ব্যর্থ রাষ্ট্রের মর্ম প্রসঙ্গে

"রাষ্ট্র হলো একটি শ্রেণীর হাতে অপর শ্রেণীর ওপর আধিপত্য কায়েম করার যন্ত্র, অধীনস্থ শ্রেণীগুলোকে আনুগত্যের বন্ধনে রাখার হাতিয়ার।"[১] লেনিন এই যে রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন যা এমনই এক সত্যকে ধারণ করছে যাকে কেবল কুসংস্কারাচ্ছন্ন বুর্জোয়া মূর্খরাই বিরোধীতা করে। এঙ্গেলসের ধ্রুপদী বই 'পরিবার ব্যক্তিগত মালিকানা এবং রাষ্ট্রের উৎপত্তি' আর লেনিনের বই 'রাষ্ট্র ও

মানসিক ও দৈহিক শ্রমের মধ্যেকার বিরোধ প্রসঙ্গে

শ্রমের বিভাগ কথাটি আজ অত্যান্ত সুপরিচিত। শ্রমের ক্ষেত্রে মানসিক ও দৈহিক শ্রমের বিভাগটিও পরিচিত। কিন্তু সভ্যতার আদিতে শ্রমের কোনোরূপ বিভাগই ছিল না। অনুন্নত অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সমস্ত শ্রমই করতে হতো। কিন্তু প্রকৃতিকে অধিকতর পরিমাণে বশ করার প্রয়োজনে মানুষ একদিন শ্রম বিভাগের আবশ্যকতা বোধ করল। দৈহিক শ্রমের ক্ষেত্রে

দশ আঙ্গুলের স্পর্শে একটি প্রত্যাশিত দিন

তারা জানেনা জন্ম নেওয়ার পড়ে তাদের কি পরিচয় হবে,/ শুধু জেনেছে দুঃখ-কষ্ট, ক্ষুধা-দারিদ্র, যুদ্ধ-দখল দেখতে হবে,/ তাদের জীবিত দিনগুলো কি তারুণ্যে কাটবে?/ নাকি আঘাত আর যন্ত্রণায় কাটবে?/ যাই ঘটুক না কেনো শুধু জানে একটি ঘুর্ণায়মান চাকা চালু হবে,/ তাই আপনারা হাতে নরম কাদা নিন, তারপরে সেটা চাকা উপর রাখুন। আরো পড়ুন

ইচ্ছেদের চাষাবাদ করব বলে যুগল পথ চলা

শহরের রাস্তাটা খুঁড়ছে, তা দেখতে দেখতে/ স্টেশনের যাচ্ছি তুমি আসবে জেনে।/ আমার কাছে আজকের দিনটি প্রত্যাশিত,/ মনের নানা খাল-খন্দর ভরাট করতে আমরা পাশাপাশি বসব,/ হকারের গুছানো ঝুড়ি, নানা কিছিমের ভিখারি,/ যাত্রীর আসা যাওয়া, মাছিদের উন্মুক্ত পাখা; আরো পড়ুন

নারীর মর্যাদা, নারীর লড়াই এবং নারীমুক্তি প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের উচ্চবিত্ত নারীরা কথা বলতে শিখেছে, তারা আর অবলা নয়। তারা টিশার্ট পরে লোকাল বাসে উঠে চোখে সানগ্লাস পরে পোজ দেয়। যদি বলা হয়, একটু মিছিলে চলেন তবে এসব নারীর ভড়ং কোথায় উবে যাবে। নারী মুক্তির লড়াইটি নিশ্চয় টিশার্ট আর চোখে সানগ্লাস পরে পোজ দেয়ার লড়াই ছিলো না আমাদের পূর্বসুরীদের কাছে। আরো পড়ুন

সৈয়দ মুজতবা আলী বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ রম্য রচয়িতা

সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন শ্রীহট্ট জেলার (বর্তমানে সিলেট) করিমগঞ্জে (বর্তমানে ভারতের অন্তর্ভুক্ত)। পিতা–খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দর আলী, মাতা-আমতুল মন্নান খাতুন। পিতা সিকান্দর আলী ডাক বিভাগে ‘পেইড এপ্রেন্টিস’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতাবলে স্পেশাল সাব রেজিস্ট্রারের পদ লাভ করেন। সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন পিতামাতার তৃতীয় সন্তান। শৈশব কৈশোর থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী, জেদি আর প্রতিভাদীপ্ত। আরো পড়ুন

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বিশ শতকের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও সমালোচক

কথাশিল্পী নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়র প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯১৮ সালের ০৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বালিয়াডাঙ্গিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতৃভূমি বরিশালের বাসুদেবপুরের নলচিরায়। ছেলেবেলায় তাঁর ডাক নাম ‘নাড়’। সুনন্দ’ তাঁর ছদ্মনাম। বাবা প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন পুলিশের দারোগা। মা বিন্ধ্যবাসিনী দেবী। বাবা-মায়ের অষ্টম সন্তান তিনি। তাঁর দুই অগ্রজ শিশু বয়সেই মারা যায়। বাকি আট ভাইবোন হলেন সতীরানী, নিখিলনাথ, ননীবালা, পুঁটুরানী, শেখরনাথ, তারকনাথ (নারায়ণ), বীণা ও কমলা। আরো পড়ুন

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বপুরুষের আদিনিবাস ছিল পশ্চিম চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার পানিতর গ্রামে। তাঁর পিতামহ তারিণীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় পিতৃগ্রাম পরিত্যাগ করে স্থায়ীভাবে চলে আসেন অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলার বারাকপুর গ্রামে। বর্তমানে এই বারাকপুর গ্রাম পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। ইছামতী-লালিত সবুজ-সমৃদ্ধ গ্রাম বারাকপুর। লোকে বলে চালকি-বারাকপুর। চালকি পাশের গ্রাম। কলকাতার উপকণ্ঠে অবস্থিত ব্যারাকপুর থেকে আলাদা করে বোঝানোর জন্যেই এই নামকরণ—চালকি-বারাকপুর। তারিণীচরণের শ্বশুরবাড়ির সূত্রে কিছু আত্মীয়-স্বজন এই গ্রামের আশপাশে ছড়িয়ে ছিলেন। গ্রামগুলো হলো সাইলেপাড়া, শিমুলিয়া, শিলহাটি, মোল্লাহাটি, সুন্দরপুর, মাধবপুর, দুর্গাপুর, নিশ্চিন্দিপুর ইত্যাদি। আরো পড়ুন

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক

একটি উদার এবং রুচিশীল পারিবারিক পরিমণ্ডলের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকারী ছিলেন শিল্পী বনফুল। তার পিতামহ কেদারনাথ ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ এবং তান্ত্রিক কালীসাধক। বনফুলের পিতা সত্যচরণ মুখোপাধ্যায়ের জীবনের প্রাথমিক পর্যায় খুব একটা মসৃণ ছিল না। বাল্যকালেই মাতৃহীন হয়ে মামা-বাড়িতে মানুষ হন তিনি। ফলে জীবনকে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে শেষপর্যন্ত চিকিৎসক হিসেবে তিনি কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হন। সত্যচরণ মুখোপাধ্যায় ছিলেন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। আরো পড়ুন

ময়মনসিংহে অবরুদ্ধ সময়ের কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে পঠিত বিবৃতি

ভারতের শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতিসত্তাসহ শোষিত নির্যাতিত অপমানিত বঞ্চিত মানুষের সার্বিক মুক্তির সংগ্রামে যে সকল কবি লেখক আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকরা নিরলস সংগ্রাম ও সংগঠন করে আসছেন—বর্তমান ভারতের ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদী সরকার তাদের দমনে এক রাষ্ট্রীয় অভিযানে নেমেছে। গত ২৮ আগস্ট ভারতের হায়দ্রাবাদ, মুম্বাই, পুনা, দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে আরো পড়ুন

Top