Main Menu

আইনের শাসন প্রসঙ্গে

আইনের শাসন (ইংরেজি: Rule of Law) হচ্ছে সেই ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রীয় কাঠামােয় বিধিবদ্ধ আইন, রীতিনীতি, বাধানিষেধ ব্যতিরেকে ক্ষমতা প্রয়ােগ করা হয় না। আইনের শাসনে নাগরিকেরা যে-কোনও ক্ষমতাশালী ব্যক্তি ও সরকারি আমলার বিরুদ্ধে সুবিচারের দাবিতে অভিযােগ দায়ের করতে পারেন, যদি অভিযুক্তেরা আইন ভেঙে কিছু না করে থাকেন।

অবশ্য আইন সবার উপরে একথা যে-কোনও সংবিধানই ঘােষণা করে থাকুক, তার সার্থক রূপায়ণ নির্ভর করে সর্বস্তরের নাগরিকের উপর। সেজন্যে চাই বিচারালয়ের স্বাধীনতা, বিশেষ করে যদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও আইন প্রয়ােগের প্রয়ােজন ঘটে। অবশ্য ক্ষমতার পৃথকীকরণের উপর সেটা নির্ভর করে। সব কিছু সত্ত্বেও শেষাবধি সেই রাষ্ট্রই বিচারপতি নিয়ােগ ও ছাঁটাই-এর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। আর রাষ্ট্রই আইন প্রণয়ন ও সংশােধন করে।

দেশের স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়ে গেলে, আইন ও শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে, সন্ত্রাসবাদীদের দাপট দেখা দিলে আইনের শাসন আর থাকে না। সেজন্যে প্রতিষেধক কিছু আইন বিধিবদ্ধ হয়। তাতে স্বভাবতই সন্ত্রাসবাদী ও অনুরূপ আসামিদের দমনের সময়ে মৌলিক অধিকার বিঘ্নিত হয়, তাতে তথাকথিত আইনের শাসনের সায় থাকে। সেজন্যে কি ব্যক্তিমানুষ, কি সরকার সকলকেই আইনের প্রক্রিয়ার উপর আনুগত্য রক্ষা করতে হবে। একই আইনের প্রয়ােগ-পরিধির মধ্যে সকলের থাকা চাই। আইনসভা ও কার্যনিবাহি সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচারালয়ের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতার বিষয়কে যথােচিত গুরুত্বদান করা প্রয়ােজন। ব্যক্তিকে টমাস হবস কল্পিত লেভিয়াথানরূপী রাষ্ট্রদানবের কবল থেকে বাঁচানাের দায়িত্ব হলো বিচারালয়ের।

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৩০-৩১।

আরো পড়ুন

অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *