You are here
Home > দর্শন > সমাজদর্শন

ফয়েরবাখ সম্বন্ধে থিসিসসমূহ — কার্ল মার্কস

ফয়েরবাখ সম্বন্ধে থিসিসসমূহ[১] ১ ফয়েরবাখের বস্তুবাদ সমেত পূর্ববর্তী সমস্ত বস্তুবাদের প্রধান দোষ এই যে, তাতে বস্তুকে [Gegenstand]. বাস্তবতাকে, সংবেদ্যতাকে কেবল বিষয় [Objekt] রূপে বা ধ্যান রূপে ধরা হয়েছে, মানবিক সংবেদনগত ক্রিয়া হিসেবে, ব্যবহারিক কর্ম হিসেবে দেখা হয় নি, আত্মগতভাবে [subjectively] দেখা হয় নি। ফলে বস্তুবাদের বিপরীতে সক্রিয় দিকটি বিকশিত হয়েছে ভাববাদ দিয়ে,

শ্রেণি উদ্ভবের কারণ ও বিলুপ্তি প্রসঙ্গে মার্কসবাদ

শ্রেণি বা সামাজিক শ্রেণি কী এবং কেমন করে তার উদ্ভব হলও, এ নিয়ে মানুষে ভেবেছে অনেক আগে থেকেই। শোষকেরা প্রচার করে যে শ্রেণি সর্বদাই ছিলো এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এইসব ভাববাদী কথা বলেই শোষকেরা জনগণকে দাবিয়ে রাখতে চায়। শ্রেণি বিকাশের অভিজ্ঞতা বিচার করে শ্রেণির মর্মার্থ, তার উদ্ভবের কারণ ও বিলুপ্তির পথ নিয়ে

সামাজিক শ্রেণির রূপ ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ

শ্রেণি বা সামাজিক শ্রেণি, ইংরেজিতে Social Class, হলো একই প্রণালীতে জীবনযাত্রা নির্বাহ করে সমাজের এরূপ এক একটি অংশ। সমাজ বিকাশের নিয়মগুলি বোঝা ও ব্যাখা করবার জন্য সমাজের বড় বড় দলের লোকগুলোকে বলা হয় সামাজিক শ্রেণি। এটি দেখা দিয়েছে সামাজিক শ্রম বিভাগ আর সেইসংগে উৎপাদনের উপায়ের উপর ব্যক্তিগত মালিকানা উদ্ভবের ফলে।

সমাজ জীবনে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মূলনীতিগুলোর প্রয়োগই ঐতিহাসিক বস্তুবাদ

মার্কসীয় তত্ত্বের মূলনীতি (ইংরেজি: Basic Principles of Marxism) হিসেবে সাধারণত ৬টি নীতি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়। এগুলো যথাক্রমে হলো ১. দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ, ২. ঐতিহাসিক বস্তুবাদ, ৩. শ্রেণিসংগ্রাম, ৪. উদ্বৃত্ত মূল্যের তত্ত্ব, ৫. বিপ্লব বিষয়ক তত্ত্ব এবং ৬. রাষ্ট্রতত্ত্ব। এই নীতিগুলোর মধ্যে এখানে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ নিয়ে আলোচনা করা হলো। ঐতিহাসিক বস্তুবাদ (ইংরেজি Historical

শ্রেণিসংগ্রাম প্রসঙ্গে মার্কসবাদ

উৎপাদন ব্যবস্থার সমরূপের দ্বারা সৃষ্ট, শ্রম-অবস্থানের বিভিন্ন স্তরে অবস্থানরত জনগোষ্ঠী হলো শ্রেণি। সমঅবস্থান ও সমস্বার্থের চেতনা হলো শ্রেণিচেতনা। বর্তমান সমাজ শ্রেণিতে বিভক্ত। সাধারণ শ্রেণি স্বার্থের জন্য সংগ্রামেই দীর্ঘকাল ধরে নির্ধারিত হচ্ছে মানব সমাজের ঐতিহাসিক বিকাশ। সেই কারণে মার্কসবাদী তত্ত্ব শ্রেণিসংগ্রামকেই মনে করে ইতিহাসের চালিকা শক্তি এবং খুবই মনোযোগ প্রদান করে

মার্কসের দৃষ্টিতে মানুষ

মানুষই হলো মার্কস এঙ্গেলসের জীবনবীক্ষার কেন্দ্রীয় বিষয়। বর্তমানকে বদলাবার প্রয়োজন তারা অনুভব করেছিলেন এই মানব প্রজাতির জন্যই। প্রাণী হিসেবে ‘মনুষ্য’ নাম প্রযুক্ত হলেও সামাজিক প্রাণী হিসেবে বা নৃতাত্ত্বিক অবস্থা থেকে বর্তমান মনুষ্য হিসেবে ‘মানুষ’ শব্দটি একই সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে না। মার্কস প্রাকৃতিক ও মানবিক এই দুই অর্থে মানুষকে দেখেছেন। অর্থাৎ

মানুষের নির্ভুল চিন্তাধারা কোথা থেকে আসে? — মাও সেতুং

মানুষের নির্ভুল চিন্তাধারা কোথা থেকে আসে? সেগুলো কি আকাশ থেকে পড়ে? –না। সেগুলো কি মনের মধ্যে সহজাত? –তা নয়। মানুষের নির্ভুল চিন্তাধারা কেবলমাত্র সামাজিক অনুশীলন থেকেই আসে; সমাজের উৎপাদন সংগ্রাম, শ্রেণিসংগ্রাম ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা –এই তিনটি অনুশীলন থেকেই সেগুলো আসে। মানুষের সামাজিক সত্তা তার চিন্তাধারাকে নির্ধারণ করে। অগ্রগামী শ্রেণির নিজস্ব

প্রগতিশীলবাদ সমাজবিপ্লবে অগ্রণী শ্রেণির মতবাদ

প্রগতিশীলতা বা প্রগতিশীলবাদ শব্দটা ইংরেজি Progressivism এর বাংলা। প্রগতিশীল শব্দের দ্বারা আমরা এমন একটি শ্রেণিকে বুঝি যে শ্রেণি অর্থনৈতিক লড়াইয়ে অতীতের সমাজকে ভেঙে নতুন সমাজ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সে হিসেবে পুঁজিবাদি সমাজের অভ্যন্তরে অবস্থান করে একমাত্র সমাজতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করার কাণ্ডারিগণই কেবল প্রগতিশীল বলে অভিহিত হতে পারেন। সমাজবিপ্লবের সাথে

গণতন্ত্র ও নীতিশাস্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক

  গণতন্ত্রে ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত, ভালো-মন্দের বোধকে সমসাময়িক কালের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নবায়ন করে নিতে হয়। গণতন্ত্রে নীতিশাস্ত্রকে সময় পরিবর্তনের সাথে যুগোপযোগী করে নিতে হয়। বাংলা ভাষায় ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত ইত্যাদি শব্দ থাকলেও এসব কথা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখিত আলোচনা নেই। আর নীতিবিদ্যা বা নীতিশাস্ত্র [ইংরেজি:ethics] বলে যে একটি পাঠ্য বিষয় আছে সেই

মার্কসবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ

হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদ থেকে সংশ্লেষণের মাধ্যমে এসেছে মার্কসীয় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। অর্থাৎ হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ ও ফয়েরবাখের বস্তুবাদের সমালোচনার মধ্য দিয়ে মার্কসবাদের অন্যতম একটি উপাদানের উদ্ভব হয়েছে। মার্কস হেগেলের ভাববাদ বর্জন করে তাঁর দ্বন্দ্ববাদকে এবং ফয়েরবাখের যান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বর্জন করে তাঁর বস্তুবাদকে গ্রহণ করে যে দর্শন গড়ে তোলেন তাকেই দ্বান্দ্বিক

Top