আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সংকলন > মাও সেতুং > সংস্কৃতি ও শিল্পকলা — মাও সেতুং

সংস্কৃতি ও শিল্পকলা — মাও সেতুং

সভাপতি মাও সে-তুঙের উদ্ধৃতি

. সংস্কৃতি ও শিল্পকলা

*** বর্তমান দুনিয়ায়, সমস্ত সংস্কৃতি অথবা সাহিত্য ও শিল্পকলা নির্দিষ্ট শ্রেণীর অধিকারে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লাইনের অধিকারে। শিল্পকলার খাতিরেই শিল্পকলা, শ্রেণির ঊর্ধ্বে শিল্পকলা এবং রাজনীতির সঙ্গে সমান্তরাল অথবা পরস্পর স্বাধীন শিল্পকলার বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। সর্বহারা শ্রেণীর সাহিত্য ও শিল্পকলা হচ্ছে সর্বহারা শ্রেণির সমগ্র বিপ্লবী কার্যের একটা অংশ, তারা হচ্ছে লেনিন যেমন বলেছেন, সমগ্র বিপ্লবী যন্ত্রের ‘দাঁতওয়ালা চাকা ও স্ক্রু’। “সাহিত্য ও শিল্পকলা সম্পর্কে ইয়েন ফোরামে প্রদত্ত ভাষণ” (মে, ১৯৪২)

*** বিপ্লবী সংস্কৃতি হচ্ছে, ব্যাপক জনসাধারণের পক্ষে বিপ্লবের বলিষ্ঠ অস্ত্র। বিপ্লবের পূর্বে তা হচ্ছে বিপ্লবের মতাদর্শগত প্রস্তুতি; বিপ্লবের সময়ে তা হচ্ছে বিপ্লবের সাধারণ ফ্রন্টের মধ্যে একটা অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট। “নয়া গণতন্ত্র সম্পর্কে” (জানুয়ারি, ১৯৪০)

*** আমাদের সাহিত্য ও শিল্পকলা হচ্ছে জনসাধারণের জন্য, প্রথমত শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের জন্য, শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের জন্যই এগুলো রচিত হয় এবং এগুলোকে শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যরাই ব্যবহার করেন। “সাহিত্য ও শিল্পকলা সম্পর্কে ইয়েনান ফোরামে প্রদত্ত ভাষণ” (মে, ১৯৪২)

*** আমাদের সাহিত্য ও শিল্পকলার কর্মীদের অবশ্যই এ কর্তব্য সম্পাদন করতে হবে এবং নিজেদের অবস্থানকে পরিবর্তন করতে হবে, শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের মধ্যে গভীরভাবে প্রবেশ করার ও বাস্তব সংগ্রামের গভীরে যাবার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং মার্কসবাদ ও সমাজকে অধ্যয়ন করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অবশ্যই ক্রমে ক্রমে এগিয়ে আসতে হবে এবং এসে দাঁড়াতে হবে শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের পক্ষে, সর্বহারা শ্রেণীর পক্ষে। শুধুমাত্র এভাবেই আমরা সৃষ্টি করতে পারি শ্রমিক, কৃষক ও সৈন্যদের জন্য সত্যিকারের সাহিত্য ও শিল্পকলা এবং সত্যিকারের সর্বহারা শ্রেণির সাহিত্য ও শিল্পকলা। ঐ

*** সাহিত্য ও শিল্পকলাকে ভালভাবে সমগ্র বিপ্লবী যন্ত্রের একটা অঙ্গীভূত অংশ হিসেবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও শিক্ষিত করার এবং শত্রুকে আঘাত ও ধ্বংস করার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা দরকার এবং একমনে একপ্রাণে শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে জনগণকে সাহায্য করা দরকার। ঐ

*** সাহিত্য ও শিল্পকলার সমালোচনার দুটি মানদণ্ড আছে— একটা রাজনৈতিক মানদণ্ড, অন্যটা শৈল্পিক মানদণ্ড ।…

রাজনৈতিক মানদণ্ড আছে, আবার শৈল্পিক মানদণ্ডও আছে, এ দুয়ের সম্পর্ক কি? রাজনীতি শিল্পকলার সমান নয়, সাধারণ বিশ্ব দৃষ্টিকোণও শিল্পকলা সৃষ্টির ও শিল্পকলা সমালোচনার পদ্ধতির সমান নয়। আমরা যেমন বিমূর্ত ও সম্পূর্ণরূপে অপরিবর্তনীয় রাজনৈতিক মানদণ্ডকে অস্বীকার করি, তেমনি বিমূর্ত ও সম্পূর্ণরূপে অপরিবর্তনীয় শৈল্পিক মানদণ্ডকেও অস্বীকার করি; বিভিন্ন শ্রেণিসমাজে বিভিন্ন শ্রেণির ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও শৈল্পিক মানদণ্ডও আছে। কিন্তু যে কোনো শ্রেণিসমাজের যে কোনো শ্রেণিই সর্বদা রাজনৈতিক মানদণ্ডকে প্রথম স্থান দিয়ে থাকে এবং শৈল্পিক মানদণ্ডকে দ্বিতীয় স্থান দিয়ে থাকে।… আমাদের দাবি হচ্ছে রাজনীতি ও শিল্পকলার একত্ব, বিষয়বস্তু ও রূপের একত্ব, বিপ্লবী রাজনৈতিক বিষয়বস্তু ও যথাসম্ভব নিখুঁত শিল্পরূপের একত্ব। শিল্পকর্ম রাজনৈতিক দিক থেকে যতই প্রগতিশীল হোক না কেন, শৈল্পিক গুণের অভাবে তা শক্তিহীন হয়ে পড়ে। অতএব, আমরা যেমন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণে ভুল শিল্পকর্মের বিরোধিতা করি, তেমনি তথাকথিত ‘প্রচারপত্র-স্লোগান রীতির’ ঝোঁক, যা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ভুল কিন্তু শিল্পকর্মে শক্তিহীন, তারও বিরোধিতা করি। আমাদের অবশ্যই সাহিত্য ও শিল্পকলার সমস্যায় দুই ফ্রন্টের সংগ্রাম চালাতে হবে। ঐ

*** ‘শত ফুল ফুটুক ও মতবাদের শত স্কুল প্রতিযোগিতা করুক’— এ নীতি হচ্ছে, শিল্পকলার বিকাশ ও বিজ্ঞানের প্রগতির প্রেরণাদানের নীতি এবং আমাদের দেশের সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতির সমৃদ্ধি সাধনের প্রেরণাদানের নীতি। শিল্পকলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রূপ ও শৈলী স্বাধীনভাবে বিকাশ লাভ করতে পারে এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মতবাদের স্কুল স্বাধীনভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে। আমরা মনে করি, একটা বিশেষ শৈলী বা মতবাদের স্কুল চাপিয়ে দেয়ার এবং অন্য শৈলী বা মতবাদের স্কুল নিষেধ করার জন্য যদি প্রশাসনিক ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়, তাহলে শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের বিকাশের পক্ষে তা ক্ষতিকর হবে। শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ভুল বা নির্ভুলের সমস্যা সমাধান করতে হবে শিল্পী ও বৈজ্ঞানিকমণ্ডলীর মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে এবং শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের অনুশীলনের মাধ্যমে, সরল পদ্ধতি দিয়ে তাদের সমাধান করা চলবে না। “জনগণের ভেতরকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসার সমস্যা সম্পর্কে” (২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭)

*** সংস্কৃতিবিহীন সৈন্যবাহিনী হচ্ছে ভোঁতাবুদ্ধির সৈন্যবাহিনী, আর ভোঁতাবুদ্ধির সৈন্যবাহিনী শত্রুকে পরাজিত করতে পারে না। “সাংস্কৃতিক কর্মে যুক্তফ্রন্ট” (৩০ অক্টোবর, ১৯৪৪)

আরো পড়ুন

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top