেল এক্ষুনি হাওয়া বারে বারে আঁচল সরায় হাত বারে বারে ঢাকে হাত খালি হলে আঙুল জড়ায় সময়কে পাকে পাকে নেমে গেল এক্ষুনি ঝুঁকে প’ড়ে চোখে চূর্ণ অলক যেন চায় পড়ে নিতে শ্বেতপাথরের

ফড়েদের প্রতি

আমি জানি, আমি দাবা খেলতে বসলেই পেছনে হুমড়ি খেয়ে পড়বে এক লক্ষ ফড়ে— যে যার হাতের কাজ ফেলে রেখে আমার প্রত্যেকটা চাল পাখি পড়ানোর মত করে বলে দিতে চাইবে। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না এর পর আমি কি তাদের করজোড়ে বলব— হে ভদ্রমহোদয়গণ, হয় চুপচাপ বসে থেকে দেখুন নয় যে যার জায়গায় ফিরে যান আমার খেলাটা, দোহাই এখন থেকে আমাকেই খেলতে

আমার কাজ

আমি চাই কথাগুলোকে পায়ের ওপর দাঁড় করাতে। আমি চাই যেন চোখ ফোটে প্রত্যেকটি ছায়ার। স্থির ছবিকে আমি চাই হাঁটাতে। আমাকে কেউ কবি বলুক আমি চাই না। কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত যেন আমি হেঁটে যাই। আমি যেন আমার কলমটা ট্রাক্টরের পাশে নামিয়ে রেখে বলতে পারি— এই আমার ছুটি ভাই, আমাকে একটু আগুন দাও।

আশ্চর্য কলম

এই যে দাদা, এতদিনে বেরিয়েছে নতুন ফর্মুলায় তৈরী খলিফাচাঁদের আশ্চর্য কলম — ‘খাইখাই’ চোর, জোচ্চোর, লোচ্চা, লম্পট, খাজা, খোজা পণ্ডিত, মূর্খ যে কেউ চোখ বুঁজে রাতারাতি লেখক হতে পারে। একলম হাতে থাকলে বসা বা দাঁড়ানো, চিৎ বা উপুড় যে কোন অবস্থায় প্রকাশ্যে ঝোপ বুঝে কোপ দেওয়া যায়— কোনরকম আগবাগ বা রাখঢাকের দরকার হয় না। দিন কে রাত, সোজাকে কাৎ হতাশাকে হাত করতে এ

আমার ছায়াটা

আগুন মুখে ক’রে একটা দড়ি বেড়ার গায়ে ঝুলছিল সিগারেটটা ধরাতে গিয়ে দেয়ালের গায়ে চোখ পড়ল ঠিক আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে অবিকল নকল করছে আমার ছায়া মাথায় আমারই মতো পাখির বাসা চোখে চশমা ঠোঁটে সিগারেট ধরা ধোঁয়ার জায়গাগুলো নিখুঁতভাবে ফোটালেও আমি লক্ষ করলাম আগুনের জায়গাটা ইচ্ছে করেই যেন চেপে গেল দেয়ালের গা থেকে ছায়াটা ছাড়িয়ে নিয়ে ফুটপাথে আমি আছড়ে ফেললাম তারপর টেনে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে নিয়ে গেলাম একটা গাছের নীচে ছায়াটাকে রেখে বেরিয়ে

রোদে দেব

আমরা বড়রা কেন বার বার পালিয়ে এ-ঘরে এসে চোখ মুছি? মেয়েটা অবাক হয়, ভাবে— আমরা নিশ্চয় কাঁদছি! তা যদি না হবে— আমাদের চোখে কেন জল? বোকা মেয়ে! কী করে বোঝাই— কখনও কখনও চোখের কুয়োয় জল তোলে কান্না নয় —জ্বালা! বোকা মেয়ে! ভিজে কাঠে যখনই ফুঁ দিই— কিছুতে ধরে না আঁচ, ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় চোখে ধরে জ্বালা; যেদিকে তাকাই দেখি সমস্ত ধোঁয়ায় ধোঁয়াকার। চোখের জ্বালায় আমরা বাইরে আসি চোখ মুছি চোখে আমাদের তাই জল। জীবনের এই হাল তা

জনযুদ্ধের গান

বজ্রকণ্ঠে তােলাে আওয়াজ রুখবো দস্যুদলকে আজ, দেবে না জাপানি উড়ােজাহাজ ভারতে ছুঁ‘ড়ে স্বরাজ।   এদেশ কাড়তে যেই আসুক, আমরা সাহসে বেঁধেছি বুক, তৈরি এখানে কড়া চাবুক, চলছে কুচকাওয়াজ।   একলা তবু তাে পাঁচ বছর চীনের গেরিলা লড়ছে জোর, তাই তাে শহরে গ্রামে কবর পাচ্ছে জাপ বহর।   আমরা নই তাে ভীরুর জাত দেব নাকো হতে দেশ বেহাত, আজকে না যদি হানি আঘাত দুষবে ভাবী সমাজ।।

দুয়ো

১. আমি তো আর ফটোয় তোলা ছবি নই যে, সারাক্ষণই হাসতেই থাকব। আমার মুখে তো চোঙ লাগানো নেই, যে সারাক্ষণ গাঁক গাঁক করব আমার তো হাতে কুষ্ঠ হয়নি যে, সারাক্ষণ হাত মুঠো করে রাখব। ২. জামার নীচে পৈতে আর আস্তিনের তলায় তাবিজ ঢেকে এক নৈকষ্য কুলীনের ছাঁ আমাকে পরিস্কার বোঝাল দুনিয়াটাকে কীভাবে বদলাতে হবে।

এক অস্থায়ী চিত্র

বাঁশির শব্দে সবুজ আলোয় আস্তে আস্তে ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেন । প্ল্যাটফর্মের খালি বেঞ্চে, মনে করুন, আপনি একা বসে বসে শুধুমাত্র দেখছেন । সামনেই যেখানে যার থাকার কথা নিজের নিজের জায়গায়.. কেউ নেই। কাছের মানুষ মায়া কাটিয়ে চলেছে দূরপাল্লায়। তাকিয়ে দেখুন, এক মুহূর্তে সমস্ত মুখ ভিড় করেছে জানলায়— বুকের কাছে ফুলের গুচ্ছে নড়ছে কাছে-থাকার ইচ্ছে ওঠানো হাত বিদায় নিচ্ছে রুমাল উড়ছে রুমাল উড়ছে হঠাৎ..... দাঁড়িয়ে গিয়ে স্টেশনের সেই স্থিরচিত্র নড়িয়ে দিল ট্রেন। টেনেছিল নিশ্চয় কেউ চেন। আপনি তখন

Top