আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য

পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি

মনে রাখো তোমাদের দশদিক এখন বড়ই কুটিল, মনে রাখো তোমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস থামতে বসেছে, ধীর ও জটিল তোমার রক্তমাখা সরীসৃপের মতো গতি, তোমার বংশের সাথে গাছপালা পাঠ চুকায় ক্রান্তিকালের মোড়ে, তবুও কোথায় কোনো এক সুতোর টান অনুভূত হতে পারে প্রাণ আছে বলে আবিষ্কৃত জগদীশের আবিষ্কারে।   গাছ হতে শিশু জন্ম নেয়, তুমি শিশুর কান্না থামাও,   রুমঝুমির ঝুনঝুন শব্দে

বাঁশিঅলা

আমি বাজাই বাঁশি মনের আনন্দে নয়, মনহরিণীর মন হরণ করার জন্যেও নয়, আমি বাঁশি বেচি, বাঁশি বেচতে গেলে বাঁশি বাজিয়ে শোনাতে হয়; অবশ্য খারাপ বাঁশিটিও আমার কাছে সুমধুর সুর তোলে, নেতার স্পর্শে যেমন বেয়াড়া মানুষটিও সুন্দর গুণে ভরে ওঠে; আমার ফুঁ দিয়ে যাদুর সুর আসে; সেই সুর মৃত মানুষকে জাগিয়ে তোলে, মহামানুষে পরিণত করে, কিন্তু আমি থাকি পূর্বেরই মতো।   আমি জানি আমার বাঁশিরা

চুম্বন ও স্বাধীনতা

— কী দেখতে পাচ্ছো? — আলোর উজ্জ্বলতা ? — কী স্পর্শ করছ? — তার মুখ; এলোমেলো দীপ্ত চিবুক, সবুজ স্নিগ্ধ বনানি, লাস্যময় জারুল বেগুনি   শিশিরস্নাত কচুরির ফুল; আমাদের দুজনের সময় মশগুল, চুম্বন, উষ্ণ হার্দ্য নরম লাজলজ্জ্বাহীন সভ্যতার সীমাহীন মনোরম আমাদের হর্ম্য স্বাধীনতা; প্রেমে যুদ্ধে এবং যুদ্ধোত্তর বেদনায় পাওয়া এই ভালোবাসা, খুঁটেখুঁটে জমানো হৃদয়ের ডাকবাক্সে পরিত্রাণের আশা, আপাদমস্তক পাবার প্রত্যাশা; — আলকাতরার মতো জমাট অন্ধকার কেটে

সৌন্দর্য বিষয়ক কথা ও শত্রুরা

শক্তি শিল্প অধিকারহীন আমরা তাদেরকে প্রাণবন্ত সময়ের গান শোনাতে পারিনি। পৃথিবীর সুন্দর কথাগুলোকে তারা নদী ও সমুদ্রগর্ভে বিলীন করতে চেয়েছে। তারা বোঝেনি; সুন্দর কথা সবকালে পাল্টে নিতে হয়।   ২৫.০৮.২০০৪; কাস্টম মোড়, কুষ্টিয়া। চিত্রের ইতিহাস: কবিতায় ব্যবহৃত অংকিত চিত্রটি বরিস কুস্তোদিয়েভ (১৮৭৮-১৯২৭) আঁকা চিত্র 'সুন্দর এবং পশু' (Beauty and the beast)। শিল্পী চিত্রটি আঁকেন ১৯১৬ সালে। ছবিটি উপরে নিচে সামান্য

ইত্যাদি

হাজার বর্গমাইল জুড়ে তোমার প্রতিচ্ছবি, হাসছ, নাচছ, কইছ কথা সাদা-কালো রাতে, চিত্রময় যে প্রেম আসে ফুটন্ত জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে তার পাশে হাত ধরে কবিতা পড়িও, টাঙনের তীরে বেড়াতে আসিও, জলপ্রপাতের মতো ভালোবাসিও, পাখির তিয়াসা নিয়ে আমায় ডাকিও,   ইষদুষ্ণতায় মন খুব ভিজে যাক, সমার্থক প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাক, সহযোগী বাদ্যগুলো বাজনা বাজাক রিনিঝিনি রিমঝিম কিংবা সরগম, অর্ফিয়ুসের বাঁশি যেন বাজে রাধার কানে, ছায়াছবির ছায়া

তোমার ছন্দে, জীবনানন্দে

বহুদিন পর আবার দেখা— সেই জারুল ফুল, সেই কাল, সেই কোমলতা; একদিন সৃষ্টির সহযোগিতায় আমাদের দৃষ্টিমত্ততায় আনন্দের কলরোল। ইন্দ্রানি দিন যাক বা নাই যাক বদলাক বা নাই বদলাক, অনুভবে তোমার পাশে আমি একই গাড়িতে সবুজ শাড়িতে সজীব সিঁড়িতে উঠানামা, সেই রকম চাহনিতে চোখ, তবুও সময়ের দরজায় আকাঙ্খার তীর, ঐশ্বর্য আসুক ঘরে জোস্নার আলোয় মিশে, চিত্রলিপি হোক পদ্মফুলের ঘ্রাণ, তুমি এসেছো এই সত্যটুকু

সেদিনের সন্ধেটা

দূরে তবু খুব দূরে নয়, আছো কাছে তুমি দাঁড়িয়েছো বৃত্ত ভাঙবার ভঙ্গিমায়, জাপটে ধরেছ ধোঁয়া ভুল ভাবনাহীন; হাসিখুশি, যেন তুমি ঘরোয়া ঝর্ণা ছড়িয়ে দিয়েছ গণসংগীত মূর্ছনা, মৃদু সম্ভাষণ শেষে জানতে চেয়েছিলে, কেমন ছিলে সেইদিন কার গৃহডোরে? এখন কেমন আছে সেই সন্ধ্যেটা?   ছলকে উঠেছে মন, ভাবনায় স্মৃতি, আমরা হয়েছি আজ কার সাথে সাথী, নড়ছে স্মৃতিপাতা স্মৃতিপ্রবাহে, ঘটে কী জগতে সব হৃদয়ে

ফি বাৎসরিক ভুল ফল অথবা গণ্ডার

একের সংগে একাধিক যোগ করে দেখেছি আমি শেষকালে সাদা খাতা জমা আছে হাতের তালুতে, পথের মধ্যখানে দাঁড়িয়েছি, ডেকেছি নতুন সুরে সবটুকু উজাড় করে, পাইনি নতুন কোনো সঙ্গী পথিক; আলাপের কালে বারবার হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে কিছুই মেলেনি একঝাঁক আধামানুষ অবলীলায় বলে গেছে শেখানো সব কথা, দেখেছি সবুজ দ্বীপে সেইসব প্রাণিদের খেলা যারা ভুল পথে দিয়েছে পাড়ি হাতে নিয়ে

তুমি শোনাও সভ্যতার ডাক

আমি একদিন বিকেলে হাঁটতে বেরিয়ে দেখেছি গাড়ি চালাতে চালাতে কেউ মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়েছে পাশের অষ্টাদশির দিকে, কেউবা দেখেছে চোখ টেরিয়ে পশ্চাতে সম্মুখে, দৃশ্যেরা আমার কাছে সুপার ইম্পোজ করা ছবির মতো মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে পরস্পরঃ ভালোবেসে দুজনের হাত ধরে পাশাপাশি নিরন্তর হাঁটাহাঁটি—সত্যি কি তাই? এ-পৃথিবীর নিবিড় সত্য ভালোবাসা বলে কিছু নাই। আমরা কেউ কেউ তদুপরি নিয়মিত ভালোবাসার চত্বরে

পিতা-পুত্র

তীব্র অবজ্ঞা, উদাসীনতা ও রূঢ়তায় দগ্ধ এক নিমোর্হ অনভিক্ত অসংযত বালক কর্মহীন রাজপথে ভেসে গিয়ে পায় কুড়িয়ে লাল ত্যানায় মোড়া এক মুমূর্ষু কফিন; বালকের কচি মন ভেবে ভেবে হয়রান কী করবে সে সেই কাঠের কফিনখানি, কীভাবে কফিনে করে নিয়ে যাবে একসাথে এতো সব লাশ— বাপ দাদা নানী চাচা চৌদ্দ গোষ্ঠির?   সদুত্তরহীন ক্ষুব্ধ মনে বিষন্নতার গাঢ় ক্ষণে   তন্দ্রামগ্নতার ঘোরে সে পেয়ে

Top