You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সংকলন > মাও সেতুং > জনগনের সেবা করুন — মাও সেতুং

জনগনের সেবা করুন — মাও সেতুং

৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪
আমাদের কমিউনিস্ট পার্টি ও কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে পরিচালিত অষ্টম রুট বাহিনী ও নতুন চতুর্থ বাহিনী হচ্ছে বিপ্লবের বাহিনী। আমাদের এই বাহিনী জনগনের মুক্তির জন্য সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গপ্রাণ এবং সর্বান্তঃকরণে জনগনের স্বার্থের জন্য কাজ করে। কমরেড চ্যাং জু তে[১] এই বাহিনীর একজন সৈনিক ছিলেন।
মানুষের মৃত্যু হবেই কিন্তু মৃত্যুর তাৎপর্য বিভিন্ন রকমের। প্রাচীন চীনে সিমাছিয়ান নামক একজন সাহিত্যিক বলেছিলেন, “সব মানুষেরই মৃত্যু হবে কিন্তু সে মৃত্যু হতে পারে থাই পাহাড়ের চেয়ে ভারী বা পালকের চেয়েও হালকা।”[২] জনগণের জন্য যিনি মৃত্যুবরণ করেন তার মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী; কিন্তু যে লোক ফ্যাসিস্টদের জন্য কাজ করে অথবা শোষক ও অত্যাচারীদের জন্য মরে, তার মৃত্যু পালকের চেয়েও হালকা।
আমরা জনগনের সেবা করি তাই আমাদের যদি কোনো ত্রুটি থাকে তা দেখিয়ে দিলে আমরা ভয় করি না । যে কেউ, তা যিনিই হোন না কেন, আমাদের ত্রুটি দেখিয়ে দিতে পারেন। যদি তার কথা ঠিক হয় তাহলে আমরা নিজেদের ত্রুটি শুধরে নেব। তিনি যা প্রস্তাব করেন তাতে যদি জনগনের উপকার হয়, তবে আমরা তাঁর প্রস্তাব অনুসারেই কাজ করব। “উন্নততর সৈন্য এবং সহজতর প্রশাসন ব্যবস্থা”-র ধারণা প্রদান করেছিলেন মিঃ লি তিং মিং[৩]। তিনি কমিউনিস্ট নন। তাঁর প্রস্তাবটি ভাল এবং জনগণের পক্ষে কল্যাণকর, তাই আমরা এটাকে গ্রহণ করেছি; কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। জনগণের স্বার্থে আমরা যদি নিরবিচ্ছিন্নভাবে যা সঠিক তা করতে থাকি এবং যা ভুল তা সংশোধন করি , তাহলে আমাদের সংখ্যা নিশ্চই বৃদ্ধি পাবে।
আমরা জনগণের সেবা করি — মাও সেতুং

আমরা দেশের সব যায়গা থেকে এসেছি এবং একটি সাধারণ বিপ্লবী উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একত্রিত হয়েছি। এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগনকে আমাদের সঙ্গে পাওয়া প্রয়োজন। এখন নয় কোটি দশ লক্ষ[৪] লোক অধ্যুষিত ঘাঁটি এলাকাগুলি আমরা পরিচালনা করছি; কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। সমগ্র জাতিকে মুক্ত করতে হলে এগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কষ্টের সময়ে আমাদের সাফল্যের কথা ভুললে চলবে না, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে এবং সাহস সঞ্চয় করতে হবে। চীনের জনসাধারণ দুঃখ-দূর্দশায় জর্জরিত, তাদের বাঁচানো আমাদের কর্তব্য এবং আমাদেরকে সংগ্রামে সচেষ্ঠ হতে হবে। যেখানেই সংগ্রাম সেখানেই ত্যাগ অনিবার্য এবং মৃত্যু সেখানে সাধারণ ঘটনা। কিন্তু আমাদের অন্তরে রয়েছে জনগণের স্বার্থ এবং বিপুল সংখ্যাধিক্যের দুঃখ-দূর্দশা, আর যখন আমরা জনগনের জন্য মৃত্যু বরণ করি তখন আমাদের মৃত্যু স্বার্থক হয়। তবু অনাবশ্যক প্রাণদান পরিহার করার জন্য আমাদের যথাসম্ভব চেষ্টা করা উচিৎ। আমাদের ক্যাডারদেরকে প্রত্যেকটি সৈনিকের ব্যাপারে যতবান হতে হবে, বিপ্লবী বাহিনীর সমস্ত লোককেই পরষ্পরের যত্ন নিতে হবে, পরষ্পরকে ভালবাসতে হবে ও সাহায্য করতে হবে।

এখন থেকে আমাদের মধ্যে যে কোন ব্যক্তি তিনি পাচকই হোন আর সৈনিকই হোন, কিছু হিতকর কাজ করেছেন, তার মৃত্যু ঘটলে আমাদের অবশ্যই তাঁর সম্মানে শেষ কৃত্য অনুষ্ঠান ও একটি স্মৃতি সভা করতে হবে। এটা একটা নিয়মে পরিণত হওয়া উচিৎ, এবং জনসাধারণের মধ্যেও এই নিয়ম প্রবর্তন করা উচিৎ। কোনো গ্রামে কারো মৃত্যু ঘটলে একটা স্মৃতি সভার আয়োজন করুক। এই পদ্ধতিতেই আমরা মৃতের জন্য শোক প্রকাশ করতে পারি এবং সমগ্র জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি।
[এই বক্তৃতাটি কমরেড মাও সেতুং প্রদান করেন কমরেড চ্যাং জু তে এর স্মরণসভায় , স্মররণসভাটি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সরাসরি অধীনস্ত দপ্তরগুলি কতৃক আয়োজিত হয়েছিল।]
টীকা:
১. কমরেড চ্যাং জু তে ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রহরী বাহিনীর একজন সৈনিক। কমিউনিস্ট পার্টির একজন সদস্য যিনি বিশ্বস্ততার সাথে চীনা জনগনের স্বার্থের সেবা করেছিলেন, তিনি বিপ্লবে যোগদান করেন ১৯৩৩ সালে, তিনি লংমার্চে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং কর্মরত অবস্থায় আহত হন। উত্তর শেনসিএ আনসাই জেলার পাহাড়ে কাঠকয়লা তৈরি করার সময় আকস্মিকভাবে একটি পাথর চাপায় তিনি নিহত হন ।
২. স্‌জুমা ছিয়েন ছিলেন খ্রীস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে চীনের একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক। তিনি “হিস্টরিক্যাল রেকর্ডস” শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। জেন শাও চিং এর পত্রের জবাবে শীর্ষক তার একটি রচনা থেকে এই উদৃতিটি নেয়া হয়েছে।
৩. লি তিং মিং উত্তর শেনসি প্রদেশের একজন আলোকপ্রাপ্ত জমিদার ছিলেন। এক সময় তিনি শেনসি-কানসু-নিংসিয়া সীমান্ত অঞ্চলে সরকারের উপ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
৪. এই সংখ্যাটা হল শেনসি-কানসু-নিংসিয়া সীমান্ত অঞ্চলের, এবং উত্তর মধ্য ও দক্ষিণ চীনের বাকি সকল মুক্তাঞ্চলের মোট জনসংখ্যা।
অতিরিক্ত টীকা:
১. রচনাটির মূল উৎস : ফরেইন ল্যাঙ্গুয়েজ প্রেস , পিকিং থেকে ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত , মাও সেতুং এর নির্বাচিত রচনাবলীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং : ২২৭, ৮ সেপ্টেম্বর
২. ১ মিলিয়ন = ১০,০০,০০০ (১০ লক্ষ)। ফলে ৯১ মিলিয়ন = ১০,০০,০০০ X ৯১ = ৯,১০,০০,০০০ (৯ কোটি ১০লক্ষ)। মূল ইংরেজী রচনায় সংখ্যাটা মিলিয়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top