আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য

আর আমাদের ভালবাসা? — হাসন লাল

(কমরেড এম এ মতিনকে নিবেদিত) আমি অকবি হাসন লাল উত্তর দক্ষিণ এখানে সেখানে স্টেশন টারমিনাল ঘুরে যার সাথে দেখা হত আমার সেই এম. এ.  মতিন আমার ভাই অথবা বন্ধু অভাগা বাংলার প্রতীক জানতেন আমাকে আসতেই হবে আমাদের জীর্ণ জীবনগুলো একটি কেন্দ্রে আবর্তিত হতেই হতো তিনি প্রবলভাবে ঘৃণা করতেন আমি প্রবলভাবে ঘৃণা করতাম আমরা প্রবলভাবে ঘৃণা করি বল ঘৃণা করি ঘৃণা করি......... কী ঘৃণা করি? ........................ আর আমাদের

কমরেড এম এ মতিন — কাজী সালাহউদ্দীন মুকুল

(কমরেড এম এ মতিনকে নিবেদিত)   তুমি মুক্তি খুঁজেছিলে অনন্ত খোলা আকাশে বাতাসে বাতাসে গেয়েছিলে ইন্টারন্যাশনাল—মুক্তির গান।   পুঁজিবাদী লোহার খাঁচায় বন্দি তোমার স্বপ্ন লুটেরা বুর্জোয়া শিকলে বাঁধা ভাষায়, তুমি— নাকি ছিলে প্রলেতারিয়েত সন্ত্রাসী! অথচ— তুমি দেখেছিলে কৃষক নিজের চোখের জলে নিজ জমিনে দিয়েছে সেচ; শোষণের গনগনে পতিত আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়েছে শ্রমিকের সংসার।   চোখের ক্যানভাসে তুমি ছবি এঁকেছিলে— শোষণহীন

কী এমন ক্ষতি হতো — জাকির মুস্তাফিজ মিলু

(কমরেড এম এ মতিনকে নিবেদিত) কী এমন ক্ষতি হতো একটু দেরি করে গেলে! না হয় যেতে কমরেড একবার আড্ডায় ব্রক্ষ্মপুত্রের ধারে আর একবার শুধু চা খাওয়া, খুনসুটি অতীত দিনের মজার কথায় যৌথ অট্টহাসি। শুধু একবার কমরেড তোমার ঠোঁটের স্পর্শ পাওয়া বিড়িটার টান আমার ঠোঁটে তাকে এনে আমার বুকে রাখতাম তারপর চলে গেলে নিঃশ্বাসের সাথে কী আর এমন

রাতের শেষ প্রহরের যোদ্ধা

(কমরেড এম. এ. মতিনকে)   ছোট্ট মানুষটি বহুদিন আগে থেকে অতি ধীরে ধীরে নীলাকাশ ছাড়িয়ে উঠে গেছেন মহাশূন্যে ঘুরে ঘুরে দেখছেন কালোমেঘ ঝড় আর কৃষকের সুখভোগ, লাখো লাখো শিশুদের ভিড়ে বলবান দশ হাতের আঙুলে আঙুল গুনে বুঝে নেন মমতা মানুষ আর ফসলের ঘ্রাণ।   পোড়ামাটি নীতির কখনো মৃত্যু হয় না জেনে রোগাটে শরীর নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নির্ভীক এক অদম্য সমরনায়ক, ভুল পথে

দুটি প্রাথমিক প্রশ্ন থেকে — নবারুণ ভট্টাচার্য

অনেক গ্রামবাসী তাদের চারজন কমরেডের মৃতদেহর জন্য শহরতালুকের মর্গের বাইরে সকাল থেকে বসে আছে, একজন শ্রমিক হায় কি দুর্বল তার ইউনিয়ন রেললাইনের দিকে তাকিয়ে ভাবছে আত্মহত্যা করলে কী বাঁচা যাবে? আরো পড়ুন

কালবেলা — নবারুণ ভট্টাচার্য

যুবকেরা গেছে উৎসবে যুবতীরা গেছে ভোজসভায় অরণ্য গেছে বনানীর খোঁজে গরীব জুটেছে শোকসভায়। গয়নারা গেছে নীরব লকারে বন্যপ্রাণীরা অভয়ারণ্যে বিমান উড়েছে আকাশের খোঁজে গরীবরা শুধু হচ্ছে হন্যে। আরো পড়ুন

শিশুরা শুধু — নবারুণ ভট্টাচার্য

মূর্খ! কোনো আস্থাই নেই মন্ত্রীর আশ্বাসে, শিশুরা শুধু মরতে ভালোবাসে। জমছে খালি দুধের বোতল, সস্তার ঝুমঝুমি, নজর কাটার কাজলফোঁটা কোথায় দেবে তুমি, দোলনা একা দুলেই চলে রাতের মহাকাশে, শিশুরা শুধু মরতে ভালোবাসে। আরো পড়ুন

পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি

মনে রাখো তোমাদের দশদিক এখন বড়ই কুটিল, মনে রাখো তোমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস থামতে বসেছে, ধীর ও জটিল তোমার রক্তমাখা সরীসৃপের মতো গতি, তোমার বংশের সাথে গাছপালা পাঠ চুকায় ক্রান্তিকালের মোড়ে, তবুও কোথায় কোনো এক সুতোর টান অনুভূত হতে পারে প্রাণ আছে বলে আবিষ্কৃত জগদীশের আবিষ্কারে।   গাছ হতে শিশু জন্ম নেয়, তুমি শিশুর কান্না থামাও,   রুমঝুমির ঝুনঝুন শব্দে

বাঁশিঅলা

আমি বাজাই বাঁশি মনের আনন্দে নয়, মনহরিণীর মন হরণ করার জন্যেও নয়, আমি বাঁশি বেচি, বাঁশি বেচতে গেলে বাঁশি বাজিয়ে শোনাতে হয়; অবশ্য খারাপ বাঁশিটিও আমার কাছে সুমধুর সুর তোলে, নেতার স্পর্শে যেমন বেয়াড়া মানুষটিও সুন্দর গুণে ভরে ওঠে; আমার ফুঁ দিয়ে যাদুর সুর আসে; সেই সুর মৃত মানুষকে জাগিয়ে তোলে, মহামানুষে পরিণত করে, কিন্তু আমি থাকি পূর্বেরই মতো।   আমি জানি আমার বাঁশিরা

চুম্বন ও স্বাধীনতা

— কী দেখতে পাচ্ছো? — আলোর উজ্জ্বলতা ? — কী স্পর্শ করছ? — তার মুখ; এলোমেলো দীপ্ত চিবুক, সবুজ স্নিগ্ধ বনানি, লাস্যময় জারুল বেগুনি   শিশিরস্নাত কচুরির ফুল; আমাদের দুজনের সময় মশগুল, চুম্বন, উষ্ণ হার্দ্য নরম লাজলজ্জ্বাহীন সভ্যতার সীমাহীন মনোরম আমাদের হর্ম্য স্বাধীনতা; প্রেমে যুদ্ধে এবং যুদ্ধোত্তর বেদনায় পাওয়া এই ভালোবাসা, খুঁটেখুঁটে জমানো হৃদয়ের ডাকবাক্সে পরিত্রাণের আশা, আপাদমস্তক পাবার প্রত্যাশা; — আলকাতরার মতো জমাট অন্ধকার কেটে

Top