Main Menu

মোগল আমলে গুজরাটের অর্থনৈতিক অবস্থা

মোগল-সাম্রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত এলাকা ও সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের কেন্দ্র ছিল গুজরাট। অপুর্ব চমৎকার নানা ধরনের কাপড় বোনা হতো সেখানে, নীলের চাষ হতো, মূল্যবান রক্তিমাভ ক্যরনীলিআন পাথরের নানা হাতে তৈরি জিনিস প্রস্তুত হতো আর তৈরি হতো আলঙ্কারিক নানা অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি। অঞ্চলটির অভ্যন্তর প্রদেশেও ব্যবসা-বাণিজ্য সু-বিকশিত ছিল এবং বেশির ভাগ শহরে ও বড়-বড় গ্রামে দৈনিক যে-বাজার বসত সেখানে বিক্রি হতো কৃষিজাত দ্রব্য ও কারিগরি শিল্পকাজ। ওই আমলে এর চেয়ে আরও গুরত্বপূর্ণ ছিল গুজরাটের বৈদেশিক বাণিজ্য। সুরাট ছিল তখন ভারতের সর্ববৃহৎ বন্দর। এখান থেকে বাণিজ্য-জাহাজগুলি পণ্যদ্রব্যে বোঝাই হয়ে যাত্রা করত, তারা যেত পারস্য-উপসাগর ও আরবসাগরের বন্দরগুলিতে। এছাড়া ভারতের গোটা পশ্চিম-সমুদ্রোপকূল বরাবর চলত উপকূলবত বাণিজ্য। স্বভাবতই এর ফলে গুজরাটে গড়ে উঠেছিল মুসলমান ও হিন্দু, উভয় সম্প্রদায়েরই বড়-বড় বণিক-গোষ্ঠী।

‘মুসলিম খাজা’ ও ‘বোহরা’ এবং হিন্দু ‘বঞ্জারা’ ইত্যাদি বণিকদের সুনির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়গুলি ছাড়াও তৎকালীন আকর-উপাদানে উল্লেখ পাওয়া যায় হিন্দু বণিকদের উদ্দেশ্যে সাধারণভাবে ব্যবহৃত ‘বানিয়া’ বা ‘বাক্কাল’ শব্দদুটি। গুজরাটের কিছু-কিছু, বণিক তখন অত্যন্ত ধনী ও প্রতিপত্তিশালী ছিলেন। সুরাটের বণিক ভিরজি ভোরা (বা বোহরা)-কে তাঁর সমকালবর্তীরা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বলে মনে করতেন। তিনি বাণিজ্য-দপ্তর খুলেছিলেন আহমদাবাদ, আগ্রা, বুরহানপুর ও পরে এমন কি গোলকোল্ডাতেও, তবে তাঁর ক্ষমতার আসল উৎস ছিল গুজরাটের সঙ্গে মালাবারের গোটা বাণিজ্য-ব্যবস্থার ওপর কার্যত তাঁর একচেটিয়া কর্তৃত্ব। সুরাটের সকল বণিককেই ভিরজি ভোরার ইচ্ছা অনিচ্ছা মেনে চলতে হতো এবং তিনিই নির্দিষ্ট করে দিতেন বিদেশ থেকে আমদানি-করা পণ্য দ্রব্যের দাম।

ভারতের সঙ্গে ব্রিটিশ ও ওলন্দাজদের বাণিজ্যের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় সুরাট। ওই সময়ে ইউরোপীয় বণিকরা সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্র থেকে ভারতীয় বণিকদের ক্রমশ উৎখাত করে চলেছিলেন। দেশের সামন্ত-ভূস্বামীদের ও ‘পাতশাহ’-এর জারি-করা নানা বিধিনিষেধ এড়াতে ইউরোপীয়রা পালাক্রমে উৎকোচ ও হুমকি দিয়ে চলতেন এবং এইভাবে ক্রমশ তাঁরা ভারতীয় বণিকদের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিজেদের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করে তুললেন।

ভারতীয় বণিকদের মধ্যে যাঁরা ছিলেন বেশি ক্ষমতাশালী তাঁরা শুরু করলেন বাণিজ্যের ব্যাপারে ইউরোপীয়দের সঙ্গে সহযোগিতা করতে এবং ইউরোপীয় বণিকদের ব্যবসায়ে অংশীদার বনে গিয়ে ইউরোপীয়দের পৃষ্ঠপোষকতা পেতে লাগলেন। এইভাবে গুজরাটে গড়ে ওঠে বেনিয়ান বণিকদের (অর্থাৎ যাঁরা বিদেশী বণিকদের অংশীদার বা দালাল হিসেবে কাজ করতেন। একটি গোষ্ঠী  সামন্তভূস্বামীরাও (এমন কি ‘পাতশাহ’-এর পরিবারের লোকজনও সমুদ্রপথে বাণিজ্য করার ব্যাপারে সক্রিয় অংশ নিতে লাগলেন— জাহাজগুলির সাজসরঞ্জাম যুগিয়ে এবং ইউরোপীয়দের কাছে বড়-বড় জাহাজ ভর্তি ভারতীয় পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে।

তথ্যসূত্র:

১. কোকা আন্তোনভা, গ্রিগরি বোনগার্দ-লেভিন, গ্রিগোরি কতোভস্কি; অনুবাদক মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়; ভারতবর্ষের ইতিহাস, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, প্রথম সংস্করণ ১৯৮২, পৃষ্ঠা, ৩৩৯-৩৪০।

আরো পড়ুন

জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন।

তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে । বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *