আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সংকলন > এঙ্গেলস > বর্তমান নানা সরকার-বিরোধী পার্টির সঙ্গে কমিউনিস্টদের সম্বন্ধ

বর্তমান নানা সরকার-বিরোধী পার্টির সঙ্গে কমিউনিস্টদের সম্বন্ধ

কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার

— কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস

8

বর্তমান নানা সরকার-বিরোধী পার্টি সঙ্গে কমিউনিস্টদের সম্বন্ধ

শ্রমিক শ্রেণির যে সব পার্টি এখন বিদ্যমান, যেমন ইংল্যান্ডে চার্টিস্টগণ ও আমেরিকায় কৃষি সংস্কারবাদীরা, তাদের সঙ্গে কমিউনিস্টদের সম্বন্ধ দ্বিতীয় অধ্যায়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।

উপস্থিত লক্ষ্যসিদ্ধির জন্য, শ্রমিক শ্রেণির সাময়িক স্বাৰ্থ রক্ষার জন্য কমিউনিস্টরা লড়াই করে থাকে, কিন্তু আন্দোলনের বর্তমানের মধ্যেও তারা আন্দোলনের ভবিষ্যতের প্রতিনিধি, তার রক্ষক। ফ্রান্সে রক্ষণশীল এবং র‍্যাডিকাল বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে তারা সোশ্যাল-ডেমোক্রাটদের[১] সঙ্গে হাত মেলায়, কিন্তু মহান ফরাসী বিপ্লব থেকে ঐতিহ্য হিসাবে যে সব বাঁধা বুলি ও ভ্ৰান্তি চলে আসছে তার সমালোচনার অধিকারটুকু বর্জন করে না।

সুইজারল্যান্ডে সমর্থন করা হয় র‍্যাডিকালদের, কিন্তু এ সত্য ভোলা হয় না যে এ দলটি পরস্পরবিরোধী উপাদানে গঠিত, এদের খানিকটা ফরাসি অর্থে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী আবার খানিকটা হলো র‍্যাডিকাল বুর্জোয়া।

পোল্যান্ডে তারা সেই দলটিকে সমর্থন করে যারা জাতীয় মুক্তির প্রাথমিক শর্ত হিসাবে কৃষি বিপ্লবের ওপর জোর দেয়, সেই দল যারা ১৮৪৬ খ্রীস্টাব্দের ক্রাকোভ বিদ্রোহে ইন্ধন জুগিয়েছিল।

জার্মানিতে বুর্জেয়ারা যখন বিপ্লবী অভিযান করে তখনই কমিউনিস্টরা তাদের সঙ্গে একত্রে লড়ে নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র, সামন্ত জমিদারতন্ত্র এবং পেটি বুর্জোয়ার[২] বিরুদ্ধে।

কিন্তু বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েতের মধ্যে যে বৈর বিরোধ বৰ্তমান তার যথাসম্ভব স্পষ্ট স্বীকৃতিটা শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে সঞ্চার করার কাজ থেকে তারা মুহূর্তের জন্যও বিরত হয় না; এইজন্য যাতে, বুর্জোয়া শ্রেণি নিজ আধিপত্যের সঙ্গে সঙ্গে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আসতে বাধ্য, জার্মান মজুরেরা যেন তৎক্ষণাৎ তাকেই বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারে; এইজন্যই যাতে, জার্মানিতে প্ৰতিক্রিয়াশীল শ্রেণিগুলির পতনের পর যেন বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধেই অবিলম্বে লড়াই শুরু হতে পারে।

কমিউনিস্টরা প্রধানত জার্মানির দিকে মন দিচ্ছে কারণ সে দেশে একটি বুর্জোয়া  বিপ্লব আসন্ন, ইউরোপীয় সভ্যতার অধিকতর অগ্রসর পরিস্থিতির মধ্যে তা ঘটতে বাধ্য, এবং ঘটবে সতেরো শতকের ইংল্যান্ড ও আঠারো শতকের ফ্রান্সের তুলনায় অনেক বিকশিত এক প্রলেতারিয়েত নিয়ে। এবং এই কারণে যে, জার্মানির বুর্জোয়া বিপ্লব হবে অব্যবহিত পরবতী প্রলেতারীয় বিপ্লবের ভূমিকা মাত্র।

সংক্ষেপে বলা যায় যে, কমিউনিস্টরা সর্বত্রই বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিটি বিপ্লবী আন্দোলন সমর্থন করে।

এই সব আন্দোলনেই তারা প্ৰত্যেকটির প্রধান প্রশ্ন হিসাবে সামনে এনে ধরে মালিকানার প্রশ্ন, তার বিকাশের মাত্রা তখন যাই থাক না কেন ।

শেষ কথা, সকল দেশের গণতন্ত্রী পার্টিগুলির মধ্যে ঐক্য ও বোঝাপড়ার জন্য তারা সর্বত্র কাজ করে।

আপন মতামত ও লক্ষ্য গোপন রাখতে কমিউনিস্টরা ঘৃণা বোধ করে। খোলাখুলি তারা ঘোষণা করে যে তাদের লক্ষ্য সিদ্ধ হতে পারে কেবল সমস্ত প্ৰচলিত সমাজ-ব্যবস্থার সবল উচ্ছেদ মারফত। কমিউনিস্ট বিপ্লবের আতঙ্কে শাসক শ্রেণি কাঁপুক। শৃঙ্খল ছাড়া প্রলেতারিয়েতের হারাবার কিছু নেই। জয় করবার জন্য আছে সারা দুনিয়া।

দুনিয়ার মজদুর এক হও!

ডিসেম্বর, ১৮৪৭ থেকে জানুয়ারী, ১৮৪৮-এর মধ্যে মার্কস ও এঙ্গেলস কর্তৃক লিখিত

ফেব্রুয়ারী, ১৮৪৮ খ্রীস্টাব্দে লন্ডনে প্ৰথম প্ৰকাশিত

টীকা

১. পার্লামেন্টে এই পার্টির প্রতিনিধিত্ব করতেন লেদ্রু-রঁলা, সাহিত্য ক্ষেত্রে লুই ব্লাঁ, দৈনিক সংবাদপত্র জগতে Reforme পত্রিকা। সোশ্যালিস্ট-ডেমোক্রাট নামের উদ্ভাবকদের কাছে নামটির অর্থ ছিলো গণতন্ত্রী বা প্রজাতন্ত্রী দলের একাংশ, যার মধ্যে সমাজতন্ত্রের কমবেশি রং লেগেছে। (১৮৮৮ খ্রীস্টাব্দের ইংরেজী সংস্করণে এঙ্গেলসের টীকা)

এই সময় ফ্রান্সে যে পার্টি নিজেকে সোশ্যালিস্ট-ডেমোক্রট বলত, তাদের রাজনৈতিক জীবনে প্রতিনিধি ছিলেন লেদ্রু-রঁলা আর সাহিত্য জগতে লুই ব্লাঁ, সুতরাং আজকের দিনের জার্মান সোশ্যাল-ডেমোক্রাসির সঙ্গে এর ছিল দুস্তর পার্থক্য। (১৮৯০ সালের জার্মান সংস্করণণে এঙ্গেলসের টীকা।)

২. মূল জার্মানে Kleinburgerci. মার্কস ও এঙ্গেলস কথাটা ব্যবহার করেছিলেন শহরবাসী পেটি বুর্জোয়ার প্রতিক্রিয়াশীল অংশগুলির অর্থে। – সম্পাঃ

পড়ুন কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহারের অংশ সমাজতন্ত্রী ও কমিউনিস্ট সাহিত্এই লিংক থেকে

কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহারের সূচিপত্রে যান এই লিংক থেকে

আরো পড়ুন:  প্যারিস কমিউন পৃথিবীর প্রথম প্রলেতারিয় একনায়কত্ব
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page