You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সংকলন > মার্কস > ভূমি থেকে কৃষিজীবী জনগণের উচ্ছেদ

ভূমি থেকে কৃষিজীবী জনগণের উচ্ছেদ

কিন্তু কোমের ‘মহাশয়দের’ প্রতি তাদের রোমান্টিক পার্বত্যজাতিসুলভ ব্যক্তিপূজার আরো কঠোর প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছিল সাহসী গলদের। তাদের মাছের গন্ধ পৌছল ‘মহাশয়দের’ নাকে। তাঁরা কিছু মুনাফার ঘ্রাণ পেলেন এবং উপকূলটা ইজারা দিয়ে দিলেন লন্ডনের বড়ো বড়ো মৎস্যব্যবসায়ীদের কাছে। দ্বিতীয় বারের জন্য উৎখাত হলো গলরা।[৩৬]

কিন্তু শেষত, মেষ চারণভূমির একাংশ পরিণত হচ্ছে হরিণ মৃগয়া ক্ষেত্রে। সবাই জানেন যে ইংলন্ডে সত্যকার কোনো বন নেই। বড়ো বড়ো লোকেদের বাগানের হরিণগুলো গৃহপালিত গুমরে পশু, লন্ডন অল্ডারম্যানদের মতোই মুটকো। ‘মহৎ ব্যসনটার’ শেষ আশ্রয় তাই স্কটল্যান্ড। ১৮৪৮ সালে সোমার্স লিখছেন: ‘উচ্চভূমিতে ব্যাঙের ছাতার মতো নতুন নতুন বন গজিয়ে উঠছে। এখানে গেইকের একদিকে রয়েছে গ্লেনফেশির নতুন বন, আর ওদিকে রয়েছে আর্ডভেরিকির নতুন বন। একই রেখায় পাওয়া যাবে ব্ল্যাক মাউণ্ট, সদ্য গড়া একটা বিরাট পোড়ো জমি। পূর্বে থেকে পশ্চিমে, আবের্ডিনের আশপাশ থেকে ওবেনের পাথরগুলো পর্যন্ত শুধু অবিচ্ছিন্ন ধারায় বন। আর উচ্চভূমির অন্যান্য অংশে আছে লক আর্কেইগ, গ্লেনগ্যারি, গ্লেনমরিসটন প্রভৃতি নতুন বন। ছোটো ছোটো খামারীদের অধিষ্ঠান ছিলো উপত্যকাগুলি, ভেড়ার প্রচলন হয় সেখানে; অনেক রুক্ষ ও অনুর্বর জমিতে জীবিকার্জনে বিতাড়িত হয় তারা। এখন ভেড়ার জায়গা নিচ্ছে হরিণ, এবং ফের ছোটো প্রজাদের উৎখাত করা হচ্ছে; আরো রুক্ষ জমি ও হাড়ভাঙ্গা দারিদ্র্যে এরা বাধ্য হয়ে নিক্ষিপ্ত হবে। হরিণবন[৩৭] ও মানুষের সহাবস্থান সম্ভব নয়। দুয়ের একটাকে হার মানতে হবে। বিগত পঁচিশ বছরে বনগুলি যেভাবে সংখ্যায় ও আয়তনে বেড়েছে, আগামী পঁচিশ বছরেও যদি তাই বাড়ে, তাহলে গলেরা তাদের স্বভূমি থেকেই লোপ পাবে… উচ্চভূমির মালিকদের এই প্রবণতাটা কারো কাছে উচ্চাকাঙ্ক্ষার ব্যাপার, কারো কাছে শিকার প্রিয়তার বস্তু… আর যারা খানিকটা সাংসারিক বুদ্ধির লোক তারা হরিণ-ব্যবসাটাকে দেখছে শুধু মাত্র মুনাফার ওপর চোখ রেখে। কেননা এটা একটা সত্য ঘটনা যে মেষচারণের জন্য ইজারা দেওয়ার চেয়ে বন হিশেবে রক্ষিত একটা পার্বত্য এলাকা মালিকের কাছে বহু ক্ষেত্রে বেশি লাভজনক… যে শিকারীর একটা হরিণবনের দরকার হয়, সে যতটা দাম দিতে চাইবে সেটা তার তহবিলের পরিমাণ ছাড়া আর কোনো বিবেচনাতেই সঙ্কুচিত হবে না… উচ্চভূমিতে যে কঠোর দুর্দশা চাপানো হয়েছে সেটা নর্মান রাজাদের নীতিতে ঘটা দুর্দশার চেয়ে বিশেষ কম নয়। হরিণরা পেয়েছে সম্প্রসারিত এলাকা, কিন্তু মানুষদের শিকার করা হচ্ছে ক্ৰমাগত সঙ্কীর্ণ হয়ে আসা এক বৃত্তে … একের পর এক ছেঁটে ফেলা হচ্ছে জনগণের স্বাধীনতাগুলো… আর অত্যাচার দিন দিনই বাড়ছে… লোকদের ‘সাফ’ ক’রে বিতাড়িত করার ব্যাপারটা মালিকেরা চালু করছে একটা স্থিরীকৃত নীতি, একটা কৃষিগত আবশ্যিকতা হিশেবে, যেভাবে আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার বিজন অঞ্চলে গাছপালা ও ঝোপঝাড় সাফ করা হয়; কাজটা চলে শান্তভাবে, কারবারী ঢঙ্গে, ইত্যাদি।[৩৮]

“বেপরোয়া সন্ত্রাসের পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিবর্তনই হলো আদি সঞ্চয়ের পদ্ধতি।”— কার্ল মার্কস

গির্জার সম্পত্তি লুঠ, রাষ্ট্রীয় জমির জুয়াচুরি হস্তান্তর, সর্বজনীন ভূমির অপহরণ, সামন্ত ও কৌম সম্পত্তি জবরদখল করে বেপরোয়া সন্ত্রাসের পরিস্থিতিতে তাকে আধুনিক ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিবর্তন—এই হলো আদি সঞ্চয়ের কতকগুলি পদাবলীসুলভ পদ্ধতি। পুঁজিবাদী কৃষির জন্য তা ক্ষেত্র জয় করে, জমিকে ক’রে তোলে পুঁজির অঙ্গীভূত অংশ, এবং শহুরে শিল্পগুলির জন্য একটি ‘মুক্ত’ এবং আইনের আশ্রয়হীন প্রলেতারিয়েতের প্রয়োজনীয় সরবরাহের ব্যবস্থা ক’রে দেয়।[৩৯]

তথ্যসূত্র ও টিকা:

৩৬. এই মৎস্য ব্যবসায়ের চিত্তাকর্ষক খুঁটিনাটি পাওয়া যাবে মিঃ ডেভিড আকার্টের ‘Portfolio. New Series’ এ। — নাসাউ ডবলিউ. সিনিয়র তাঁর মরণোত্তর গ্রন্থটিতে ‘সাদারল্যান্ডশায়ারের ঘটনাবলী মানুষের স্মরণ কালের মধ্যে সবচেয়ে লোকহিতকর ‘সাফ’ বলে অভিহিত করেছেন।’ (Journals, Conversations and Essay relating to Ireland’, London, 1868.)

৩৭. স্কটল্যান্ডের হরিণবনগুলিতে একটি গাছও নেই। ন্যাড়া ন্যাড়া পাহাড়গুলো থেকে ভেড়াদের তাড়িয়ে দিয়ে হরিণদের তাড়িয়ে আনা হয় এবং তাকে বলা হয় হরিণবন। এমন কি বৃক্ষরোপণ ও সত্যকার অরণ্যচাষও করা হয় না।

৩৮. Robert Somers, ‘Letters from the Highlands; or, the Famine of 1847’, London, 1848, pp. 12-28 passim. চিঠিগুলি প্রথমে বেরয় Times পত্রিকায়। ইংরেজ অর্থনীতিবিদরা অবশ্য গলদের মধ্যে ১৮৪৭ দুর্ভিক্ষটার ব্যাখ্যা করেন। তাদের অতিজনতার কারণ দেখিয়ে। অন্তত তারা তাদের খাদ্য সরবরাহের ওপর চাপ দিচ্ছিল’। ‘মহাল সাফ’, অথবা জার্মানিতে যা বলা হয় ‘Bauernilegen’ সেটা জার্মানিতে ঘটে বিশেষ করে ৩o বছরের যুদ্ধের পরে এবং পরিণামে কৃষক বিদ্রোহ ঘটে এমন কি ১৭৯o সালেও। এটা ঘটে বিশেষ করে পূর্ব জামানিতে। অধিকাংশ প্রুশীয় প্রদেশগুলিতে দ্বিতীয় ফ্রিদরিখ সর্বপ্রথম কৃষকদের সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেন। সাইলেসিয়া বিজয়ের পর তিনি কুটির গোলা ইত্যাদির পুনঃনির্মাণ এবং কৃষকদের পশু ও উপকরণাদি সরবরাহে জমিদারদের বাধ্য করেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর বাহিনীর জন্য সৈন্য ও রাজকোষের জন্য কর। আর তার বাইরের কথা যদি ধরি, তাহলে ফ্রিদরিখের অর্থব্যবস্থা এবং স্বৈরতন্ত্র, আমলাতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রের জগাখিচুড়ি শাসনে চাষীরা কী মধুর জীবনযাপন করত সেটা দেখা যাবে তাঁর গুণমুগ্ধ মিরাবো থেকে নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিতে: ‘উত্তর জার্মানির কৃষিজীবীদের একটা প্রধান সম্পদ হলো শণ। কিন্তু মানবজাতির দুর্ভাগ্য এই যে এটা সচ্ছলতার উৎস নয়, চূড়ান্ত নিঃস্বতার বিরুদ্ধে একটা প্ৰতিকার মাত্র। প্রত্যক্ষ কর, বেগারি, নানা ধরনের বাধ্যবাধকতায় ধ্বংস পায় কৃষকেরা, যারা তদুপরি যা কিছু কেনে তার ওপর অপ্রত্যক্ষ কর দেয়… এবং দুর্ভাগ্যের চরম এই যে যেখানে খুশি ও যত দামে খুশি সে তার উৎপন্ন বেচতে পারে না, তার পক্ষে প্রয়োজনীয় দ্রব্য যে সব বণিক সবচেয়ে উপযুক্ত দামে বেচতে রাজী, তাদের কাছ থেকে সে কিনতে পারে না। এই সব কারণে আস্তে আস্তে সে ধ্বংস পায়, সুতো বোনার কাজ না চালালে প্রত্যক্ষ কর দিতেও সে অক্ষম হত; এই শেষ বৃত্তিটা তার পক্ষে অপরিহার্য অতিরিক্ত অবলম্বন, এতে তার বৌ, ছেলেমেয়ে, চাকর-চাকরানী ও স্বয়ং নিজের মেহনত কাজে লাগাবার সুযোগ পায় সে। কিন্তু এই অতিরিক্ত অবলম্বন সত্ত্বেও কী করুণ জীবন! গ্রীষ্মে সে কয়েদীর মতো খাটে হালচাষে ও ফসল তোলায়, কাজ সামলাবার জন্য শোয় রাত নটায়, ওঠে ভোর দুটায়; একটানা একটা অবকাশ পেয়ে শীতে তার শক্তি পুনরুদ্ধার করার কথা, কিন্তু সব পরিশোধের জন্য যদি নিজ উৎপন্নের একাংশ সে বিক্রি করে, তাহলে রুটি ও বীজের জন্য শস্য তার থাকে না। তাই এই ছিদ্রটা ভরাবার জন্য সুতো বুনতে হয় তাকে… এবং বুনতে হয় প্রচন্ড খেটে। তাই শীতকালে কৃষকেরা রাত বারোটা কি একটায় শুতে যায়, ওঠে ভোর পাঁচটা কি ছটায়, অথবা শোয় রাত নটায়, ওঠে ভোর দুটোয়, এইভাবেই সারা জীবনভোর চলে শুধু, রবিবারটা বাদে… এই অতিশয় একটানা নিদ্রাহীনতা এবং অতিশয় খাটুনিতে দেহ নষ্ট হয়, এইজন্য শহরের তুলনায় গ্রামের নারী পুরুষ বুড়িয়ে যায় অনেক তাড়াতাড়ি।’ (Mirabeau, উক্ত গ্রন্থ, ৩য় খন্ড, পঃ ২১২ থেকে।)

৩৯. দ্বিতীয় সংস্করণের টীকাঃ ১৮৬৬ সালের এপ্রিলে, রবার্ট সোমার্সের পূর্বোক্ত বইটির প্রকাশের ১৮ বছর পরে প্রফেসর লিওন লেভি আর্টস সোসাইটির কাছে মেষ চারণভূমির হরিণবনে রপান্তর নিয়ে একটি বক্তৃতা দেন ও তাতে তিনি স্কটল্যান্ডের উচ্চভূমির ধ্বংসের অগ্রগতি বর্ণনা করেন। অন্যান্য জিনিসের মধ্যে তিনি বলেন: ‘লোকবিতাড়ন ও মেষ চারণভূমির রূপান্তর ছিলো বিনা ব্যয়ে আয় করার সবচেয়ে সুবিধাজনকে উপায়… মেষ চারণভূমির বদলে হরিণবন— উচ্চভূমিগুলির ক্ষেত্রে এটা একটা সার্বত্রিক পরিবর্তন। জমিদাররা এক সময় যেভাবে তাদের মহাল থেকে লোকেদের তাড়িয়ে দিয়েছিলো, সেভাবে ভেড়াদের বিতাড়িত ক’রে স্বাগত জানিয়েছে বন্য পশুপক্ষি-রূপ নতুন প্রজাদের… ফরফারশায়ারের আর্ল অব ডালহৌসির মহাল থেকে জন ওগ্রোটস পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া যায় একবারও অরণ্যভূমি থেকে না বেরিয়ে… এই ধরনের অনেক বনেই শেয়াল, বনবেড়াল, নেউল, খটাশ, বেজি ও অ্যালিপাইন খরগোশ সুলভ, আর সম্প্রতি এসে ঢুকেছে শশক, কাঠবেড়ালি, আর ইঁদুর। প্রভূত পরিমাণ জমি, স্কটল্যান্ডের পরিসংখ্যান-গত বিবরণে যার বেশির ভাগটাতেই অতি উৎকৃষ্ট ধরনের সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারিত চারণভূমি আছে বলে বর্ণিত হয়েছে, তা এইভাবে সমস্ত চাষ ও উন্নয়ন থেকে আটকে রেখে বছরের অতি অল্পকালের জন্য স্বল্পসংখ্যক লোকের ব্যসনের জন্য উৎসগিত হয়েছে পরোপারি।’

১৮৬৬ সালের ২রা জুনের লন্ডনের Economist বলছে: ‘গত সপ্তাহের একটি স্কচ পত্রিকার খবরাখবরের মধ্যে আমরা পড়লাম: ‘সাদারল্যান্ডশায়ারের একটি অতি উৎকৃষ্ট মেষখামার, যার জন্য সম্প্রতি বছরে ১,২০০ পাউন্ড খাজনা দেবার প্রস্তাব এসেছিল, সেটা বৰ্তমান বছরে তার ইজারার মেয়াদ পূর্ণ হবার পর হরিণবনে পরিণত হবে!’ এক্ষেত্রে আমরা সামন্ততন্ত্রের আধুনিক মনোবৃত্তিটা দেখতে পাচ্ছি… তা ঠিক সেইভাবেই কাজ করে যাচ্ছে যেভাবে একদা নর্মান বিজয়ী….. নয়া অরণ্য সৃষ্টির জন্য ৩৬টি গ্রাম ধ্বংস করেছিল… বিশ লক্ষ একর… একেবারে পতিত, তার ভেতরে থাকছে স্কটল্যান্ডের অতি উর্বর কিছু জমি। গ্রেন টিল্টের স্বাভাবিক ঘাস ছিল পার্থ কাউন্টির মধ্যে সবচেয়ে পুষ্টিকর; বেন অল্ডারের হরিণবনটা ছিল সুপ্রশস্ত বাডেনক জেলার মধ্যে অতি শ্রেষ্ঠ চারণভূমি; ব্ল্যাক মাউণ্ট বনের একাংশ ছিল স্কটল্যান্ডের কালামুখী ভেড়াগুলোর সেরা চারণভূমি। নিছক শিকারের জন্য স্কটল্যান্ডে কী ধরনের জমি পতিত রাখা হয়েছে তার খানিকটা ধারণা পাওয়া যাবে এই থেকে যে গোটা পাৰ্থ কাউণ্টির চেয়ে তা আয়তনে বড়ো। বেন অল্ডার বনের সম্পদ থেকে খানিকটা ধারণা মিলবে জবরদস্তি বিজনীকরণে কী ক্ষতি হচ্ছে। এ জমিতে ১৫,০০০ ভেড়া চরতে পারে, এবং এটা যেহেতু স্কটল্যান্ডের পুরনো বনাঞ্চলের তিরিশের এক ভাগের বেশি নয়, তাই এতে… ইত্যাদি। এই সমস্ত জমিটা একই রকম সমূহ অনুৎপাদী… এভাবে তো এটাকে জার্মান মহাসাগরের জলেও ডুবিয়ে দেওয়া যেতে পারত… এই ধরনের বানিয়ে তোলা অরণ্য বা মরুভূমিগুলোকে আইনসভার বদ্ধপরিকর হস্তক্ষেপে দমন করা উচিত।

আরো পড়ুন:  নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব প্রসঙ্গে লেনিনবাদ
কার্ল মার্কস
বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনের মহান বিপ্লবী, সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিজ্ঞান ও অর্থনীতির প্রতিথযশা তাত্ত্বিক কার্ল মার্কস (৫ মে, ১৮১৮ – ১৪ মার্চ, ১৮৮৩) প্রুশিয়ার রাইল ল্যান্ড প্রদেশের ট্রিভ্স নামক স্থানে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের ৫ মে এক ইহুদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৪৭ সালের বসন্তে মার্কস ও এঙ্গেলস ‘কমিউনিস্ট লীগ’ নামে একটি গুপ্ত প্রচার সমিতিতে যোগ দেন। ১৮৪৭ এ নভেম্বরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত লীগের দ্বিতীয় কংগ্রেসে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং কংগ্রেস থেকে দায়িত্ব পেয়ে সুপ্রসিদ্ধ ‘কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার’ রচনা করেন। ১৮৫০-এর দশকের শেষদিক ও ৬০-এর দশকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুনরুজ্জীবন মার্কসকে আবার প্রত্যক্ষ কার্যকলাপের মধ্যে টেনে আনে। ১৮৬৪ সালে (২৮ সেপ্টেম্বর) বিখ্যাত আন্তর্জাতিক শ্রমিক সঙ্ঘ— প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠিত হয় লন্ডনে। মার্কস ছিলেন এই সমিতির প্রাণস্বরূপ। ১৮৮৩ সালের ১৪ মার্চ আরাম কেদারায় বসে মার্কস নীরবে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Leave a Reply

Top