You cannot copy content of this page
আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > ইতিহাস > খুদাই খিদমতগর ছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে চালিত একটি অহিংস আন্দোলন

খুদাই খিদমতগর ছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে চালিত একটি অহিংস আন্দোলন

খুদাই খিদমতগর বা খোদার খেদমতকারী (পশতু ভাষায়: خدايي خدمتگار‎; literally “servants of God”) ছিলো ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের পশতুন জনগণের দ্বারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে একটি পশতুন অহিংস আন্দোলন। অবিভক্ত ভারতে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে, বর্তমানে পাকিস্তানে, খান আবদুল গাফফার খানের নেতৃত্বে ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠিত একটি মুসলিম রাজনৈতিক সংগঠন, যেটি সর্বভারতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে জাতীয় কংগ্রেসকে সমর্থন করত। শুরুতে এটি একটি স্থানীয় যুব সংগঠন হিসেবে তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন আফগান উপজাতির জির্গাগুলির ভিত্তিতে গঠিত সেই সংগঠনের লক্ষ্য ছিল গদিচ্যুত আফগান রাজা আমানুল্লার পুনর্বাসন।

১৯২৯ সালের এক সরকারি রিপাের্টে বলা হয় যে, আবদুল গফুর খাঁ শ্রমিক স্বার্থে একটি সংস্থা গঠন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্সিয়াল ইউথ লিগ (আঞ্জুমান-ই-নওযােয়ান-ই-সরহাদ) স্থাপন করেন। খুদাই খিদমতগার একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে পরিণত হয়। সেটি যুব লিগের অঙ্গ হিসেবে কাজ করত। প্রদেশবাসীর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ছিল প্রধান লক্ষ্য। অনতিকালের মধ্যে লিগ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়। নভেম্বরে কোহাটে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে কংগ্রেসের আদর্শ লিগের আদর্শ বলে ঘােষিত হয়।

তদানীন্তন ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী গণহত্যাকারী ইংরেজ সরকার লিগকে একটি কমিউনিস্ট দল হিসেবে দেখত। তার সম্ভাব্য কারণ ছিল খুদাই খিদমতগারের ‘রেড শার্ট’ নামে পরিচিতি। ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের আংশিক আদর্শ থাকলেও খুদাই খিদমতগার রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে প্রাধান্য লাভ করে। সেটি আবদুল গফুর খাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেসের সঙ্গে সমতালে গান্ধীর আইন অমান্য আন্দোলনে যােগ দেয়। গফুর খাঁ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে গ্রেপ্তার হন। খুদাই খিদমতগারের ক্রিয়াকলাপ অব্যাহত থাকে। মে মাসে সরকার সেটিকে ফৌজদারি আইনে নিষিদ্ধ ঘােষণা করে।

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৮৮-৯০।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১০টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top