Main Menu

কমিউনিস্ট — মাও সেতুং

সভাপতি মাও সে-তুঙের উদ্ধৃতি

২৮. কমিউনিস্ট

*** একজন কমিউনিস্টের মুক্ত মন, বিশ্বস্ত ও সক্রিয় হতে হবে, বিপ্লবের স্বার্থকে নিজের প্রাণের চেয়েও ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থকে বিপ্লবের স্বার্থের বশে রাখতে হবে; তাঁকে সর্বদা এবং সর্বক্ষেত্রেই সঠিক নীতিতে দৃঢ় থাকতে হবে এবং সমস্ত ভুল চিন্তাধারা এবং আচরণের বিরুদ্ধে অক্লান্তভাবে সংগ্রাম করতে হবে, যাতে করে পার্টির যৌথ জীবনকে সুসংবদ্ধ এবং পার্টি ও জনসাধারণের মধ্যকার সংযোগকে দৃঢ় করা যায়; ব্যক্তি-বিশেষের চাইতে পার্টির ও জনসাধারণের সম্বন্ধে এবং নিজের চেয়ে অপরের সম্বন্ধে তাঁকে বেশি যত্নশীল হতে হবে। শুধু এমনি হলেই তাঁকে কমিউনিস্ট বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। উদারতাবাদের বিরোধিতা করুন” (৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭)

*** প্রত্যেক কমরেডকে এটা অবশ্য বুঝিয়ে দেওয়া উচিত যে, কমিউনিস্টের সমস্ত কথার ও কাজের চরম মাপকাঠি হচ্ছে সেগুলো ব্যাপকতম জনসাধারণের পরম স্বার্থের সংগে খাপ খাচ্ছে কি না এবং ব্যাপকতম জনসাধারণের সমর্থন পাচ্ছে কি না। “যুক্ত সরকার সম্পর্কে” (২৪ এপ্রিল, ১৯৪৫)

*** যে কোনো সময়েই এবং যে কোনো স্থানেই একজন কমিউনিস্টকে তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রথম স্থান দেয়া উচিত নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থকে জাতির ও জনসাধারণের স্বার্থের বশে রাখতে হবে। তাই, স্বার্থপরতা, নিষ্ক্রিয়তা এবং কাজে ফাঁকি দেওয়া, দুর্নীতি ও আত্মপ্রচারবাদ প্রভৃতিই সবচেয়ে ঘৃণার্হ; কিন্তু নিঃস্বার্থপরতা, সক্রিয় প্রচেষ্টা, জনগণের কার্যে আত্মত্যাগ স্বীকার এবং নীরব ও কঠোর কর্মের মনোবলই সম্মান লাভের যোগ্য। “জাতীয় যুদ্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্থান” (অক্টোবর, ১৯৩৮)  

*** সত্যের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে কমিউনিস্টদেরকে অবশ্যই সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ যে কোনো সত্যই জনগণের স্বার্থের সংগে সংগতিপূর্ণ; কমিউনিস্টদেরকে অবশ্যই ভুল সংশোধন করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ যে কোনো ভুল জনগণের স্বার্থের সংগে সঙ্গতিবিহীন। “যুক্ত সরকার সম্পর্কে” (২৪ এপ্রিল, ১৯৪৫)

*** যে কোনো ব্যাপারেই কমিউনিস্টদের অবশ্যই ‘কেন’ বলে প্রশ্ন করতে হবে, নিজের মাথা খাটিয়ে বিস্তারিতভাবে ভাবতে হবে যে, বিষয়টা বাস্তবের সংগে মিলছে কি না, তা প্রকৃতই যুক্তিসংগত কি না; অন্ধভাবে অনুসরণ করা ও দাসত্ববাদকে উৎসাহ দেয়া কোনো মতেই উচিত নয়। “পার্টির রীতির শুদ্ধিকরণ” (১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২)

*** সমগ্রের স্বার্থকে বিবেচনা করার জন্য উৎসাহ দেওয়া উচিত। প্রতিটি পার্টি-সদস্য, প্রতিটি আংশিক কর্ম, প্রতিটি কথা বা কাজক্রিয়াকে অবশ্যই সমগ্র পার্টির স্বার্থে আরম্ভ করতে হবে; কোনো মতেই এ নীতি লঙ্ঘন করার অনুমতি দেয়া চলবে না। ঐ 

*** কমিউনিস্টদের বাস্তবনিষ্ঠ ও দূরদর্শী হবার আদর্শ হতে হবে। কারণ কেবলমাত্র বাস্তবনিষ্ঠ হলেই নির্ধারিত কর্তব্য সম্পাদন করা যায় এবং কেবলমাত্র দূরদর্শী হলেই অগ্রগতির দিশা হারায় না। “জাতীয় যুদ্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্থান” (অক্টোবর, ১৯৩৮)

*** কমিউনিস্টদের সবচেয়ে দূরদর্শী, সবচেয়ে আত্মত্যাগী, সবচেয়ে দৃঢ় হতে হবে এবং বিনয়ের সঙ্গে অবস্থার বিবেচনা করতে সবচেয়ে সক্ষম হতে হবে, জনসাধারণের অধিকাংশের উপর নির্ভর করতে হবে এবং তাদের সমর্থন পেতে হবে। “জাপানবিরোধী যুদ্ধকালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কর্তব্য” (৩ মে, ১৯৩৭)

*** অধ্যয়নেও কমিউনিস্টদেরকে আদর্শ হতে হবে, তারা প্রতিদিনই জনসাধারণের শিক্ষক, আবার, প্রতিদিনই জনসাধারণের ছাত্র। “জাতীয় যুদ্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্থান” (অক্টোবর, ১৯৩৮)

*** গণআন্দোলনে প্রত্যেক কমিউনিস্টকেই জনসাধারণের বন্ধু হতে হবে, তাদের উপরওয়ালা নয়; ধৈর্যশীল শিক্ষক হতে হবে, আমলাতান্ত্রিক রাজনীতিজ্ঞ নয়। কমিউনিস্টকে কোনো মতেই জনসাধারণের সংখ্যাগুরু থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া উচিত নয়, অধিকাংশ লোকের অবস্থা বিবেচনা না করে অল্পসংখ্যক প্রগতিশীল বাহিনীকে পরিচালিত করে একা দুঃসাহসিকভাবে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়; ব্যাপক জনসাধারণ ও প্রগতিশীল ব্যক্তির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে। এটাই হচ্ছে সংখ্যাধিক্যকে বিবেচনা করার দৃষ্টিকোণ। ঐ

*** আমরা কমিউনিস্টরা হচ্ছি বীজের মতো, জনগণ হচ্ছেন জমির মতো। আমরা যেখানেই যাই না কেন, সেখানকার জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে, জনগণের মধ্যে শিকড় গাড়তে এবং প্রস্ফুটিত হতে হবে। “ছুংছিং আলাপ-আলোচনা সম্পর্কে” (১৭ অক্টোবর, ১৯৪৫)

*** আমাদের কমিউনিস্টদের, যে কোনো ব্যাপারেই, অবশ্যই জনসাধারণের সঙ্গে একান্ত হতে সক্ষম হওয়া উচিত। যদি আমাদের পার্টি সদস্যরা সারা জীবন ঘরের ভেতরে বসে বসে কাটিয়ে দেন এবং ঝড়ঝাপটা মোকাবিলা করার ও দুনিয়ার মুখোমুখী হবার জন্য বাইরে না যান, তাহলে এই ধরনের পার্টি সদস্যরা চীনা জনগণের জন্য কোনো উপকারে আসবেন কি? কোনো উপকারেই আসবেন না, পার্টি সদস্য হিসেবে এ ধরনের লোকের আমাদের কোনো দরকার নেই। আমাদের কমিউনিস্টদের ঝড়ঝাপটা মোকাবিলা করা ও দুনিয়ার মুখোমুখি হওয়া উচিত; এই ঝড়ঝাপটা হচ্ছে গণসংগ্রামের প্রবল ঝড়ঝাপটা এবং এ দুনিয়া হচ্ছে গণসংগ্রামের মহান দুনিয়া। “সংগঠিত হোন” (২৯ নভেম্বর, ১৯৪৩)

*** কমিউনিস্টদের অগ্রণীর ভূমিকা ও আদর্শের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অষ্টম রুট বাহিনী ও নতুন চতুর্থ বাহিনীতে কমিউনিস্টদের বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করার, আদেশ পালন করার, শৃঙ্খলা মেনে চলার, রাজনৈতিক কাজের এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য সংহতির আর্দশ হয়ে উঠতে হবে। “জাতীয় যুদ্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্থান” (অক্টোবর, ১৯৩৮)

*** কমিউনিস্টের কোনো ক্রমেই নিজেকে সব সময় ঠিক বলে মনে করা বা উদ্ধত হওয়া উচিত নয়, এমন মনে করা উচিত নয় যে, নিজে সব কিছুতেই ভাল, অন্যরা কিছুতেই ভাল নয়; নিজেকে নিজের ছোট ঘরে বন্ধ করে রেখে আপন ঢাক আপনি বাজানো ও অন্যের উপরে মাতব্বরি করা কোনো মতেই উচিত নয়। “সেনসী-কানসু-নিংসিয়া সীমান্ত এলাকার প্রতিনিধিদের সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণ” (২১ নভেম্বর, ১৯৪১)

*** কমিউনিস্টদের অবশ্যই পার্টি বহির্ভূত লোকদের মতামত কান পেতে শুনতে হবে, অন্যদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। অন্যরা যা বলেন, তা যদি ঠিক হয়, তাহলে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত এবং অন্যদের সদ্গুণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত; অন্যরা ভুল বললেও তাদেরকে শেষ পর্যন্ত বলতে দেওয়া উচিত এবং পরে ধীরে ধীরে ব্যাখ্যা করা উচিত। ঐ

*** নিজেদের কাজে যারা ভুল করেছেন এমন লোকদের মধ্যে যারা অসংশোধনীয়, তাদের ছাড়া অন্য সকলের প্রতি কমিউনিস্টদের বুঝিয়ে বলার মনোভাব গ্রহণ করা উচিত, সরিয়ে রাখার নয়, যাতে তারা নিজদের পরিবর্তিত করতে পারেন এবং পুরাতনকে ত্যাগ করে নতুন যাত্রা শুরু করতে পারেন। “জাতীয় যুদ্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্থান” (অক্টোবর, ১৯৩৮)  

*** যাঁরা পশ্চাৎপদ, তাঁদেরকে কমিউনিস্টদের তুচ্ছ করে দেখা কিংবা উপেক্ষা করা উচিত নয়, বরং তাদের নিকটতর হওয়া, তাদের সংগে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, বুঝিয়ে বলা এবং অগ্রসর হবার জন্য তাদেরকে প্রেরণা দেয়া উচিত। “জাতীয় যুদ্ধে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্থান” (অক্টোবর, ১৯৩৮)

আরো পড়ুন

অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *