আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য

দশ আঙ্গুলের স্পর্শে একটি প্রত্যাশিত দিন

তারা জানেনা জন্ম নেওয়ার পড়ে তাদের কি পরিচয় হবে,/ শুধু জেনেছে দুঃখ-কষ্ট, ক্ষুধা-দারিদ্র, যুদ্ধ-দখল দেখতে হবে,/ তাদের জীবিত দিনগুলো কি তারুণ্যে কাটবে?/ নাকি আঘাত আর যন্ত্রণায় কাটবে?/ যাই ঘটুক না কেনো শুধু জানে একটি ঘুর্ণায়মান চাকা চালু হবে,/ তাই আপনারা হাতে নরম কাদা নিন, তারপরে সেটা চাকা উপর রাখুন। আরো পড়ুন

ইচ্ছেদের চাষাবাদ করব বলে যুগল পথ চলা

শহরের রাস্তাটা খুঁড়ছে, তা দেখতে দেখতে/ স্টেশনের যাচ্ছি তুমি আসবে জেনে।/ আমার কাছে আজকের দিনটি প্রত্যাশিত,/ মনের নানা খাল-খন্দর ভরাট করতে আমরা পাশাপাশি বসব,/ হকারের গুছানো ঝুড়ি, নানা কিছিমের ভিখারি,/ যাত্রীর আসা যাওয়া, মাছিদের উন্মুক্ত পাখা; আরো পড়ুন

সদাগরি অফিস

গঙ্গা কইতরও ওড়ে, জলের ভেতরে নড়ে ছোট ডানকিনা, একদিকে সমুদ্র আর অন্যদিকে বাবুর আঙিনা, সাহায্য করেছ বাবু, মুক্তিযুদ্ধে নিয়েছ দক্ষিণা, তাই, আজ চাও পুরো জলাভূমি, জলাবনের মালিকানা,/ পাখনায় লেগেছে আঘাত, চাবুকও বসেছে বুঝি হৃদ পাথারে, একটু হাঁড়ির ভাত, দুই ধর্মে ভাগাভাগি করে, খেয়েছিলে কোনকালে! তারপর কত দিন চলে গেছে আধিপত্যের হল্লাবোলে, আরো পড়ুন

তেলেনাপোতা আবিষ্কার

শনি ও মঙ্গলের–মঙ্গলই হবে বোধ হয়–যোগাযোগ হলে তেলেনাপোতা আপনারাও একদিন আবিষ্কার করতে পারেন। অর্থাৎ কাজেকর্মে মানুষের ভিড়ে হাঁফিয়ে ওঠার পর যদি হঠাৎ দু-দিনের জন্য ছুটি পাওয়া যায়–আর যদি কেউ এসে ফুসলানি দেয় যে কোনো এক আশ্চর্য সরোবরে–পৃথিবীর সবচেয়ে সরলতম মাছেরা এখনো তাদের জল-জীবনের প্রথম বড়শিতে হৃদয়বিদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে, আর জীবনে কখনো কয়েকটা পুঁটি ছাড়া আরো পড়ুন

মহানগর

আমার সঙ্গে চলো মহানগরে– যে-মহানগর ছড়িয়ে আছে আকাশের তলায় পৃথিবীর ক্ষতের মতো, আবার যে-মহানগর উঠেছে মিনারে মন্দিরচূড়ায়, আর অভ্রভেদী প্রাসাদ-শিখরে তারাদের দিকে, প্রার্থনার মত মানবাত্মার। আমার সঙ্গে এসো মহানগরের পথে, যে-পথ জটিল, দুর্বল মানুষের জীবনধারার মতো, যে-পথ অন্ধকার, মানুষের মনের অরণ্যের মতো, আর যে-পথ প্রশস্ত, আলোকোজ্জ্বল, মানুষের বুদ্ধি, মানুষের উৎসাহের মতো। এ-মহানগরের সংগীত রচনা করা উচিত– ভয়াবহ, বিস্ময়কর সংগীত।আরো পড়ুন

আর আমাদের ভালবাসা? — হাসন লাল

(কমরেড এম এ মতিনকে নিবেদিত) আমি অকবি হাসন লাল উত্তর দক্ষিণ এখানে সেখানে স্টেশন টারমিনাল ঘুরে যার সাথে দেখা হত আমার সেই এম. এ.  মতিন আমার ভাই অথবা বন্ধু অভাগা বাংলার প্রতীক জানতেন আমাকে আসতেই হবে আমাদের জীর্ণ জীবনগুলো একটি কেন্দ্রে আবর্তিত হতেই হতো তিনি প্রবলভাবে ঘৃণা করতেন আমি প্রবলভাবে ঘৃণা করতাম আমরা প্রবলভাবে ঘৃণা করি বল ঘৃণা করি ঘৃণা করি......... কী ঘৃণা করি? ........................ আর আমাদের

কমরেড এম এ মতিন — কাজী সালাহউদ্দীন মুকুল

(কমরেড এম এ মতিনকে নিবেদিত)   তুমি মুক্তি খুঁজেছিলে অনন্ত খোলা আকাশে বাতাসে বাতাসে গেয়েছিলে ইন্টারন্যাশনাল—মুক্তির গান।   পুঁজিবাদী লোহার খাঁচায় বন্দি তোমার স্বপ্ন লুটেরা বুর্জোয়া শিকলে বাঁধা ভাষায়, তুমি— নাকি ছিলে প্রলেতারিয়েত সন্ত্রাসী! অথচ— তুমি দেখেছিলে কৃষক নিজের চোখের জলে নিজ জমিনে দিয়েছে সেচ; শোষণের গনগনে পতিত আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়েছে শ্রমিকের সংসার।   চোখের ক্যানভাসে তুমি ছবি এঁকেছিলে— শোষণহীন

কী এমন ক্ষতি হতো — জাকির মুস্তাফিজ মিলু

(কমরেড এম এ মতিনকে নিবেদিত) কী এমন ক্ষতি হতো একটু দেরি করে গেলে! না হয় যেতে কমরেড একবার আড্ডায় ব্রক্ষ্মপুত্রের ধারে আর একবার শুধু চা খাওয়া, খুনসুটি অতীত দিনের মজার কথায় যৌথ অট্টহাসি। শুধু একবার কমরেড তোমার ঠোঁটের স্পর্শ পাওয়া বিড়িটার টান আমার ঠোঁটে তাকে এনে আমার বুকে রাখতাম তারপর চলে গেলে নিঃশ্বাসের সাথে কী আর এমন

রাতের শেষ প্রহরের যোদ্ধা

(কমরেড এম. এ. মতিনকে) ছোট্ট মানুষটি বহুদিন আগে থেকে অতি ধীরে ধীরে/ নীলাকাশ ছাড়িয়ে উঠে গেছেন মহাশূন্যে/ ঘুরে ঘুরে দেখছেন কালোমেঘ ঝড় আর কৃষকের সুখভোগ,/ লাখো লাখো শিশুদের ভিড়ে/ বলবান দশ হাতের আঙুলে আঙুল গুনে বুঝে নেন/ মমতা মানুষ আর ফসলের ঘ্রাণ। পোড়ামাটি নীতির কখনো মৃত্যু হয় না জেনে/ রোগাটে শরীর নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে/ নির্ভীক এক অদম্য সমরনায়ক, আরো পড়ুন

দুটি প্রাথমিক প্রশ্ন থেকে — নবারুণ ভট্টাচার্য

অনেক গ্রামবাসী তাদের চারজন কমরেডের মৃতদেহর জন্য শহরতালুকের মর্গের বাইরে সকাল থেকে বসে আছে, একজন শ্রমিক হায় কি দুর্বল তার ইউনিয়ন রেললাইনের দিকে তাকিয়ে ভাবছে আত্মহত্যা করলে কী বাঁচা যাবে? আরো পড়ুন

Top