আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > ইতিহাস

আইন অমান্য আন্দোলন প্রসঙ্গে

আইন অমান্য আন্দোলন (Civil disobedience movement) হচ্ছে আন্দোলনের একটি প্রতিক্রিয়াশীল সুবিধাবাদী ধারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃতিবাদী দার্শনিক হেনরি ডেভিড থােরাে (১৮১৭-৬২) তাঁর ‘অন দ্য ডিউটি অব সিভিল ডিসওবিডিয়েন্স’ (১৮৪৯) নামে একটি প্রবন্ধে গণপ্রতিবাদ ও আন্দোলনের এই পদ্ধতিটি তুলে ধরেন। যে-সরকার ক্রীতদাস প্রথা অনুমােদন করে সে সরকারকে কর না দেবার সিদ্ধান্তকে তিনি

অসহযােগ আন্দোলন ভারতীয় জমিদারশ্রেণির ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আন্দোলন

ভারতের জাতিয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়াশীল নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯২০-২২ সালে পরিচালিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় জমিদারশ্রেণির ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আন্দোলন হচ্ছে অসহযােগ আন্দোলন (Non co-operation Movement)। এই আন্দোলনে জনগণের বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ভারতের জমিদারশ্রেণি নিজেদেরকে সারা ভারতে কৃষকশ্রমিকদের উপর ক্ষমতার ছড়ি ঘোরানোর দক্ষতা অর্জন করে।

আঠারো শতকের ষাটের দশকে শাসন সংস্কার

ঔপনিবেশিক শাসন প্রণালীর পরিবর্তন ১৮৫৭-১৮৫৯ খ্রীস্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থান ভারতের ইতিহাসে একটি অতি গুরত্বপূর্ণ ঘটনা। এতে ব্রিটিশ শাসনের সামাজিক ভিত্তির আপেক্ষিক দুর্বলতা প্রকটিত হয়েছিল এবং শোষকদের বিরুদ্ধে জনগণের গভীর ঘৃণাও আত্মপ্রকাশ করেছিল। প্রসঙ্গত জওহরলাল নেহরুর ‘ভারত সন্ধানে' বইটির একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ্য: ‘বিপ্লর কেবল প্রত্যক্ষভাবে দেশের কোনো কোনো অংশে দেখা দিলেও এটি সারা

ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী প্রতিরোধ ও সংগ্রাম

ভারতে ব্রিটিশ প্রাধান্য দৃঢবদ্ধ হয়ে উঠেছে এই বিশ্বাসে ঔপনিবেশিক শাসকগণ সারা ভারতে প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশীয় রাজাগুলি তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই লক্ষ্যার্জনের অন্যতম উপায় ছিল ‘রাজ্যগুলির স্বত্বলোপ নীতি’ প্রবর্তন। এতে নিঃসন্তান রাজার দত্তক পুত্রের উপর রাজ্যের মালিকানা অর্সাত না। এভাবে ১৮৪৮-১৮৫৮ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে সাতারা,

ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ভারতীয় সংস্কৃতি

সর্বাঙ্গীন পরিচিতি আকবরের রাজত্বকালে ভারতীয় সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রাধান্য লাভ করেছিল মুসলমান ও হিন্দু, এই দুটি প্রধান সংস্কৃতি থেকে আহৃত উপাদানসমূহের এক সংশ্লেষণী প্রক্রিয়া। হিন্দু সংস্কৃতির উপাদানগুলি স্পষ্টতই প্রাধান্য পেয়েছিল ফতেপুর সিক্রির অট্টালিকাগুলির স্থাপত্যশৈলীতে : তাই আমরা দেখতে পাই সমতল ছাদের গঠন, ফুলের মালার বিজড়িত ছাঁদে হিন্দু অলঙ্করণ-শৈলীর ছাপ, ইত্যাদি। ফতেপুর সিক্রিতে

সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মোগল বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানসমূহ

মোগল-সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ক্রমাগত ফুসে উঠেছিল নানা গণ-অভ্যুত্থান। যদিও এইসব অভ্যুত্থানের প্রকৃতি ছিলো ভিন্ন-ভিন্ন এবং এগুলির মধ্যে সংযোগ কিংবা সময় ছিলো সামান্যই। এগুলির পেছনে চালক-শক্তি এবং লক্ষ্য ইত্যাদিও ছিলো বিভিন্ন বিচিত্র যেমন, উদাহরণস্বরূপ, বিদ্রোহী জাঠদের অধিকাংশ যেমন ছিলেন কৃষক তেমনই শিখ- ধর্মান্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শহরের

আওরঙ্গজেবের শাসনামলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

আওরঙ্গজেবের রাজত্বকাল শাহ জাহানের চার ছেলের রাজ্য শাসনের জন্য  চলে দু'বছরেরও বেশি সময় ধরে যে রেষারেষি চলে তার অবসান ঘটিয়ে  সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে বিজয়ী হন আওরঙ্গজেব। এই লড়ায়ে প্রচুর সাহায্য যোগান মীর জুমলা । কিন্তু সিংহাসনে বসার পর বিশ্বাসঘাতক আওরঙ্গজেব তাড়াতাড়ি মীর জুমলাকে দূরে সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হলেন এবং তাঁকে পাঠিয়ে

আওরঙ্গজেবের ষড়যন্ত্র ও সামন্ত-ভূস্বামীদের মধ্যে বিবাদ

যুদ্ধ ও সামন্ত-ভূস্বামীদের মধ্যে বিবাদ-বিসংবাদ মোগল আমলের সমস্ত গণ-আন্দোলনের ফলে মোগল-রাজকোষে রাজস্বের পরিমাণ হ্রাস পায়। ওদিকে গোলকোণ্ডা-রাজ্য ১৬৩৬ খ্রীস্টাব্দে মোগলদের যেবার্ষিক সেলামি দেবে বলে চুক্তি করেছিল তা দেয় বন্ধ করে। ইতিমধ্যে মোগল রাজকোষে অর্থের টানাটানি পড়ায় এই সেলামি পাওয়ার প্রয়োজন ছিল মোগলদের, তদুপরি আবার গোলকোল্ডা ছিল ধনী দেশ। গোলকোল্ডা রাজ্যের অর্থনীতির

মোগল আমলে দাক্ষিণাত্য দখল অভিযান

জাহাঙ্গীরের আমালে দাক্ষিণাত্যের যুদ্ধ সপ্তদশ শতকের মোগল-সম্রাটরা সমগ্র দক্ষিণ-ভারত নিজেদের পদানত করার আশা ত্যাগ করেন নি। ওই সময়ে মোগল-সেনাবাহিনীর দাক্ষিণাত্য-অভিযান শুরু করার পক্ষে প্রধান অগ্রসর ঘাঁটি ছিল গুজরাট। আহমদনগর, বিজাপুর ও গোলকুণ্ডা-রাজ্য মোগলদের বশ্যতাস্বীকারে রাজি ছিল না। এই তিনটি রাজ্য সর্বদাই নিজেদের সীমানা-সংলগ্ন ভূখণ্ডের দাবিদাওয়া নিয়ে পরস্পরের মধ্যে লিপ্ত থাকত যুদ্ধ-বিগ্রহে,

শাহ জাহান পরিচালিত ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতালোভ

শাহ জাহান ও মহব্বত খাঁর পরিচালিত ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতা লোভ আহমদনগর জয় করার পুরস্কারস্বরূপ জাহাঙ্গীর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র খুররমকে শাহ জাহান (অর্থাৎ দুনিয়ার শাসনকর্তা) উপাধি দিলেন ও তাঁকে নিযুক্ত করলেন সমৃদ্ধ গুজরাট রাজ্যের শাসনকর্তা। ওই সময়ে জাহাঙ্গীর তাঁর প্রধানা মহিষী নুর জাহানের একেবারে হাতের মুঠোয় চলে গিয়েছিলেন এবং এই প্রমত্ত আফিমখোর

Top