আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > জ্ঞানকোষ > অছিবাদ গান্ধীর প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা

অছিবাদ গান্ধীর প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা

প্রতিক্রিয়াশীল গণশত্রু মোহনদাস গান্ধীর ভুল-আর্থনীতিক চিন্তার মূলকথা; এবং পশ্চিমি পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রবাদের বিকল্প হিসাবে বিবেচিত। ১৯৪৩ খ্রি. আগা খাঁর প্রাসাদে গান্ধী যখন বন্দি ছিলেন সে সময়ে অছিবাদের খসড়া প্রস্তুত হয়। গান্ধীজির জীবনীকার প্যারেলাল তাঁর ‘লাস্ট ফেজ’ নামক গ্রন্থে নিম্নলিখিত মর্মে সেটি উল্লেখ করেছেন:

১. বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজকে কল্যাণকারী সমাজে (Equalitarian Society) রূপান্তরিত করার উপায় হচ্ছে ট্রাস্টিশিপ, যা পুঁজিবাদকে প্রশ্রয়দান করে, কিন্তু বর্তমান মালিক শ্রেণীকে নিজেদের সংশােধন করে নেওয়ার সুযােগ দেয়। ট্রাস্টিশিপ এই বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত যে মানুষের স্বভাব সংশােধনের অতীত নয়।

২. সমাজের কল্যাণের জন্য ও সমাজের বিনানুমতিতে ট্রাস্টিশিপ সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার স্বীকার করে না।

৩. সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও ব্যক্তিগত ব্যবহার আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করা ট্রাস্টিশিপে নিষিদ্ধ নয়।

৪. এইভাবে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ট্রাস্টিশিপে কেউ তাঁর ধন-সম্পত্তি স্বার্থপরের মতাে অথবা সমাজের হিত অবজ্ঞা করে ভােগ-দখল করতে পারবেন না।

৫. ট্রাস্টিশিপে একদিকে যেমন জীবনধারণের উপযােগী পারিশ্রমিকের এক শােভন নিম্নতম হার (decent minimum living wages) স্থির করে দেওয়ার কথা বলা হয়, তেমনি অন্যদিকে সমাজের কোনও এক ব্যক্তিকে অধিকতম কত আয় করতে দেওয়া হবে তারও সীমা স্থির করে দেওয়া উচিত বলে ট্রাস্টিশিপ মনে করে। সেই নিম্নতম ও উচ্চতম আয়ের ব্যবধান যুক্তিযুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া চাই। উপরন্তু মধ্যে মধ্যে এই নিম্নতম ও উচ্চতম আয়ের সীমার পরিবর্তন হওয়া প্রয়ােজন যার ফলে ওই বাবধান ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে।

৬. গান্ধী-নির্দেশিত অর্থনীতিক ব্যবস্থায় কী প্রকারের উৎপাদন করতে হবে তা সমাজের প্রয়ােজন অনুসারে নিধারিত হবে। তার মধ্যে ব্যক্তিগত খামখেয়াল বা লােভের কোনও স্থান থাকবে না।

এক কথায় গান্ধীর এসব ভুয়োদর্শন তার সামন্তবাদী-পুঁজিবাদী মতাদর্শকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। জনগণের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু গান্ধী জনগণের বৈপ্লবিক সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির শত্রু।

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ১৩।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top