Main Menu

লেনিনবাদী দৃষ্টিতে সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব

মানুষেরই শুধু সংস্কৃতি আছে যা অন্য প্রাণীর নেই; আর এই সংস্কৃতিই তার জীবনকে উন্নত করে। মানুষের ইতিহাস অন্য প্রাণী থেকে পৃথক হয়েছে তার সংস্কৃতির কারণে। সংস্কৃতির শক্তিতে মানুষ বেঁচে থাকে, সংস্কৃতির সাহায্যে সে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে, প্রকৃতিকে কাজে লাগায়, পরিবেশকে উন্নত করে। সংস্কৃতি মানুষের জীবন, পরিবেশ, কর্ম, উদ্দেশ্য ও বেঁচে থাকার প্রক্রিয়াকে উন্নত, সুন্দর, রুচিশীল, সত্যপরায়ণ, ন্যায়বোধসম্পন্ন ও আধুনিক করে। সংস্কৃতির সাহায্যে মানুষ অতীতের অন্যায়কে বর্জন করবার ধারণা পায়, নতুন ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, নতুন মূল্যবোধ তৈরি করে, কর্মপদ্ধতিতে নৈপুণ্য অর্জন করে, অর্থাৎ মানুষের শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি, সমাজ ইত্যাদির অগ্রগামিতার বাহক হিসেবে কাজ করে সংস্কৃতি এবং এই সংস্কৃতি একটি নির্দিষ্ট সমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তির সাথে মিলে কাজ করে। অর্থনীতি সমাজের শিকড় হলে সংস্কৃতি তার ডালপালা।   

বাংলাদেশে এখন দুই ধরনের সংস্কৃতি বিরাজমান। প্রথমটি হচ্ছে পশ্চাৎপদ প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতি। এই প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতির উৎস প্রধানত তিনটি। এই উৎস তিনটি হচ্ছে যথাক্রমে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও পুঁজিবাদ। এই উৎস তিনটি থেকে আসে সাম্রাজ্যবাদনির্ভর দালালি সংস্কৃতি, সামন্তবাদ দ্বারা পুষ্ট সামন্তীয় সংস্কৃতি এবং পুঁজিবাদ নির্ভর বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। আর অন্যদিকে এই পশ্চাৎপদ প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতির বিপরীতে আছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ নির্ভর এই তিন প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতিই ভাববাদী ও পশ্চাৎপদ ধ্যানধারনার সাথে যুক্ত। আত্মবিক্রয়, পরাধীনতা, সম্পত্তিলোভ, ব্যক্তিগত সম্পত্তিজাত মানসিকতা, নিপীড়ন, আমলাতান্ত্রিকতা, সাম্রাজ্যবাদনির্ভরতা, কুসংস্কার, ধর্মব্যবসা, পরগাছাবৃত্তি, শ্রমহীনতা, পুরনো নীতি, পুরনো ভাবধারা, নারীপীড়ন ইত্যাদি পশ্চাৎপদ সংস্কৃতি এবং এ সংস্কৃতি নতুন সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিরোধিতা করে।

সামাজিক অনুশীলন, সমতাভিত্তিক মূল্যবোধ, যৌথকর্ম ও যৌথপ্রচেষ্টা, সামাজিক মূলধন, সামাজিক বিকাশ, সামজিক সম্পর্ক, যূথবদ্ধতা, গণতন্ত্র চর্চা, বস্তুবাদী দর্শন চর্চা, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, বিশ্বায়ন সাম্রাজ্যবাদ ও আগ্রাসন বিরোধিতা, স্বাধীনতা-সমতা-ভ্রাতৃত্ব, পুঁজিবাদ বিরোধীতা, নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার জন্য লড়াই, সমাজতন্ত্রসাম্যবাদ অভিমুখী গণসংগ্রাম ইত্যাদিতে যে সংস্কৃতি বিরাজমান তাই সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতির সেবা করে। ভবিষ্যতের নয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণের চেষ্টা হচ্ছে জনগণের বিপ্লবী সংস্কৃতি। আমরা যদি রাজনীতি, রাষ্ট্রব্যবস্থা, নারী-পুরুষ সম্পর্ক, পরিবার, সমাজ, প্রশাসন, আইন ও বিচার, অর্থনীতি, শ্রমব্যবস্থাপনা, প্রচারমাধ্যম, শিক্ষাব্যবস্থা, জ্ঞান, বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা ইত্যাদিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই তবে এসব বিষয়ের ওপরে সুস্পষ্ট ধারনা অর্জন করতে হবে এবং জনগণের জীবন ও পরিবেশকে উন্নত করার জন্য বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি দ্বারা এসব বিষয়ের উন্নতি ঘটাতে হবে।

একমাত্র সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী সমাজ নির্মাণ করবার ধারাবাহিক চেষ্টার মাধ্যমেই প্রগতিশীলতাকে অর্জন করা যেতে পারে। এই সাম্যবাদী সমাজের আশাবাদের গানটি আছে সমতার দিন নির্মাণের অবিরত সংগ্রামের মাঝে। সমতার সমাজ নির্মাণ একটি ধারাবাহিক বৈপ্লবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু এই সমাজ কিভাবে তৈরি করতে হবে এই প্রসঙ্গে লেনিন লিখেছেন যে, ‘পুঁজিবাদ সংস্কৃতি যোগায় কেবল সংখ্যাল্পদের। অথচ সমাজতন্ত্র গড়তে হবে এই সংস্কৃতিটা থেকেই, অন্য মালমসলা আমাদের নেই’।[১]  পুঁজিবাদী সমাজে অন্য মালমসলা থাকে না, সামন্তবাদ পুঁজিবাদের মালমসলা দিয়েই সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়তে হবে।

প্রতিটি সমাজের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটান সেই সমাজের শ্রমিক, কৃষক, মনিষী, বিজ্ঞানী ও অন্যান্য সৃষ্টিশীল ব্যক্তিরা। এ-প্রসঙ্গে  শিবনারায়ণ রায় (১৯২১ – ২০০৮) লিখেছেন,

‘মনিষী তাঁরাই যারা পূর্বসূরিদের দ্বারা সৃজিত এবং অর্জিত সাংস্কৃতিক সম্পদের সংগে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, যারা সেই উত্তরাধিকারের মূল্যায়নে সমর্থ, যারা সেই সম্পদের সংরক্ষণে সচেষ্ট এবং তারি সংগে সংগে যারা নব নব রূপের উদ্ভাবনে সক্ষম, যারা নব নব জিজ্ঞাসায় ব্যাপৃত, যারা স্বকীয় সৃষ্টির দ্বারা ঐতিহ্যকে সম্পন্নতর করতে উদ্যোগী। সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং নিপুণ প্রকাশ-সামর্থ্যের অনুশীলনে এরা নিরলস; নাচিকেত প্রশ্নশীলতা এবং অদম্য সৃজনপ্রেরণার অধিকারী হওয়ার ফলে অভ্যাসের জড়তা থেকে এঁরা অনেকটা মুক্ত। দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক এবং ঐতিহাসিক, শিক্ষক, সাহিত্যিক এবং শিল্পী_ এঁরাই হলেন যে কোনো সমাজের সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রধান উৎস। সৃষ্টি, আবিষ্কার এবং উদ্ভাবনের দ্বারা এঁরা সংস্কৃতির সম্পদ বৃদ্ধি করেন; অপরপক্ষে বৈদগ্ধ এবং নিষ্ঠার দ্বারা এঁরা অর্জিত সংস্কৃতিকে অবক্ষয় এবং নিম্নগামিতার হাত থেকে রক্ষা করেন।’[২]

এইখানে শিবনারায়ণ রায় যে মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীদের সংস্কৃতির প্রধান কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করছেন যা মূলত পুঁজিবাদী সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক ও কৃষকদের সৃষ্টিকে সংস্কৃতির অন্যতম প্রেরণা ও শক্তিশালী উৎস হিসেবে বর্ণনা করলে বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে যথার্থ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

বিপ্লবী সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন বিভিন্ন মতামত প্রদান করেছেন। লেনিনের নিকট সাংস্কৃতিক বিপ্লব একটি রাজনৈতিক বিপ্লব, একটি রাজনৈতিক ঘটনা। তিনি সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে দেখেছিলেন মতাদর্শগত পুনর্গঠনের উপায় হিসেবে।

সংস্কৃতি সম্পর্কে মত প্রদান করতে গিয়ে প্রলেতারিয় সংস্কৃতি এবং তার গড়বার প্রক্রিয়া নিয়ে লেনিন আলোচনা করেছেন। এছাড়াও তিনি সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে প্রলেতারিয় সংস্কৃতি নির্মাণের কাজে লাগাতে চেয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন প্রলেতারিয় সংস্কৃতি আকাশ থেকে পড়ে না। সমাজতন্ত্র গড়তে হলে আমাদের বিভিন্ন উপাদান নিতে হবে যা পুঁজিবাদী সমাজে তৈরি হয়েছে। লেনিনের মতে প্রলেতারিয় সংস্কৃতি শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো কিছু নয়, এটি মানবজাতির জ্ঞানের ধারাবাহিক বিকাশ।[৩]

লেনিন সংস্কৃতিকে শান্ত জীবনের উপাদান হিসেবে দেখেননি। তিনি তলস্তয়ের মতো ‘অপরিণত স্বপ্ন দেখা, রাজনীতির অনভিজ্ঞতা, বৈপ্লবিক শিথিলতা, জনগণের বৈপ্লবিক সংগ্রামের জন্য অপ্রস্তুতি, অমঙ্গলের প্রতি না-প্রতিরোধ, কান্নাকাটি নীতিবাদ আর প্রার্থনা’[৪] হিসেবে সংস্কৃতিকে দেখেননি। তাঁর কাছে প্রলেতারিয় সংস্কৃতি হচ্ছে শ্রেণিসংগ্রাম, প্রতিরোধ ও বিপ্লবের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড। তাঁর মন্তব্য এরকমের যে, মার্কসের হাতে ঢেলে সাজানো অর্থশাস্ত্র যেমন সাম্যবাদীদেরকে দেখিয়েছে মানবসমাজকে কোথায় যেতে হবে, অঙ্গুলি নির্দেশ করেছে শ্রেণিসংগ্রামে উত্তরণে, প্রলেতারিয় বিপ্লব শুরুর দিকে; ঠিক তেমনিভাবেই এই সমস্ত পথ ও রাস্তা পৌঁছিয়েছে, পৌঁছয় এবং পৌঁছচ্ছে প্রলেতারিয় সংস্কৃতিতে।[৫] 

সাম্যবাদী সমাজ গড়ে তোলার জন্য বুর্জোয়াদের থেকে ক্ষমতা নিজেদের কাছে নেওয়া দরকার। এজন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে টানতে হবে। সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতা আমাদের এক উচ্চতর প্রলেতারিয় গণতন্ত্র দিতে পারে কিন্তু এর ফলে আমলাতন্ত্র দৃঢ় হয়। ক্ষমতা মেহনতি মানুষের থাকে না। এজন্য আইনই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা চট করে তৈরি হয় না, এর জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদী কাজ। বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা বুর্জোয়া দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে কিন্তু তাঁদেরকে পুঁজিবাদের থেকেও উন্নত পরিস্থিতি দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সম্পর্কে লেনিন বলেছেন,

“বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রে আমাদের তুচ্ছ ছিদ্রান্বেষণের নীতি অনুসরণ করা উচিত নয়। এই বিশেষজ্ঞরা শোষকদের ভৃত্য নয়, এরা সাংস্কৃতিক কর্মী, বুর্জোয়া সমাজে এরা বুর্জোয়ার কাজ করেছে, এবং সারা বিশ্বের সমাজতান্ত্রিকরা এদের সম্পর্কে বলে এসেছে যে, প্রলেতারীয় সমাজে এরা আমাদের কাজ করবে।”[৬]

সমাজতন্ত্র নির্মাণে বৃহৎ পুঁজিবাদী সংস্কৃতি যেমন উপাদান তেমনি বুদ্ধিজীবীরাও। পুঁজিবাদী সমাজে সব বুদ্ধিজীবীরা সমাজতন্ত্রী ভাবাপন্ন হবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের উচিত সেই বুদ্ধিজীবীদের যারা প্রলেতারিয়েতের অগ্রবাহিনী হিসেবে সাম্যবাদী দলকে মেনে নেবে এবং সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পুঁজিবাদী সমাজে গড়ে ওঠা বুদ্ধিজীবীদের আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এজন্য তাঁদের গ্রহণ করতে হবে, সুনির্দিষ্ট কাজ দিতে হবে, যাচাই করতে হবে। পুঁজিবাদের তৈরি করা উপাদান দিয়েই সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ার কাজে হাত লাগাতে হবে। এক্ষত্রে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন বলেছেন

“বুদ্ধিজীবীদের ওপর আমরা কদাচ নির্ভর করব না, নির্ভর করব কেবল প্রলেতারিয়েতের অগ্রবাহিনীর ওপর যারা সমস্ত প্রলেতারিয়দের, সমস্ত গ্রাম্য গরিবদের এগিয়ে নিয়ে চলেছে।”[৭]

বুর্জোয়া সমাজ ভেঙ্গে প্রলেতারিয়েতের সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সহজ কাজ নয়। বুর্জোয়ারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করবে। এজন্য জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রমিককে জ্ঞানী করে তুলতে হবে। সে জ্ঞান সমাজতন্ত্রের কল্পলৌকিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, ইতিহাসের যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে করতে হবে। সবসময় মনে রাখতে হবে বুর্জোয়ারা বহু বহু গুণ প্রবল। তাদের সাথে লড়াই করতে হবে সামরিক পদ্ধতিতে। এজন্য জনগণকে রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত করতে হবে। তাদেরকে বিজয়ী করার জন্য আত্মস্থ করতে হবে সমস্ত বিদ্যা ও সংস্কৃতি। কারণ তাঁদের মাধ্যমেই সমাজতন্ত্র সম্ভব। লেনিন বলেছেন,

“সর্বোত্তম ক্ষেত্রে আমাদের আন্দোলক প্রচারকদের বিদ্যা, কারখানার শ্রমিক অথবা বুভুক্ষু কৃষকের দারুণ দুর্ভাগ্যে পোড় খাওয়া লোকটার বিদ্যা — এ বিদ্যা আমাদের শিখিয়েছে দীর্ঘকাল রুখে থাকতে, সংগ্রামে একরোখা হতে, এতদিন পর্যন্ত এটা আমাদের বাঁচিয়েছে; এটা একান্তই আবশ্যক; কিন্তু এই সব নয়, শুধু এই একটা বিদ্যাতে বিজয়লাভ সম্ভব নয়; বিজয়কে পরিপূর্ণ ও চূড়ান্ত হতে হলে পুঁজিবাদের মধ্যে যা কিছু মূল্যবান তা সবই নিতে হবে, আত্মস্থ করতে হবে সমস্ত বিদ্যা ও সংস্কৃতি।”[৮]

আগামি যুগে শ্রমিক-কৃষকের সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী সংস্কৃতিতেই জনমুক্তির মূল চাবিকাঠিটি নিহিত। এই চাবিকাঠিটি আমরা পেতে পারি বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে এবং জনগণের লড়াইয়ের অদম্য প্রেরণা থেকে। বিপ্লবী হওয়া ছাড়া, বিপ্লবের জন্য সব দিককে কেন্দ্র করে লড়াই করা ছাড়া, জনগণের নিঃস্বার্থ সেবক হওয়া ছাড়া, শ্রমিক-কৃষকের সাথে একাত্মতা ছাড়া বিপ্লবী সংস্কৃতির সেবা করা যায় না। বিপ্লবী মতাদর্শ ও রাজনৈতিক লাইনে শিক্ষিত হওয়া ছাড়া সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সেবা করা সম্ভব নয়। একজন বিপ্লবী সাংস্কৃতিক কর্মীই পারে বিপ্লবী সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে। বাস্তব বিপ্লবী সংগ্রাম ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক কাজের মধ্যে কোনো চীনের প্রাচীর নেই। বিপ্লবী সাংস্কৃতিক কর্মী বিপ্লবী সংগ্রামেও অংশ নেয়, সেই অভিজ্ঞতা ও শিক্ষায় সুপুষ্ট হয়েই গড়ে তোলে বিপ্লবী সংস্কৃতি। একজন বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মীও অনেক ক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে বিপ্লবী সাংস্কৃতিক কর্মীতে।[৯]

তথ্যসূত্র ও টিকা:

১. ভ ই লেনিন, সোভিয়েত রাজের সাফল্য ও বিঘ্ন, ১৯১৯, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, ১৯৬৮; পৃষ্ঠা ৪৬

২. শিবনারায়ণ রায়; গণতন্ত্র, সংস্কৃতি ও অবক্ষয়; দেজ পাবলিশিং; কলকাতা; তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল ২০০০; পৃষ্ঠা-৪১।

৩. এ বিষয়ে পড়ুন আমার সমাজতন্ত্র গ্রন্থের নিবন্ধ সাংস্কৃতিক বিপ্লব, ভাষাপ্রকাশ, ঢাকা, ২০১৫, পৃষ্ঠা ৬১-৬৪

৪. ভ ই লেনিন, লেভ তলস্তয়—রুশ বিপ্লবের দর্পণ, ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯০৮, সাহিত্য প্রসঙ্গে, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, ১৯৭৬, পৃষ্ঠা ১৬-১৭।

৫. ভ ই লেনিন, যুব লীগের কর্তব্য, ২ অক্টোবর ১৯২০, রচনা সংকলন, চার ভাগে সম্পূর্ণ, চতুর্থ ভাগ, প্রগতি প্রকাশন মস্কো, ১৯৭৪, পৃষ্ঠা ১৭৫-১৭৬

৬. ভ ই লেনিন, রুশ কমিউনিস্ট পার্টির (বলশেভিক) অষ্টম কংগ্রেসে প্রদত্ত পার্টি কর্মসূচির রিপোর্ট থেকে, ১৯ মার্চ, ১৯১৯, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, ১৯৬৮; পৃষ্ঠা ৫১-৫২

৭. ভ ই লেনিন, মস্কোর পার্টি কর্মীদের সভায় পেটি বুর্জোয়া গণতন্ত্রীদের প্রতি প্রলেতারিয়েতের মনোভাবের প্রশ্নে রিপোর্ট থেকে, ২৭ নভেম্বর, ১৯১৮, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব, মস্কো, ১৯৬৮; পৃষ্ঠা ৩০-৩১

৮. ভ ই লেনিন, সোভিয়েত রাজের সাফল্য ও বিঘ্ন, ১৯১৯, সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব, মস্কো, ১৯৬৮; পৃষ্ঠা ৪৬

৯ প্রবন্ধটির অংশবিশেষ আমার [অনুপ সাদি] রচিত ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ ঢাকা থেকে ২০১০ সালে  প্রকাশিত বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারায় প্রকাশিত হয়েছিল এবং সাম্প্রতিককালে পরিবর্ধিত। 

আরো পড়ুন






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *