Main Menu

আওরঙ্গজেবের শাসনামলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

আওরঙ্গজেবের রাজত্বকাল

শাহ জাহানের চার ছেলের রাজ্য শাসনের জন্য  চলে দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে যে রেষারেষি চলে তার অবসান ঘটিয়ে  সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে বিজয়ী হন আওরঙ্গজেব। এই লড়ায়ে প্রচুর সাহায্য যোগান মীর জুমলা । কিন্তু সিংহাসনে বসার পর বিশ্বাসঘাতক আওরঙ্গজেব তাড়াতাড়ি মীর জুমলাকে দূরে সরিয়ে দিতে উদ্যোগী হলেন এবং তাঁকে পাঠিয়ে দিলেন বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত করে। কিন্তু সেখানেও মীর জুমলার সক্রিয়তা ও কর্মোদ্যোগ অব্যাহত রইল। প্রতিবেশী অহোম (বর্তমান আসামের অন্তর্ভুক্তরাজ্য)  জয় করে নিলেন তিনি। তবে মীর জুমলার মত্যুর পর আসামের জনসাধারণ অস্ত্র-হাতে বিদ্রোহ করলেন এবং তাঁদের দেশ থেকে বিতাড়িত করলেন থানাদার মোগলবাহিনীগুলিকে।

সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মোগল-সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা

তাঁর দীর্ঘ রাজত্বের আমলে (১৬৫৮ থেকে ১৭০৭ খ্রীস্টাব্দ) আওরঙ্গজেব অনবরত লিপ্ত ছিলেন যুদ্ধ-বিগ্রহে, কখনও উত্তরে কখনও-বা পূর্ব ভারতে সেনাবাহিনী পাঠাতে হচ্ছিল তাঁকে এবং সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হচ্ছিল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিদ্রোহ দমনের কাজে। মোগল সৈন্যের সংখ্যা এই সময়ে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় এক লক্ষ সত্তর হাজার অশ্বারোহী সৈন্যে এবং কয়েক লক্ষ শিবিরের সহযাত্রীতে। তা সত্ত্বেও মোগল-বাহিনীগুলির লড়াইয়ের ক্ষমতা অনবরত হ্রাস পেয়ে চলেছিল। ক্রমশ বেশি বেশি করে আওরঙ্গজেবে বিভিন্ন যুদ্ধে জয়লাভ করছিলেন উৎকোচ-প্রদান ও চক্রান্তের সাহায্যে মোগল-বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর কৃতিত্বের জন্যে নয়। আর এইসব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে তাঁর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হচ্ছিল।

আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে পদস্থ সামরিক কর্মচারি ও বেসামরিক কর্মচারির সংখ্যা তাঁর পিতার আমলের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ওই সময়ে অভাব ঘটছিল ‘জায়গির’ হিসেবে বিলি করার মতো যথেষ্ট পরিমাণ জমিরও। রাজকোষের তরফ থেকে তখন নানা ধরনের বহুসংখ্যক অতিরিক্ত কর দাবি করা হচ্ছিল বলে ‘জায়গিরদার’দের আয়ও গুরতররকমে হ্রাস পেয়েছিল। তাছাড়া অনবরত যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগে থাকায় বহু ‘জায়গিরদার’ সে কারণেও নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। ফলে তাঁদের পক্ষে তখন আর মোগল-দরবারের বিধিবদ্ধ নিদিষ্টসংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্য পোষণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। অনেক সময় পরপর কয়েক বছর ধরেই এই সমস্ত সৈন্যদল বেতন পেত না, আর সে-সময়টায় তারা জীবনধারণ করত প্রধানত বে-সামরিক জনসাধারণের ধনসম্পত্তি লুণ্ঠন করে। অন্যদিকে আবার আগের চেয়ে অনেক বেশি করে ‘জায়গির’গুলি পিতা থেকে পুত্রে, অর্থাৎ বংশ পরম্পরায় বর্তাচ্ছিল, যদিও এমন কি অষ্টাদশ শতকেও ‘জায়গির’গুলিকে সরকারিভাবে গণ্য করা হতো রাজসেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত শতাধীন দান হিসেবে। সরকারি নিয়মে আগের মতোই ‘জায়গিরদার’এর অধীনস্থ জমি তাঁর মত্যুর পর আবার রাজকোষের সম্পত্তিতে পরিণত হতো এবং চূড়ান্ত হিসাবনিকাশ করতে ও সিদ্ধান্ত নিতে পারত রাজকোষই। তবে এই প্রক্রিয়াটি অনেক সময় বহু বছর ধরে চলত এবং এ কারণে ‘জায়গিরদার’রা রাজকোষের কাছে প্রার্থনা জানাতেন যে তাঁদের ‘জায়গির’এর পরিবর্তে বেতন দেয়া হোক অর্থমূল্যে। কিন্তু আওরঙ্গজেবের আমলে মোগল-সরকার সর্বদা এই প্রার্থনা অগ্রাহ্য করতেন।

চেন্নাইয়ের সেন্ট জর্জ দুর্গ, ১৭০২ সালে দাউদ খান ব্রিটিশদের এই দুর্গ অবরোধ করেন

যাই হোক, পরিস্থিতি এইরকম দাঁড়ানোয় — অর্থাৎ সরকারের তহবিলে প্রয়োজনীয় অর্থ-সম্পদের অভাব ঘটায়, ‘জায়গিরদার’রা তাঁদের আয়ের অধিকাংশ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এবং সেনাবাহিনী দীর্ঘকাল ধরে ঠিকমতো বেতন না পাওয়ায় সরকার, ‘জায়গিরদার ও সৈন্যরা সকলেই মন দিলেন প্রধানত কৃষকদের ঘাড় ভেঙেই নিজেদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে। আকবরের আমলে যেখানে সাধারণভাবে ভূমি-রাজস্ব নিদিষ্ট ছিল উৎপন্ন ফসলের এক-তৃতীয়াংশে সেখানে অওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে তা বেড়ে দাঁড়াল উৎপন্ন ফসলের অর্ধেকে এবং কার্যক্ষেত্রে ‘রায়ত’দের কাছ থেকে নানাবিধ আদায়ের পরিমাণ ছিলো এর চেয়েও বেশি। আর কৃষকদের ওপরে যত বেশি করে খাজনা ধার্য করা হতে লাগল, খাজনা আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ল তত বেশি করে। সাম্রাজ্যের বহু অঞ্চলে কৃষকদের জমিতে চাষ দেয়ার মতো সামান্য পুঁজিপাটাটুকুও আর ছিল না বলে তাঁরা নিজ পিতৃপিতামহের বাসভূমি গ্রামগুলি ও বংশ-পরশুরায় পাওয়া চাষের জমিগুলি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করলেন। ওই সময়কার ইতিবৃত্তগুলিতে কৃষকদের দারিদ্র্য ও পরিত্যক্ত জনশূন্য গ্রামগুলি সম্বন্ধে বহু অভিযোগ লিপিবদ্ধ আছে।  

এর ফলে সরকারের তরফ থেকে চেষ্টা হলো গ্রামের অবশিষ্ট কৃষকদের কাছ থেকে অন্যান্য কৃষকদেরও বাকি খাজনা আদায় করার এবং ক্রমশ এটা একটা সাধারণ রীতি হয়ে দাঁড়াল যে যাঁরা পালিয়ে গেছেন সেইসব কৃষকেরও বাকি খাজনা যাঁরা গ্রামে আছেন তাঁদের দেয়া। কাজেই সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘরে-ঘরে যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে এতে আর আশ্চর্য কী! বিশেষ করে ১৭০২ থেকে ১৭০৪ খ্রীস্টাব্দে দাক্ষিণাত্যে যে-দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল তা এমন সাংঘাতিক রুপ নিয়েছিল যে সেই দুর্ভিক্ষে কুড়ি লক্ষেরও বেশি লোক মারা যায়। এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতিবিধান একমাত্র সম্ভব ছিল রাজস্বের হার কমানোর মধ্যে দিয়ে, তাহলে যাঁরা জমি চাষ করতেন তাঁরা অন্ততপক্ষে কিছুটা আয় করতে পারতেন কাজ করে। কিন্তু মোগল-সরকার তাঁদের বহু তরো সামরিক অভিযানের খরচখরচা যোগানোর জন্যে অর্থ-সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন বলে রাজস্বের বোঝা লাঘব করায় রাজি ছিলেন না। বরং ব্যাপারটা ঘটছিল উল্টো—কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব ও অন্যান্য কর-আদায়ের দাবিদাওয়া ক্রমশ বাড়িয়েই চলছিলেন সামন্ত ভূস্বামীরা।

কুটিরশিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য

সপ্তদশ শতকে কুটিরশিল্প-কারখানাগুলি ক্রমশ বেড়ে চলেছিল, বিশেষ করে বৃদ্ধি পাচ্ছিল বস্ত্রবয়ন-শিল্প (ইউরোপীয় ও এশিয়া বাজারগুলিতে ভারতীয় বস্ত্রের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্প – যেমন, সুতো কাটা, ছাপা কাপড় বোনা ও কাপড়ে রঙ করা, ইত্যাদি। বড়-বড় গ্রাম ও শহরগুলিতে, বিশেষ করে ইউরোপীয়দের প্রতিষ্ঠিত কারখানাগুলির আশেপাশে, কারিগরদের সংখ্যা ও বসতি বেড়ে চলেছিল। যেমন, উদাহরণস্বরূপ, ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে মাদ্রাজ ক্রমশ হয়ে দাঁড়াল গোটা দক্ষিণ-ভারতের বাণিজ্যকেন্দ্র এবং বস্ত্রবয়ন-শিল্পের হৃৎকেন্দ্র । তখনকার প্রথা-অনুযায়ী শহরগুলির উপকণ্ঠে গড়ে উঠত কারিগরদের বসবাস ও কাজের মহল্লা। তাঁরা যে-সমস্ত শিল্পদ্রব্য তৈরি করতেন তা কিনে নিতেন বণিকদের দালালরা, তারপর সেই জিনিসগুলি তাঁরা পাঠিয়ে দিতেন নানা বাণিজ্য-কেন্দ্রে। বড়-বড় একেকটি বাণিজ্যকেন্দ্রকে ঘিরে গড়ে উঠত বেশ কয়েকটি ছোট-ছোট শহর, তারপর সেগুলি মিলেমিশে যেত আর সব মিলিয়ে সেগুলি হয়ে দাঁড়াত যাকে বলে একেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল। বিভিন্ন কারুশিল্পের বিকাশ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলির এই প্রতিষ্ঠার কাজ অবশ্য চলেছিল অসমভাবে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সমুদ্রোপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। সমদ্রোপকূলবতী এই সমস্ত কেন্দ্রের মধ্যে উপকূলবরাবর চলাচলকারী নৌবহর মারফত জোর বাণিজ্য চলত।

বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাণিজ্য-উদ্বৃত্ত ছিল ভারতের পক্ষে অনুকুল, কিন্তু এই লাভের ব্যবসা থেকে যে-অর্থ সম্পদ পাওয়া যেত তা জমা হতো পরভৃৎ অভিজাত-সম্প্রদায়ের হাতে বিলাসদ্রব্যের আকারে কিংবা সিন্দুকে জমা পড়ত তা পুঁজির প্রাথমিক সঞ্চয় হিসেবে গণ্য হত না মোটেই।

ছোট আকারের কুটিরশিল্পের উৎপাদন নির্ভর এই অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে পণ্য-বনাম-মুদ্রা সম্পর্কের উল্লেখ্য বিস্তারের ফলে অবশ্যম্ভাবীরপেই আবির্ভাব ঘটল বণিকদের নিয়োজিত দালালদের, যাঁরা কুটিরশিল্পীদের কাছ থেকে পণ্যসম্ভার কিনে নিতেন এবং যাঁদের ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছিলেন কুটিরশিল্পীরা। এক্ষেত্রে এই শেষোক্তদের শোষণের প্রধান ধরনটা ছিল ফরমায়েশমাফিক ভবিষ্যৎ উৎপাদনের চুক্তিতে আগাম টাকা দাদন দেয়ার রীতি। ইউরোপীয় বাণিজ্যকেন্দ্রগুলিও এই দালালদের কাজে লাগাত। তাঁদের কারুশিল্পীদের ওপর বণিকদের প্রভাব-প্রতিপত্তি এতই বেশি ছিল যে বণিকরা তাঁদের প্রয়োজন ও সুবিধা মতো কখনও-কখনও কারুশিল্পীদের স্থান থেকে স্থানান্তরে সরিয়ে নিয়ে যেতেন পর্যন্ত।

ভারতে কিছু-কিছু অপেক্ষাকৃত ধনী বণিক তখন শাসকশ্রেণীর সঙ্গে মিশে যাচ্ছিলেন। কেবল সামন্ত-ভূস্বামীরা তখন নিজেদের আয়বৃদ্ধির জন্য-যে ব্যবসায়ে লিপ্ত হচ্ছিলেন তা-ই নয়, বণিকরাও ব্যবসায়ে তাঁদের মনাফা বাড়ানোর জন্যে যথেষ্ট উৎসাহিত ছিলেন সামন্ততান্ত্রিক শোষণের নানা ফন্দিফিকির অবলম্বন করতে। ধনী বণিকরা কখনও-কখনও সশস্ত্র সেনাবাহিনী পোষণ করতেন ও ‘জায়গিরদার’ পর্ষন্ত বনে যেতেন, অপরদিকে ‘জায়গিরদার’দের মালিকানাধীনে প্রায়ই দেখা যেত বাণিজ্যপোত-বহর, বাজারের দোকানপাট, উটের ক্যারাভান ও পান্থশাল ব্যবসা-বাণিজ্যে সক্রিয় অংশ নিতেন এইসব জায়গিরদার। দেশে উৎপন্ন সবচেয়ে মূল্যবান পণ্যদ্রব্যগুলির বেলায় কখনও-কখনও এইমর্মে ঘোষণা করা হতো যে এগুলিতে একমাত্র ‘পাতশাহ’এরই একচেটিয়া মালিকানা আছে। তখন এগুলি কেনা বা বেচার জন্যে অন্যদের পক্ষে ‘পাতশাহের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন পড়ত।

সপ্তদশ শতকের শেষদিকে কেন্দ্রীয় মোগল-প্রশাসনের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ছিল ক্রমশ। সেই সময়ে সামন্ত-রাজকর্মচারি ও ভূস্বামীরা তাঁদের নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির মানসে কারুশিল্পী ও বণিকদের ওপর অতিরিক্ত নানা করের বোঝা চাপাতে থাকেন এবং প্রায়শ কিছু-কিছু পণ্যদ্রব্যের একচেটিয়া মালিক বনে গিয়ে ওই সম্প্রদায়-দুটির পক্ষে যত রকমের সম্ভব বাধা ও অসুবিধার সৃষ্টি করতে লেগে যান। তদুপরি মোগল-সাম্রাজ্যের আমলে অধিকাংশ কার শিল্পী ও বণিক হিন্দু-সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন বলে আওরঙ্গজেবের রাজত্বে তাঁরা ছিলেন ধর্মীয় উৎপীড়নের শিকার এবং অ-মুসলমানদের ওপর ধার্য করা অতিরিক্ত মাথট-খাজনার (বা জিজিয়া) ভারে জর্জরিত। এ কারণেও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ও বিরূপতরি অন্ত ছিল না।

তথ্যসূত্র:

১. কোকা আন্তোনভা, গ্রিগরি বোনগার্দ-লেভিন, গ্রিগোরি কতোভস্কি; অনুবাদক মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়; ভারতবর্ষের ইতিহাস, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, প্রথম সংস্করণ ১৯৮২, পৃষ্ঠা, ৩৪৭-৩৫১।

আরো পড়ুন

জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন।

তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে । বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *